সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ফুরফুরে মেজাজে অনুশীলনে ফ্রান্স। ছবি: ডেইলি সাবাহ
‘তাদের হারানোর মতো খুব বেশি দল আছে বলে আমার মনে হয় না। বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষেত্রে তারাই ফেভারিট। তাদের খেলার মান অন্য উচ্চতার’ Ñফ্রান্সকে নিয়ে কথাগুলো বলেছেন সুইডিশ কিংবদন্তি ফক্স স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। চলতি বিশ্বকাপে আকাশে উড়ছে কিলিয়ান এমবাপে-উসমান দেম্বেলের টনিকে উদ্দীপ্ত ফ্রান্স।
গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে ১০ গোল করেছে ফ্রান্স। সব জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েই এসেছে নকআউট পর্বে। চারটি করে গোল করেছেন এমবাপে ও দেম্বেলে। বিপরীতে কোনো রকমে গ্রুপের তৃতীয় স্থান নিয়ে অনেকটা ভাগ্যের ওপর ভর দিয়ে নকআউটে এসেছে সুইডেন। এমনি অবস্থায় আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে সুইডেনের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।
গ্রুপপর্বে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত শুরু করে সুইডেন। কিন্তু পরের ম্যাচেই নেদারল্যান্ডসের কাছে একই ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয় দলটি। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে, তৃতীয় সেরা আটটি দলের একটি হিসেবে নকআউট পর্বের ছাড়পত্র পেয়েছে সুইডেন।
ধারে-ভারে-অর্জনে সুইডিশদের তুলনায় ফরাসিরা অনেক এগিয়ে। সর্বশেষ দু আসরের ফাইনালিস্ট তারা। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের উৎসব করেছে এমবাপেরা। বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে আছে ফ্রান্স। বিপরীতে সুইডেন আছে ৩৬ নম্বরে। মুখোমুখি লড়াইয়েও ঢের এগিয়ে ফরাসিরা। ২৩ ম্যাচে ফ্রান্সের জয় ১২টি আর সুইডেন জিতেছে ৬টি। বাকি ৫ ম্যাচ ড্র।
বাস্তবতা মেনেও ফরাসিদের হারানো অসম্ভব কিছু নয় বলে মনে করছে সুইডিশ শিবির। দলটির সহকারী কোচ সেবাস্তিয়ান লারসন বলেছেন, ‘শক্তিশালী ফরাসিদের হারানো অসম্ভব কিছু নয়। আসলে আমার মনে হয় না, এই ফ্রান্স সম্পর্কে কিছু বলার আছে। তাদের বেশ কয়েকজন দক্ষ খেলোয়াড় আছে। আমাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, তবে আমরা দারুণ মানসিকতা নিয়ে ম্যাচটির অপেক্ষায় আছি।’
ফরাসিদের আক্রমণভাগে আছে ভয়ংকর ত্রিফলা এমবাপে-দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে। এই ত্রয়ীর যেকোনো একজনই তছনছ করে দিতে পারেন বিপক্ষ দলকে। এই তিনজন একসঙ্গে জ্বলে উঠলে প্রতিপক্ষের জন্য কী পরিস্থিতি হবে, তা অনুধাবন করার জন্য প্রয়োজন পড়ে না বিশেষজ্ঞ হওয়ার। এমবাপে গতির ঝড় তুলে এলোমেলো করে দিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ, ফাঁকা জায়গা বের করে গোল করতে ওস্তাদ দেম্বেলে আর নিখুঁত রক্ষণচেরা পাস বাড়িয়ে বিপক্ষ দলকে সাজানো বাগান ধ্বংস করতে লিসের জুড়ি মেলা ভার।
ফরাসি শিবিরের জন্য আপাতত সুসংবাদ দিদিয়ের দেশমের দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া। গত মঙ্গলবার মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে জরুরি ভিত্তিতে ফ্রান্সের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি। তার অনুপস্থিতিতে সহকারী কোচ গায় স্টিফেনের অধীনে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটিতে মাঠে নেমেছিল ফরাসি দল। ওই ম্যাচেও নরওয়েকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ফ্রান্স।
সবকিছু প্রতিকূলে তারপরও সুইডিশরা আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না। তারা প্রেরণা পাচ্ছে ২০১২ সালের ইউরো থেকে। ১৪ বছর আগে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারায় সুইডেন। ওই ম্যাচে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন লারসন। এবার তিনি কোচ। লারসন বলেছেন, ‘দেখা যাবে, আমরা আগেও বড় বড় দলকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছি। এবার সামনে ফ্রান্স হলেও ওই অতীত আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।’