গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের রোমাঞ্চ এখন তুঙ্গে। নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলগুলো একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে।
এই মহোৎসবে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে দুটি ভিন্ন শক্তির ও মহাদেশের ম্যাচ। আজ একদিকে ইউরোপিয়ান পরাশক্তি জার্মানির মুখোমুখি হচ্ছে লাতিন আমেরিকার লড়াকু দল ইকুয়েডর; অন্যদিকে আফ্রিকান জায়ান্ট আইভরি কোস্টের কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম চমক নবাগত কুরাসাও।
জার্মানি বনাম ইকুয়েডর-পাসের গতি বনাম লাতিন ছন্দ
বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দল জার্মানি এবার নতুন এক লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। গত কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টের খরা কাটিয়ে এবার তারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তবে গ্রুপপর্বে তাদের বড় পরীক্ষা দিতে হচ্ছে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে। ইকুয়েডর বরাবরই তাদের শারীরিক ফুটবল এবং কাউন্টার-অ্যাটাকিং গতির জন্য পরিচিত।
জার্মান স্কোয়াডে রয়েছে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের চমৎকার সংমিশ্রণ। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে বল পজিশন ভিত্তিক ফুটবল খেলাই থাকবে তাদের মূল কৌশল। তবে ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ ভাঙা জার্মানির আক্রমণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হবে।
লাতিন আমেরিকার দল ইকুয়েডর মূলত উইং ধরে আক্রমণ করতে ভালোবাসে। জার্মানির হাই-লাইন ডিফেন্সের সুযোগ নিয়ে গতিময় কাউন্টার অ্যাটাকে গোল বের করাই হবে ইকুয়েডরের প্রধান লক্ষ্য। এই ম্যাচে ইকুয়েডর যদি জার্মানিকে রুখে দিতে পারে, তবে গ্রুপ ‘ই’ বা সংশ্লিষ্ট গ্রুপের সমীকরণ বেশ জটিল হয়ে উঠবে।
আইভরি কোস্ট বনাম কুরাসাও-জায়ান্টদের বিরুদ্ধে আন্ডারডগদের রূপকথা
গ্রুপপর্বের অন্যতম অসম কিন্তু রোমাঞ্চকর ম্যাচ হতে যাচ্ছে আইভরি কোস্ট ও কুরাসাও-এর মধ্যকার লড়াইটি। আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের অন্যতম শক্তিশালী দল আইভরি কোস্ট শক্তির বিচারে কাগজে-কলমে অনেক এগিয়ে। কিন্তু ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও বিশ্বমঞ্চে তাদের হার না মানা মানসিকতা দিয়ে ফুটবল বিশ্বের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
‘দ্য এলিফ্যান্টস’খ্যাত আইভরি কোস্ট তাদের ঐতিহ্যগত ফিজিক্যাল ফুটবল, প্রেসিং এবং উইংয়ের গতি ব্যবহার করে কুরাসাওকে শুরু থেকেই চাপে রাখার চেষ্টা করবে। তাদের আক্রমণভাগে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা তারকাদের উপস্থিতি কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ।
পক্ষান্তরে বিশ্বমঞ্চে হারানোর কিছু নেই কুরাসাওয়ের। ‘আন্ডারডগ’ তকমা নিয়ে মাঠে নামলেও তারা বেশ সুসংগঠিত দল। রক্ষণভাগ নিঁখুত রেখে ম্যাচটিকে যত দীর্ঘ সময় গোলশূন্য রাখা যায়, সেই পরিকল্পনাই থাকবে তাদের। সেট-পিস বা প্রতিপক্ষের ছোট কোনো ভুল থেকে সুযোগ তৈরি করতে পারলে তারা বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে।
শেষ ষোলোর সমীকরণ
এই দুটি ম্যাচই গ্রুপপর্বের ভাগ্য নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জার্মানি এবং আইভরি কোস্ট তাদের স্ব-স্ব ম্যাচে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও ইকুয়েডর ও কুরাসাওয়ের চমকে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে। ফুটবলপ্রেমীরা মুখিয়ে আছেন টানটান উত্তেজনার এই দুটি ম্যাচের দিকে, যেখানে এক মুহূর্তের ভুল বদলে দিতে পারে যেকোনো দলের বিশ্বকাপ ভাগ্য।