গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বিশ্বকাপ ফুটবল ধীরে ধীরে পৌঁছে যাচ্ছে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়ে। গ্রুপ পর্বের হিসাবনিকাশ শেষে আজ থেকে শুরু হচ্ছে নকআউট পর্ব যেখানে একটি ভুলই শেষ করে দিতে পারে চার বছরের স্বপ্ন।
নেই ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ, নেই দ্বিতীয় জীবন। জিতলেই এগিয়ে যাওয়া, হারলেই বিদায়। এমনই বাঁচা-মরার লড়াইয়ের সূচনায় রবিবার মুখোমুখি হচ্ছে কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
দুই দলের জন্যই এটি বিশেষ এক উপলক্ষ। কারণ, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উভয় দল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলছে। ফলে ম্যাচটি শুধুই শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াই নয়; এটি নতুন ইতিহাস লেখারও সুযোগ।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে কানাডা এসেছে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে। গ্রুপসেরা হওয়ার সুযোগ থাকলেও সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে সেই সুযোগ হাতছাড়া করে কানাডা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার পথচলা ছিল চমকপ্রদ। বিশেষ করে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে তারা আগেভাগেই নকআউট নিশ্চিত করে আলোচনায় আসে।
কাগজে-কলমে ম্যাচটি হয়তো টুর্নামেন্টের বড় লড়াই নয়, কিন্তু দুই দলের কাছে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন হয়তো এখনও দূরের, কিন্তু এই ম্যাচ জিতলে তারা পৌঁছে যাবে নতুন উচ্চতায়। দুই দল এর আগে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছে ২০০৭ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা ২-০ গোলে জয় পেয়েছিল। তবে অতীতের সেই পরিসংখ্যান আজকের ম্যাচে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না।
দক্ষিণ আফ্রিকা গ্রুপ পর্বে নিজেদের সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ দল হিসেবে প্রমাণ করেছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও তাদের রক্ষণ ছিল দৃঢ়। দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং শারীরিক সক্ষমতা তাদের বড় অস্ত্র। মাঝমাঠ থেকে বল পুনরুদ্ধার করে দ্রুত সামনে উঠে যাওয়ার দক্ষতা কানাডার জন্য বড় হুমকি হতে পারে।
অন্যদিকে কানাডা নিজেদের পরিচয় দিয়েছে আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে। সুযোগ পেলেই প্রতিপক্ষকে শাস্তি দিতে পারে তারা। গ্রুপ পর্বে ৮ গোল করা তার প্রমাণ। বিশেষ করে কাতারের বিপক্ষে গোলবন্যা তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়েছে। যদিও ৩ গোল হজম করেছে কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকাও সমান সংখ্যক গোল হজম করেছে। তবে গোল করার দক্ষতায় এগিয়ে কানাডাই।
কানাডার জন্য বড় স্বস্তি ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন অধিনায়ক আলফনসো ডেভিস। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ফিরে পাচ্ছে মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় তাবোহো মোকোয়েনাকে। তবে লাল কার্ডের কারণে খেলতে পারবেন না ফরোয়ার্ড থেম্বা জোয়ানে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস মনে করেন, নকআউট পর্বে ছোট ভুলও বড় শাস্তি ডেকে আনে। তার ভাষায়, শৃঙ্খলা ধরে রেখে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলেই সাফল্য সম্ভব। অধিনায়ক রনওয়েন উইলিয়ামসও আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলছেন, দল দেশের জন্য ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত।
অন্যদিকে কানাডার কোচ জেসে মার্শ জানিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার পাল্টা আক্রমণ সামলাতে সতর্ক থাকতে হবে। তবে আক্রমণাত্মক ফুটবল থেকেই সরে আসতে চান না তিনি। তার বিশ্বাস, সাহসী ফুটবলই নকআউটে পার্থক্য গড়ে দেয়।
এ ম্যাচ তাই শুধু দুই দলের লড়াই নয়Ñ এটি স্বপ্নের লড়াই, সাহসের লড়াই, ইতিহাসের লড়াই। এখন দেখার পালা, শেষ হাসি কারÑ বাফানা বাফানা, নাকি ম্যাপল লিফের যোদ্ধারা।