উজ্জ্বল গোলাপি বা ফুশিয়া রঙের ফুটবল বুট। ছবি: ট্রিবুনা ডট কম
বিশ্বকাপ ফুটবলের মাঠে এবার খেলার চেয়েও বেশি নজর কাড়ছে খেলোয়াড়দের বুটের রঙ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে চলমান টুর্নামেন্টে দেখা যাচ্ছে উজ্জ্বল গোলাপি বা ফুশিয়া রঙের ফুটবল বুটের ব্যাপক ব্যবহার।
তারকা থেকে শুরু করে ছোট দলের খেলোয়াড়Ñ সবাই যেন একই রঙের ধারায় যুক্ত হয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি নিছক ফ্যাশন ট্রেন্ড, নাকি বড় ব্র্যান্ডগুলোর পরিকল্পিত বিপণন কৌশল?
সিএনএন রবিবার জানায়, টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার খেলায় দেখা যায়, দুই দলের ২২ জন স্টার্টিং খেলোয়াড়ের মধ্যে মাত্র তিনজন ছাড়া সবাই কোনো না কোনো ধরনের গোলাপি বুট পরে মাঠে নামেন। এরপর থেকে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই একই প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।
বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়া ব্র্যান্ডÑ অ্যাডিডাস, নাইকি, পুমা, নিউ ব্যালান্স ও স্কেচার্স বিশ্বকাপের আগে নতুন জুতার কালেকশন বাজারে আনে, যেখানে গোলাপির বিভিন্ন শেড ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। ব্র্যান্ডগুলোর দাবি, উজ্জ্বল রঙ শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, মাঠে খেলোয়াড়দের দৃশ্যমানতা বাড়ায় এবং দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। পাশাপাশি আধুনিক ফুটবলাররা নিজেদের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং নিয়েও সচেতন, তাই তারা এমন রঙ বেছে নিচ্ছেন, যা আলাদা করে নজরকাড়ে।
নিউ ব্যালান্সের ফুটবল প্রোডাক্ট বিভাগের প্রধান রব শেলডন বলেন, আজকের দিনে অ্যাথলেটরা শুধু পারফরম্যান্স নয়, নিজেদের ব্যক্তিত্বও প্রকাশ করতে চান। ট্রেন্ড বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ডব্লিউজিএসএন ২০২৪ সালেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে, ২০২৬ সালের বড় ক্রীড়া আসরে ‘ইলেকট্রিক ফিউশিয়া’ নামের উজ্জ্বল গোলাপি ধাঁচের রঙ ব্যাপকভাবে দেখা যাবে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এখন মোট গোলাপি বুটের একটি বড় অংশ এই উজ্জ্বল শেডে তৈরি
বিশ্বের বড় তারকারাও এই ট্রেন্ডে যুক্ত হয়েছেন। কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডের মতো খেলোয়াড়দের পায়ে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের উজ্জ্বল গোলাপি বুট। তবে ব্যতিক্রমও আছে। লিওনেল মেসি তার ‘এল উলতিমো ট্যাঙ্গো’ নীল-সাদা বুট ব্যবহার করে নজর কাড়ছেন, যা তার দেশের পতাকার রঙের প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচও ভিন্ন রঙের বুট ব্যবহার করেছেন।