প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও জাপান। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ব্রাজিলকে জাপান হারাতেও পারে এমন কথা বলেছেন, দেশটির কিংবদন্তির ফরোয়ার্ড ‘সাদা পেলে’ খ্যাত জিকো। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার বিবেচিত জিকোর ভাষায়, ‘অবশ্যই আমি ব্রাজিলকে সমর্থন করব। তবে জাপানও জিততে পারে। এই জাপান দল সত্যিকারের ফুটবল খেলে।’ এবারের জাপান যে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা দল, সেটা সবাই মেনে নিচ্ছেন এক বাক্যে। ব্রাজিলের মতোই গ্রুপ পর্বে অপরাজিত গৌরব নিয়েই শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে তারা। সম্ভবত নকআউট পর্বের শুরুতে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে।
ঐতিহ্যে-গুণে-মানে-ধারে-ভারে ব্রাজিলের অবস্থান যদি হয় আকাশে, তবে জাপান থাকবে মাটিতে। দুদলের সাতবারের দেখায় ব্রাজিলের কাছে ছয়-ছয়বার হেরেছে জাপান। তবে শুধু এটুকু বললে মোটেও সুবিচার করা হবে না জাপানের প্রতি। গত বছরের অক্টোবরে টোকিওতে হওয়া দুদলের সর্বশেষ লড়াইয়ে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারায় জাপান। ফিফা র্যাংকিংয়ে ব্রাজিল অবস্থান করছে ৬ নম্বরে আর জাপান ১৮ নম্বরে। তবে এসব পরিসংখ্যান দিয়ে এই জাপানকে মূল্যায়ন করার বাস্তবতা এখন আর নাই। এমনই অবস্থায় শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে হিউস্টনে আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় এশিয়ার দেশটির সঙ্গে মহাদ্বৈরথে নামবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
আজকের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে সেনসেশন নেইমার খেলবেন কি না, এটাই এখন বড় প্রশ্ন। ইনজুরির সঙ্গে লড়াইরত নেইমার গ্রুপ পর্বে প্রথম দুই ম্যাচ খেলেননি। প্রায় ৯৮১ দিন পর আবারও নেইমার মাঠে নামবেন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচে। ম্যাচটি ব্রাজিল জেতে ৩-০ গোলে। বদলি হিসেবে শেষ ২০ মিনিট খেলেন এই মহাতারকা। এবার শেষ ষোলোতে ওঠার চ্যালেঞ্জে নেইমারের খেলা দেখার জন্য তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। আর জাপানের বিপক্ষে নেইমারের রেকর্ড ভক্তদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে আরও।
পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, নেইমারের সবচেয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষ জাপান। কোনো দলের বিপক্ষে তিনি এত বেশি গোল করেননি। জাপানের জালে ৫ ম্যাচে করেছেন ৯ গোল। জাপানের বিপক্ষে নেইমারের প্রথম ম্যাচ ছিল ২০১২ সালে একটি প্রীতি ম্যাচ। ব্রাজিলের ৪-০ গোলের জয়ে নেইমার করেছিলেন জোড়া গোল। জাপানের বিপক্ষে ২০১৪ সালে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল ৪-০ গোলে জয় পায়, আর চারটি গোলই করেন নেইমার। জাপানের বিপক্ষে সেই অতীত কি নেইমার ফিরিয়ে আনতে পারবেন, সেটিই এখন প্রশ্ন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তেমন কিছু করতে পারেননি নেইমার। তবে সামনের দিকে এই তারকা ফরোয়ার্ডের ভূমিকা রাখার সুযোগ দেখেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বলেন, ‘নেইমার খেলার সুযোগ পেয়েছে, কারণ এটা তার প্রাপ্য। সেরে ওঠার জন্য সে কঠোর পরিশ্রম করেছে। নেইমারের যে মান, আমি মনে করি এই বিশ্বকাপে সে দলকে সাহায্য করতে পারবে।’
এদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রচ্ছন্ন হুমকিই দিয়ে রেখেছেন জাপান কোচ হাজিমে মরিয়াসুকে। আত্মবিশ্বাসী জাপান কোচ বলেন, ‘এটি একটি দারুণ অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। ব্রাজিল নিখুঁত একটি দল। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, আমাদেরও জেতার এবং পরের ধাপে যাওয়ার সুযোগ আছে এবং আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ মরিয়াসু মনে করিয়ে দেন, সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল জাপান।
১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর থেকে এবার নিয়ে টানা অষ্টমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে খেলছে জাপান। এই সময়ে শেষ আটেও পারেনি ব্লু সামুরাইরা। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে চার-চারবার খেলেছে তারা। ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই জার্মানির বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে গোটা দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দেয় জাপান। আপাতত বাঁচা-মরার ম্যাচের আগে স্বস্তির খবর জাপানশিবিরে। চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন দলটির অন্যতম প্রধান তারকা তাকেফুসা কুবো। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে হাঁটুতে চোট পেয়ে হুইলচেয়ারে করে মাঠ ছাড়া ‘জাপানের মেসি’ খ্যাত এই ফরোয়ার্ড। ক্লাব ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদ, ভিয়ারিয়াল ও মায়োর্কার মতো ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা আছে কুবোর। বর্তমানে খেলছেন রিয়াল সোসিয়েদাদে।
দ্রুত ট্রানজিশন, নিখুঁত ওয়ান টাচ পাসিং এবং অসাধারণ অব দ্য বল মুভমেন্টই এখন সামুরাই ব্লুদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। কাগজে-কলমে ব্রাজিলই অনেক এগিয়ে। সবকিছুতেই সেলেসাওদের পাল্লা ভারী। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা আর শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল দিয়ে যেকোনো পরাশক্তিকেই চাপে ফেলা সম্ভব, সেটা প্রমাণ করে চলেছে জাপান। তবে সর্বশেষ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচে সেই সাম্বার তাল-লয়-ছন্দের জয়জয়কার দেখেছে বিশ্ব। তাই দুর্দান্ত একটা লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।