বিশ্বকাপ ২০১৪ এ নিজেদের মাটিতে জার্মানির কাছে ৭ গোল হজম করার পর, এবার বিশ্বকাপে গোলের পর গোল দিয়ে এভাবে উদযাপনে মেতে উঠছে ব্রাজিল ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ২০১৪, আয়োজক ব্রাজিল। হেক্সা জয়ের স্বপ্ন ব্রাজিলিয়ানদের।
সে মতোই তারা এগিয়ে চলছিল। একের পর এক বাধা পার হচ্ছে, এগোচ্ছে লক্ষ্য পূরণের দিকে। কিন্তু না! বাধ সাধল সেমিফাইনাল ম্যাচ। প্রতিপক্ষ জার্মানি। তারপরও আত্মবিশ্বাসী ছিল ব্রাজিল। নিজেদের পরিচিত মাঠ আবার বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি ভিন্ন এক আমেজ তৈরি করেছিল। কিন্তু ম্যাচ শুরু হতেই সব ভোজবাজির মতো উল্টে গেল। ৮ জুলাই মিনেইরো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ট্র্যাজেডি। দুঃসহ এক রাত ছিল সেদিন। একের পর এক গোল জালে আছড়ে পড়ছিল। মুলার, ক্লোসা, ক্রুস, খেদিরা, আন্দ্রে শুরলে একের পর গোল করছিলেন। গুনে গুনে সাত গোল। প্রতিটা গোল ব্রাজিলিয়ান হৃদয়ে যেন রক্তক্ষরণ তৈরি করছিল। সেই ঘটনা এখনও জ্বালা তৈরি করে। নিজেদের মাটিতে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হারÑ ফুটবলের ইতিহাসে এক দগদগে ক্ষত। সেই রাতের পর থেকে ‘সেভেন আপ’ নামে বিদ্রূপ, ঠাট্টা, ট্রলÑ সবই যেন ব্রাজিলের ছায়াসঙ্গী।
কিন্তু ফুটবল তো প্রতিশোধের সবচেয়ে সুন্দর কবিতা। সময় গড়িয়েছে, ক্ষত শুকিয়েছে, কিন্তু স্মৃতি নয়। আর এবার, ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল যেন সেই পুরনো অপমানকে নতুন ভাষায় লিখছে। সব অপমান ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য লড়ছে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে তারা সাত গোল করেছে। প্রতিটি গোল যেন একেকটি উত্তর, একেকটি জবাব সেই পুরনো তিরস্কারের।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ জয়ে প্রথম গোল। স্কোরশিটের তথ্য অনুসারে এ গোলটি এসেছে সপ্তম মিনিটে। করেছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। সাতÑ যে সংখ্যা একদিন ছিল লজ্জার, আজ সেটাই হয়ে উঠছে শক্তির প্রতীক। যে ‘সেভেন আপ’ একসময় ছিল ঠাট্টা, আজ তা যেন ব্রাজিলের হাতে এক নতুন পানপাত্রÑ বিজয়ের স্বাদে ভরা।
ফুটবল বড় অদ্ভুত। কখনও একই সংখ্যা চোখে জল আনে, আবার কখনও সেই সংখ্যাই হাসির আলো ছড়ায়। ব্রাজিল যেন বলছেÑ ‘সাত আমাদের অভিশাপ নয়, সাতই আমাদের পুনর্জন্ম’।