প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর বিপক্ষে দলের দ্বিতীয় গোল করার পর উদযাপন করছেন ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড হ্যারি কেন। ছবি: এএফপি
হ্যারি কেনের জোড়া গোলের সুবাদে ডিআর কঙ্গোকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলো বা প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে ইংল্যান্ড। আটালান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জে বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে প্রথমে পিছিয়ে পড়ে ২-১ গোলে জয় পায় সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো। আগামী ৫ জুলাই মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের প্রথম হাসি হেসেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরাই। সংগঠিত আক্রমণ এবং দ্রুত ট্রানজিশনের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগে বারবার চাপ সৃষ্টি করে কঙ্গো। সেই চাপ থেকেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল, যা ম্যাচের গতি পুরোপুরি বদলে দেয়।
ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে দেওয়া গোলটি করেন ব্রায়ান সিপেঙ্গা। ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে দারুণ এক ডানপায়ের শটে বল জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র সাত মিনিট।
গোল হজম করার পর ইংল্যান্ড স্বভাবতই আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। বলের দখলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে তারা একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলে। মিডফিল্ড থেকে দ্রুত বল সরবরাহ এবং উইং ব্যবহার করে কঙ্গোর ডিফেন্সে ফাঁক খোঁজার চেষ্টা করে থ্রি লায়ন্স।
ইংল্যান্ড প্রথমার্ধে গোল শোধের একাধিক সোনালি সুযোগও পেয়েছিল। কিন্তু কখনও শেষ মুহূর্তের ফিনিশিং ব্যর্থতা, কখনও কঙ্গোর রক্ষণভাগের দৃঢ়তা, আবার কখনও গোলরক্ষকের অসাধারণ সেভÑ সব মিলিয়ে সমতায় ফিরতে পারেনি ইউরোপের দলটি। বারবার তাদের আক্রমণের সামনে কঙ্গো গোলরক্ষক বাধা হয়ে দাঁড়ান। বিশেষ করে বক্সের ভেতরে কয়েকটি পরিষ্কার সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় হতাশ হতে হয়েছে ইংলিশ সমর্থকদের। আক্রমণে গতি থাকলেও শেষ স্পর্শে প্রয়োজনীয় নিখুঁততা দেখাতে পারেনি তারা। ইংল্যান্ডের আক্রমণের সামনে কঙ্গোর গোলরক্ষক লাওনেল এম্পাসি দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ভাগ্যেরও সহায়তা পেয়েছেন। তার হাতে-পায়ে লেগে বল ফিরেছে। আর হতাশ হতে হয়েছে ইংল্যান্ড সমর্থকদের।
বিরতির পর শুরুতেও ইংল্যান্ডের চেষ্টার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ান এম্পাসি। ৫৪ মিনিটে আবারও দুর্দান্ত এক সেভে ইংল্যান্ডকে গোল পেতে দেননি এম্পাসি। জুড বেলিংহামের শট কঙ্গোর এক খেলোয়াড়ের শরীরে লেগে দিক পরিবর্তন করে ঢুকে যাচ্ছিল জালে। এম্পাসি দুর্দান্তভাবেই ঠেকিয়ে দেন বলটাকে।
অবশেষে ৭৪ মিনিটে ইংল্যান্ড ম্যাচে ফেরে। অবশেষে পরাভূত এম্পাসি। অ্যান্থনি গর্ডনের কাছ থেকে বল পেয়ে দারুণ হেডে গোল করেন হ্যারি কেন। তার হেড থামানের চেষ্টা করেছিলেন এম্পাসি। হাতও বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু বল তার হাত স্পর্শ করে জালে আছড়ে পড়ে। বিশ্বকাপে এটা হ্যারি কেনের চতুর্থ গোল। ১১ মিনিট পর ৮৫ মিনিটে কেন পেয়ে যান এবারের বিশ্বকাপে তার পঞ্চম গোল। দারুণ এক শটে কঙ্গোর জাল কাঁপিয়ে দেন তিনি।
জোড়া গোলের সুবাদে গোলদাতার লড়াইয়ে শামিল হলেন ইংলিশ অধিনায়ক। ছয় গোল নিয়ে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে। কেনের পাশাপাশি আর্লিং হালান্ড পাঁচ গোল নিয়ে যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।