রাউন্ড অব ৩২-এর অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই দেশ ২০১০ আসরের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং ১৯৫৪ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া লড়াকু অস্ট্রিয়া। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে রাউন্ড অব ৩২-এর অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই দেশ ২০১০ আসরের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং ১৯৫৪ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া লড়াকু অস্ট্রিয়া।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ২ জুলাই দিবাগত রাত ১টায় সরাসরি বিদায়ের এই মঞ্চে মাঠে নামবে দু’দল। একদিকে স্পেনের শৈল্পিক পাসিং ফুটবল ‘লা রোজা’, অন্যদিকে রালফ রাংনিকের হাই-প্রেসিং ও সুশৃঙ্খল ‘দ্য টিম’।
দুই দলের শক্তির সমীকরণ ও সাম্প্রতিক ফর্ম
লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে থাকা স্পেন টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেভারিট হিসেবে নকআউটে পা রেখেছে। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র দিয়ে আসর শুরু করলেও, দ্রুতই নিজেদের চেনা ছন্দে ফেরে তারা। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর, শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আমেরিকার জায়ান্ট উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে লা রোজা। আসরে এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেনি স্প্যানিশ রক্ষণভাগ। ইনজুরি কাটিয়ে লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসরা পূর্ণ ফিটনেসের দিকে এগিয়ে চলায় স্পেনের আক্রমণভাগ আরও ধারালো হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মিকেল ওয়ারজাবাল চলতি টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন, যিনি স্পেনের ৫টি গোলের ৩টিতেই সরাসরি অবদান (২ গোল, ১ অ্যাসিস্ট) রেখেছেন।
বিপরীতে, রালফ রাংনিকের অস্ট্রিয়া গ্রুপ পর্বে কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে। জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে মিশন শুরু করলেও, শক্তিশালী আর্জেন্টিনার কাছে ২-০ গোলে হার মানতে হয় তাদের। তবে শেষ ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে নাটকীয় এক ড্র (৩-৩) তাদের দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে। প্রথমার্ধের চেয়ে দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়ার আক্রমণের ধার অনেক বাড়ে, যা স্পেনের রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
হেড-টু-হেড ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ইতিহাস এবং পরিসংখ্যানের পাতায় স্পেনের পাল্লাই ভারী। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দল ১৬ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। স্পেনের জয় ৯ ম্যাচে, অস্ট্রিয়ার জয় ৪ ম্যাচে। ড্র ৩ ম্যাচে।
তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের অতীত ইতিহাস কিন্তু ভিন্ন গল্প বলছে। বিশ্বকাপে এই দুটি দেশ মাত্র একবারই পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিলÑ সেটি ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে। সেবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল অস্ট্রিয়া। ৪৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই হারের মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ স্পেনের সামনে, আর অস্ট্রিয়ার লক্ষ্য সেই ঐতিহাসিক জয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটানো।ক
কৌশলগত যুদ্ধ ও ভবিষ্যদ্বাণী
কাগজে-কলমে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বর দল স্পেন এই ম্যাচের স্পষ্ট ফেভারিট। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে বল পজেশন ধরে রাখা এবং উইং দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙাই হবে ফুয়েন্তের মূল অস্ত্র। তবে ২৪ নম্বর র্যাঙ্কিংধারী অস্ট্রিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। রালফ রাংনিকের ‘গেগেনপ্রেসিং’ কৌশল যেকোনো বড় দলের ছন্দ বিগড়ে দিতে পারে।
নকআউট পর্বের এই মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে যে দল মাঝমাঠের দখল ধরে রাখতে পারবে এবং সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারবে, তারাই শেষ ষোলোর টিকিট কাটবে। এই ম্যাচের জয়ী দল শেষ ১৬-তে মুখোমুখি হবে পর্তুগাল অথবা ক্রোয়েশিয়ার। সব মিলিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে ফুটবলপ্রেমীরা আরও একটি ক্ল্যাসিক থ্রিলার উপভোগ করতে যাচ্ছেনÑ তা বলাই বাহুল্য।