গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে আজ জিলেট স্টেডিয়ামে বসছে হাইভোল্টেজ লড়াই। মুখোমুখি ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী শক্তি নেদারল্যান্ডস এবং আফ্রিকার উদীয়মান পরাশক্তি মরক্কো।
শেষ ৩২-এর এই ম্যাচ শুধু পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার লড়াই নয়, এটি দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের সংঘর্ষও। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টায় ম্যাচ শুরু হবে।
‘এফ’ গ্রুপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে উঠেছে নেদারল্যান্ডস। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট পাওয়া ডাচদের শুরুটা হয়েছিল জাপানের বিপক্ষে ২-২ ড্র দিয়ে। পরে টানা জয় এসেছে সুইডেন ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বে ভয়ংকর ছিল তাদের আক্রমণভাগ। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে ১০ গোল করেছে রোনাল্ড কোয়েমানের দল। দ্রুত আক্রমণ, উইং প্লে এবং মুহূর্তে রূপ বদলে ফেলা ট্রানজিশন ডাচদের শিরোপার অন্যতম দাবিদারে পরিণত করেছে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে নেদারল্যান্ডস বহুবার শিরোপার দুয়ারে গিয়ে ফিরেছে। কিন্তু শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি। হাতছোঁয়া দূরত্ব থেকে ফিরে আসতে হয়েছে। ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০ সালে রানার্সআপ হওয়া দলটির লক্ষ্য এবার বহুদিনের আক্ষেপ ঘোচানো।
অন্যদিকে মরক্কোও এসেছে সমান আত্মবিশ্বাস নিয়ে। ‘সি’ গ্রুপে সাত পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে অ্যাটলাস লায়ন্সরা। শীর্ষে থাকা ব্রাজিলের সঙ্গে তাদের ব্যবধান ছিল শুধু গোল ব্যবধানের। টুর্নামেন্টের শুরুতেই ব্রাজিলের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় তারা। পরে স্কটল্যান্ডকে ১-০ এবং হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দাপটের সঙ্গে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয়।
নিশ্ছিদ্র রক্ষণ আর দ্রুত পাল্টা আক্রমণ মরক্কোকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষে পরিণত করেছে। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা দলটি আগেই দেখিয়েছেÑ বড় দলকে চমকে দেওয়ার সামর্থ্য তাদের আছে।
চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন ডেঞ্জেল ডামফ্রিস ও ব্রায়ান ব্রবে। এছাড়া মিকি ফন ডি ফেনের ফেরা ডাচ রক্ষণে আরও ভারসাম্য আনবে। মরক্কোর বড় ভরসা ইসমোয়েল সাইবারি। এবারের বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে তিন গোল করে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন তিনি। আক্রমণে তার সঙ্গে থাকবেন আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজ।
ইতিহাস বলছে, দুই দল মুখোমুখি হয়েছে তিনবার। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে মরক্কোকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। ১৯৯৯ সালের প্রীতি ম্যাচে একই ব্যবধানে জয় পায় মরক্কো। ২০১৭ সালে ডাচরা ২-১ গোলে জিতে সেই হারের প্রতিশোধ নেয়।
তবে অতীতের হিসাব নকআউটের মঞ্চে খুব বেশি গুরুত্ব পায় না। বর্তমান বলছে, দুই দলই দুর্দান্ত ছন্দে। একদিকে আক্রমণে ভয়ংকর নেদারল্যান্ডস, অন্যদিকে সংগঠিত ও মানসিকভাবে দৃঢ় মরক্কো। ফলে জিলেট স্টেডিয়ামের এই লড়াই হতে পারে নকআউট পর্বের অন্যতম সেরা ম্যাচ।
ম্যাচ নিয়ে কোচ রোনাল্ড কোয়েমান বলেছেন, “মরক্কোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তারা অসাধারণ ফুটবল খেলছে।”
অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডিক বলেন, “নকআউট মানেই ভিন্ন চাপ। মরক্কোর বিপক্ষে প্রতিটি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে হবে।”
মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওহাবি বলেন, “নেদারল্যান্ডস বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। কিন্তু আমরা ভয় পাচ্ছি না।”
অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির কণ্ঠেও আত্মবিশ্বাস, “আফ্রিকার কোটি সমর্থক আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা তাদের গর্বিত করতে চাই।”
একদিকে বহু বছরের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় ডাচরা, অন্যদিকে আফ্রিকান ফুটবলের নতুন ইতিহাস লেখার স্বপ্নে মরক্কো। শেষ পর্যন্ত অরেঞ্জ ঝড় বইবে নাকি গর্জে উঠবে অ্যাটলাস লায়ন্সÑ সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।