গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বিশ্বকাপ ফুটবলের ‘আই’ গ্রুপে ভিন্ন সমীকরণ নিয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের শক্তিশালী দল নরওয়ে ও আফ্রিকার অন্যতম পরাশক্তি সেনেগাল। যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট রাদারফোর্ডে মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় শুরু হবে দুই দলের গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াই। ম্যাচটির গুরুত্ব দুই দলের জন্যই অভিন্ন, লক্ষ্য একইÑ নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করা।
প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের
তুঙ্গে রয়েছে নরওয়ে। বড় জয় তাদের শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, গোল ব্যবধানেও এগিয়ে
রেখে গ্রুপের শীর্ষস্থানে তুলে দিয়েছে। এমনকি তারা আপাতত ফ্রান্সকেও পেছনে ফেলেছে।
ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেলেই শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত হয়ে যাবে নরওয়ের। একই সঙ্গে
গ্রুপসেরা হওয়ার পথেও বড় সুবিধা পাবে তারা।
বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে শতভাগ সাফল্য নিয়ে মূল পর্বে আসা নরওয়ে টুর্নামেন্টের
আগে কিছুটা ছন্দ হারালেও বিশ্বকাপের শুরুতেই পুরনো ধার ফিরে পেয়েছে। দলটি আত্মবিশ্বাসী
ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। তবে রক্ষণভাগে এখনও কিছু দুর্বলতা রয়ে গেছে। সব প্রতিযোগিতা
মিলিয়ে শেষ সাত ম্যাচে মাত্র একবার ক্লিন শিট রাখতে পারা সেই দুর্বলতারই প্রমাণ। তবুও
টানা চার ম্যাচ অপরাজিত থাকায় মানসিকভাবে বেশ চাঙ্গা দলটি।
নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি নিঃসন্দেহে আর্লিং হালঅন্ড। ক্লাব ফুটবলের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের গোল করার দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করে প্রতিপক্ষকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন এই বিশ্বকাপেও তিনি অন্যতম বড় হুমকি। নরওয়ের সাফল্যের বড় অংশ নির্ভর করবে হালান্ডের পারফরম্যান্সের ওপর।
অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে সেনেগাল সাহসী লড়াই করেও ফ্রান্সের বিপক্ষে
হার এড়াতে পারেনি। তবে পরাজয়ের মাঝেও ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছে আফ্রিকান দলটি। বিশেষ
করে ১৮ বছর বয়সী ইব্রাহিম এমবায়ে গোল করে আলোচনায় উঠে এসেছেন। বিশ্বকাপে আফ্রিকার সর্বকনিষ্ঠ
গোলদাতা হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন এই তরুণ, যা সেনেগালের জন্য বড় প্রেরণা।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে নরওয়ের কোচ স্টেল সোলবাকেন খেলোয়াড়দের আত্মতুষ্ট না হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে আমরা ভালো খেলেছি, কিন্তু কাজ এখনও শেষ হয়নি। সেনেগাল শারীরিকভাবে খুব শক্তিশালী এবং ট্রানজিশনে ভয়ংকর। আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে।’
কোচের সঙ্গে একমত হয়ে হালান্ডও বলেন, ‘সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচটি
খুব কঠিন হবে। তারা দ্রুতগতির এবং প্রতি-আক্রমণে ভয়ংকর। জয় পেলে নকআউট নিশ্চিত হবে,
তাই আমরা ম্যাচটিকে ফাইনালের গুরুত্ব দিচ্ছি।’
অন্যদিকে সেনেগাল কোচ পেপ থিয়াউ আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না। তিনি বলেন,
‘ফ্রান্সের কাছে হারলেও ছেলেদের পারফরম্যান্সে আমি গর্বিত। আমরা প্রমাণ করেছি বড় দলের
বিপক্ষেও লড়তে পারি। নরওয়ের বড় অস্ত্র হালান্ড, কিন্তু ফুটবল একজনের খেলা নয়। পুরো
দলকে থামাতে পারলেই আমাদের সুযোগ তৈরি হবে।’
সব মিলিয়ে ‘আই’ গ্রুপের এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন বাস্তবতার
সংঘর্ষÑ একদিকে নকআউট নিশ্চিত করতে মরিয়া নরওয়ে, অন্যদিকে টিকে থাকার শেষ লড়াইয়ে নামছে
সেনেগাল। ফল যা-ই হোক, দর্শকদের জন্য রোমাঞ্চকর এক লড়াই অপেক্ষা করছে।