অ্যালেক্স ফ্রিম্যান বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে নকআউট পর্বে তুলেছেন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফ্রিম্যান’ নামটি একসময় পরিচিত ছিল এনএফএলের তারকা অ্যান্টোনিও ফ্রিম্যানের কারণে।
প্রায় তিন দশক পর সেই নামই আবারও শিরোনামে, তবে এবার ফুটবলে।
সুপার বোলজয়ী বাবার ছেলে অ্যালেক্স ফ্রিম্যান বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে নকআউট পর্বে তুলেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই তরুণ ডিফেন্ডার এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের নতুন মুখ হয়ে উঠছেন।
১৯৯৬ সালে অ্যান্টোনিও ফ্রিম্যানের দুটি টাচডাউনের সুবাদে সিয়াটল সিহকসকে হারিয়েছিল গ্রিন বে প্যাকার্স। কয়েক মাস পর তিনি জেতেন সুপার বোল, যা এনএফএল খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রায় ৩০ বছর পর আবারও সিয়াটলে আলোচনায় ফ্রিম্যান পরিবার। তবে এবার কারণ অ্যালেক্স ফ্রিম্যান।
বিবিসি জানায়, গত শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে ২-০ ব্যবধানে জয় এনে দিতে সহায়তা করেন তিনি। এই জয়ে নকআউট পর্বও নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
ম্যাচ শেষে অ্যালেক্স বলেন, “এটি আমাদের পরিবারের জন্য পূর্ণ এক বৃত্ত সম্পন্ন হওয়ার মতো মুহূর্ত। বাবা যেমন সফল হয়েছেন, আমিও আমার নিজস্ব পথে সফল হতে পারি। এমন একজন সফল বাবাকে পাওয়া সৌভাগ্যের, যিনি আমাকে এমন মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত করেছেন।”
বিশ্বকাপজুড়ে ছেলের খেলা মাঠে বসে উপভোগ করছেন অ্যান্টোনিও ফ্রিম্যান। তবে ফুটবলে আসার পথ সহজ ছিল না অ্যালেক্সের। যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকান ফুটবলের জনপ্রিয়তার কারণে শুরুতে বাবার প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি দ্বিধায় ছিলেন। তার মা ও সৎ বাবাই প্রথম তাঁকে ফুটবল খেলতে উৎসাহ দেন। সৎ বাবাই ছিলেন তার প্রথম কোচ।
মাত্র চার বছর আগেও বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন অনেক দূরের ছিল। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় তিনি অরল্যান্ডো সিটির রিজার্ভ দলে খেলতেন। এমনকি ১৮ মাস আগেও জাতীয় দলের আলোচনায় তার নাম খুব বেশি শোনা যেত না।
কিন্তু ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র দলের দায়িত্ব নেওয়া কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো তার প্রতি আস্থা রাখেন। গত বছর প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পর দ্রুতই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এই ডিফেন্ডার।
অ্যালেক্স সম্পর্কে পোচেত্তিনো বলেন, “সে শিখতে চায়, সব সময় মনোযোগ দিয়ে শোনে। শুধু খেলোয়াড় হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও সে অসাধারণ। নিজের পজিশনে বিশ্বের সেরাদের একজন হওয়ার সামর্থ্য তার রয়েছে।”
মাঠের বাইরেও জনপ্রিয়তা বাড়ছে অ্যালেক্সের। তার সৎ বোন ডায়মন্ড স্পল্ডিংয়ের একটি টিকটক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘ডায়মন্ডের ছোট ভাই’ নামে ডাকা শুরু হয়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর অনেকেই আবার তাকে ‘আমেরিকার ছোট ভাই’ বলেও অভিহিত করেছেন।