কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের পর্দা নেমেছে। এবার শুরু হচ্ছে নকআউট পর্বের আসল রোমাঞ্চ। ‘শেষ ৩২’ বা রাউন্ড অব ৩২-এর অন্যতম আকর্ষণীয় ও হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকার পরাশক্তি ও আসরের সহ-আয়োজক মেক্সিকো এবং লাতিন আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী দল ইকুয়েডর।
ঐতিহ্যবাহী আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে যে দল হারবে, তাদের বিশ্বকাপের স্বপ্ন সেখানেই শেষ হয়ে যাবে।
নকআউটে যেতে দুই দলের পথচলা
সহ-আয়োজক মেক্সিকো গ্রুপ পর্বে তাদের দুর্দান্ত ফর্ম বজায় রেখে নকআউট পর্বে পা রেখেছে। গ্রুপ ‘এ’-তে দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেকিয়াকে হারিয়ে অপরাজিত থেকে তারা শেষ ৩২ নিশ্চিত করে। অন্যদিকে ইকুয়েডর বেশ কঠিন লড়াই পার করে তাদের গ্রুপ থেকে নকআউটের টিকিট কেটেছে। প্রথম ম্যাচে তারা ইকুয়েডরের কাছে হেরে যায়। দ্বিতীয় ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে কুয়াসাওয়ের সঙ্গে। শেষ ম্যাচে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী সেরা আট দলের একটি হয়ে নকআউট পর্বে যায়।
তবে গ্রুপ পর্বের হিসাব এখন অতীত; নকআউট পর্বের এই একটি ম্যাচই নির্ধারণ করবে কোন দল শেষ ১৬-এর টিকিট পাবে। ঘরের মাঠে মেক্সিকোর ওপর যেমন সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ থাকবে, তেমনি ইকুয়েডরের সামনে থাকবে স্বাগতিকদের স্তব্ধ করে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।
হেড-টু-হেড রেকর্ড
মেক্সিকো এবং ইকুয়েডরের দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানে মেক্সিকো অনেকটাই এগিয়ে। বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে মেক্সিকোর অভিজ্ঞতা এবং চাপের মুখে ম্যাচ বের করে নেওয়ার ক্ষমতা তাদের বাড়তি সুবিধা দেয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইকুয়েডর লাতিন আমেরিকান ফুটবলে এক সমীহ জাগানিয়া দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাদের গতিময় ও শারীরিক ফুটবল যেকোনো বড় দলের রক্ষণভাগ এলোমেলো করে দিতে পারে। ২৮ বারের মোকাবিলায় ১৭টিতেই জিতেছে মেক্সিকো। ৪টিতে জিতেছে ইকুয়েডর। বাকি ৭ ম্যাচ ড্র হয়। বিশ্বকাপে এর আগে দুদল একবারই মুখোমুখি হয়েছে। ২০০২ আসরের সেই ম্যাচে মেক্সিকো ২-১ গোলে জিতেছিল।
দুই দলের শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা
মেক্সিকো
ঘরের মাঠের চেনা কন্ডিশন এবং গ্যালারিভর্তি লাখো সমর্থকের গগনবিদারী সমর্থন মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় শক্তি। রাউল জিমেনেজ এবং হুলিয়ান কুইনোনেসের মতো ইনফর্ম ফরোয়ার্ডরা আক্রমণভাগে দারুণ ছন্দে আছেন। মেক্সিকোর মূল শক্তি তাদের রক্ষণভাগ, যা গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত নিটোল ছিল। তবে নকআউটের অতিরিক্ত চাপ এবং পেনাল্টি শুট-আউটের মতো স্নায়ুক্ষয়ী পরিস্থিতি তাদের জন্য পরীক্ষা হতে পারে।
ইকুয়েডর
পক্ষান্তরে ইকুয়েডরের প্রধান শক্তি তাদের মাঝমাঠের গতি, অদম্য শারীরিক শক্তি এবং কাউন্টার-অ্যাটাক। পিয়েরো হিনকাপি ও ময়েসেস কাইসেদোর মতো ইউরোপীয় ফুটবলে পরীক্ষিত তারকারা দলটির মূল ভরসা। তবে বড় ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মনোযোগ হারানো এবং মেক্সিকোর হাই-প্রেসিং ফুটবলের বিরুদ্ধে খেই হারিয়ে ফেলা তাদের প্রধান দুর্বলতা হতে পারে।
সম্ভাব্য একাদশ
মেক্সিকো (৪-২-৩-১)Ñ গুইলার্মো ওচোয়া, হোর্হে সানচেজ, সিজার মন্তেস, জোহান ভাসকুয়েজ, জেরার্ডো আরতেয়াগা, এডসন আলভারেজ, লুইস চাভেজ, উরিয়েল আন্তুনা, ওর্বেলিন পিনেদা, হুলিয়ান কুইনোনেস এবং রাউল জিমেনেজ।ক
ইকুয়েডর (৪-৩-৩)Ñ আলেকজান্ডার ডমিঙ্গেজ, অ্যাঞ্জেলো প্রিসিয়াডো, ফেলিক্স টরেস, উইলিয়ান পাচো, পিয়েরো হিনকাপি, ময়েসেস কাইসেদো, কার্লোস গ্রুয়েজো, কেনদ্রি পায়েজ, গঞ্জালো প্লাটা, এনের ভ্যালেন্সিয়া এবং জেরেমি সার্মিয়েন্তো।
ম্যাচ প্রেডিকশন
যেহেতু এটি নকআউট পর্বের ম্যাচ, তাই দুই দলই শুরুতে কিছুটা রক্ষণাত্মক এবং সতর্ক ফুটবল খেলার চেষ্টা করবে। ইকুয়েডর তাদের গতি দিয়ে মেক্সিকোর ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা করবে, অন্যদিকে মেক্সিকো চাইবে বল পজেশন ধরে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে। ঘরের মাঠের সুবিধা এবং স্কোয়াড ডেপথ বিবেচনায় মেক্সিকো এই ম্যাচে কিছুটা এগিয়ে থাকবে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচটি ১-১ বা ২-১ ব্যবধানে মেক্সিকোর পক্ষে যেতে পারে, তবে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এখন দেখার বিষয়, এই ম্যাচে ইকুয়েডর জিতে ২০০২ আসরের প্রতিশোধ নেবে, নাকি নিজেদের জয়ের পরিসংখ্যান আরও সমৃদ্ধ করবে স্বাগতিক মেক্সিকো।