কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডের নাটকীয়তা এখন তুঙ্গে। গ্রুপ ‘আই’ থেকে ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলেছে ইউরোপের দুই দেশ ফ্রান্স ও নরওয়ে। তবে শুক্রবার রাতে ফক্সবোরোর জিলেট স্টেডিয়ামে (বোস্টন) এই দুই দলের লড়াইটি স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার নয়, এটি গ্রুপসেরা হওয়ার মর্যাদার লড়াই।
একই সময়ে গ্রুপের অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হবে সেনেগাল ও ইরাকÑ যার ওপর নির্ভর করছে রানার্সআপ বা সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২-এ যাওয়ার ভাগ্য।
র্যাঙ্কিং, শক্তিমত্তা আর বিশ্বমঞ্চের অভিজ্ঞতার বিচারে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও ৩ নম্বর ফিফা র্যাঙ্কিংধারী ফ্রান্স অনেক এগিয়ে থাকলেও, ৩১ নম্বর র্যাঙ্কিংধারী নরওয়ে শিবিরে আছেন একজন ‘আর্লিং হাল্যান্ড’। আর এই এক নামের কারণেই ফরাসিরা তাদের প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সমীহ করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রথম দুই ম্যাচে ইরাক ও সেনেগালকে হারিয়ে দুই দলই সমান ৬ পয়েন্ট অর্জন করেছে, তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। এই ম্যাচে ড্র করলেই ফ্রান্স গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে, আর একই অবস্থানে যেতে নরওয়ের প্রয়োজন পরিষ্কার জয়।
এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ ফুটবল বিশ্বের বর্তমান দুই মহাতারকাÑ কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হাল্যান্ড। বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ রাজত্ব কার হাতে থাকবে, এই ম্যাচটি যেন তারই এক খণ্ডচিত্র। চলতি বিশ্বকাপে দুজনেই ইতোমধ্যেই ৪টি করে গোল করে গোল্ডেন বুটের রেসে সমানে সমানে লড়ছেন। মজার ব্যাপারÑ নিজ দেশেরও সর্বকালের টপ গোলস্কোরার তারা (এমবাপে ৬০ ও হাল্যান্ড ৫৯ গোল) গত ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে হাল্যান্ডের চোখ ধাঁধানো জোড়া গোল নরওয়েকে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে এমবাপে তার গতি ও ড্রিবলিংয়ের অতিমানবীয় ফর্ম ধরে রেখে ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে একক শক্তিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই ম্যাচে যেকোনো একজনের একক ম্যাজিক ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।
ফুটবল ইতিহাসের পরিসংখ্যান ও ইতিহাস বলছে, দুই দলের অতীত লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর আগে দল দুটি ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে ফ্রান্সের জয় ৭টি, নরওয়ের জয় ৪টি এবং বাকি ৪টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের মহোত্তম মঞ্চে এটিই তাদের প্রথম ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় সাক্ষাৎ। দুদল সর্বশেষ মোকাবিলা করেছে এক যুগ আগে, সে প্রীতি ম্যাচে ৪-০ গোলে জিতেছিল ফ্রান্স।
‘দ্য ব্লুজ’ খ্যাত ফরাসিদের মূল শক্তি তাদের স্কোয়াডের গভীরতা এবং মাঝমাঠের দুর্দান্ত ভারসাম্য। চুয়ামেনি, রাবিও ও দেম্বেলের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়রা যেকোনো রক্ষণভাগ ভেঙে চুরমার করতে পারেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ফরাসি ডিফেন্সে কিছুটা অসতর্কতা দেখা গেছে, যা হাল্যান্ডের মতো ফরোয়ার্ডের সামনে মারাত্মক প্রমাণিত হতে পারে।
‘দ্য ভাইকিংস’ খ্যাত নরওয়ের প্রধান শক্তি তাদের কাউন্টার-অ্যাটাকিং গতি এবং হাল্যান্ডের নিখুঁত ও নিষ্ঠুর ফিনিশিং। মাঝমাঠে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের পাসিং নিখুঁত। তবে বড় ম্যাচের তীব্র স্নায়ুচাপ সামলানো এবং রক্ষণভাগে অভিজ্ঞতার অভাব তাদের কিছুটা পিছিয়ে রাখছে।
ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের মাস্টারমাইন্ড কোচ দিদিয়ের দেশম তার রণকৌশল নিয়ে বলেন, ‘আমরা জানি নরওয়ে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষ করে বক্সে যখন হাল্যান্ডের মতো কেউ থাকে। আমরা নকআউটে গেছি ঠিকই, তবে আমাদের লক্ষ্য স্পষ্টÑ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ডে যাওয়া।’
অন্যদিকে নরওয়ে কোচ স্টেল সোলবাকেন ফরাসিদের চ্যালেঞ্জ জানাতে বেশ রোমাঞ্চিত, ‘ফ্রান্সের মতো দলের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই কঠিন, তবে আমাদের হারানোর কিছু নেই। আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে গ্রুপসেরা হতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ব।’
গ্রুপ ‘আই’-এর অপর সমীকরণÑ সেনেগাল বনাম ইরাক
ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচ যখন টেবিলের শীর্ষস্থান নির্ধারণ করবে, তখন গ্রুপের অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে সেনেগাল ও ইরাক। প্রথম দুই ম্যাচে হেরে যাওয়ায় এই দুই দলেরই নকআউট পর্বের আশা সুতোয় ঝুলছে। তবে এই ম্যাচটি তাদের জন্য টুর্নামেন্টে টিকে থাকার শেষ সুযোগ। বড় ব্যবধানে জিততে পারলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে ‘সেরা চার তৃতীয় দল’-এর একটি হয়ে শেষ ৩২-এর টিকিট কাটার একটি ক্ষীণ সুযোগ থাকবে সেনেগাল বা ইরাকের সামনে। বিশেষ করে আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগাল তাদের চেনা ছন্দ ফিরে পেয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকতে মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে।
বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য
ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন ১৯৯৮ এবং ২০১৮
বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য
নরওয়ে রাউন্ড অব সিক্সটিন ১৯৩৮ এবং ১৯৯৮
হেড টু হেড
ম্যাচ ফ্রান্স জয় নরওয়ে জয় ড্র
১৫ ৭ ৪ ৪