প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৭ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৪৬ মিনিট আগে
গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দাপুটে জয়টি পেয়েছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানি।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এদিকে জয় দিয়েই বিশ্বকাপ শুরু করেছে আইভরিকোস্টও। বিপক্ষ দলের জার্মান যন্ত্রে পিষ্ট হওয়ার অসংখ্য দৃষ্টান্ত আছে বিশ্ব ফুটবলে। তবে আইভরিকোস্ট তথা আফ্রিকান পাওয়ার প্রায়শই হয়ে ওঠে বড় দলের মাথাব্যথার কারণ। এমনি অবস্থায় টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে ‘গ্রুপ ই’তে হাইভোল্টেজ ম্যাচ মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই টাফ টিম। তাপ ছড়ানো এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে শনিবার, বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়।
এই তাপ ছড়ানো ম্যাচের জয়ী দল এক ম্যাচ হাতে
রেখেই পৌঁছে যাবে দ্বিতীয় পর্বে। স্বাভাবিকভাবে এ সুযোগ নিতে চাইবে প্রথম ম্যাচের জয়ীরা।
এ মুহূর্তে দারুণ ছন্দে আছে জার্মানি। জুলিয়ান
নাগেলসম্যানের শিষ্যরা নিজেদের শেষ ১০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে। দুর্দান্ত
ফর্মে আছেন দলটির স্ট্রাইকার কাই হাভার্টজ। জার্মানির মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ অত্যন্ত শক্তিশালী
হলেও, তাদের রক্ষণভাগকে ততটা নিশ্ছিদ্র মনে হচ্ছে না।
এদিকে আইভরিকোস্টও বেশ ফর্মে আছে। শেষ ১৬টি
ম্যাচের মাত্র দুটিতে হেরেছে তারা। দলটির শক্তির জায়গা শারীরিক সক্ষমতা ও দ্রুতগতির
কাউন্টার-অ্যাটাক। যেকোনো রক্ষণভাগকে তছনছ করে দিতে পারে দলটির ফরোয়ার্ডরা।
অর্জনের দিক থেকে জার্মানরা অনেক এগিয়ে থাকলেও
মুখোমুখি লড়াইয়ে কিন্তু দুদল সমানে সমান। ২০০৯ সালের নভেম্বরে মিউনিখের অ্যালিয়াঞ্জ
অ্যারেনায় প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক জার্মানির সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিল আইভরিকোস্ট।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অবশ্য বেশ এগিয়ে জার্মানরা। তারা আছে ১০ নম্বরে আর আইভরিকোস্টের
অবস্থান ৩০তম।
বলা বাহুল্য আইভরি কোস্ট বিশ্বকাপের কোনো একটি
আসরে কখনও একাধিক ম্যাচ জেতেনি। তাই নতুন রেকর্ড গড়ার সুযোগ এই আফ্রিকান দলটির সামনে।
এদকে জার্মানি তাদের শেষ সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচের কোনোটিতেই ক্লিন শিট রাখতে পারেনি।
প্রতিটা ম্যাচেই কমপক্ষে একটি করে হলেও গোল হজম করেছে ইউরো জায়ান্টরা। তাই রক্ষনভাগে
বড় পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে জার্মানদের।
জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে আইভরিকোস্টের
প্রধান কোচ এমার্সে ফায়ে ‘চোখে চোখ রেখে’ লড়াই করার অঙ্গীকার করেছেন। ম্যাচপূর্ব
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটা আবারও একটি কঠিন ম্যাচ হবে, কারণ প্রতিপক্ষ জার্মানি।
তাদের প্রচুর অভিজ্ঞতা আছে। বিশ্বকাপ, তারা কয়েকবার জিতেছে। তাদের আক্রমণভাগ যথেষ্ট
শক্তিশালী।’ যোগ করেন, ‘এই প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে ৭-১ গোলে জেতাটা বিশাল কিছু।
তবে আমরা তাদের সাথে চোখে চোখ রেখে লড়ব এবং আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
জার্মানি নিজেদের দলীয় ঐক্যের ওপরই বেশি জোর
দিচ্ছে। দলটির অধিনায়ক জোশুয়া কিমিচ বলেছেন, ‘প্রতিদিন সবকিছু সবসময় ভালো থাকে না,
কিন্তু আমাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া আছে। এই মুহূর্তে এটা খুব ভালোভাবে কাজ করছে; আমরা
এখন টানা ১০টি ম্যাচ জিতেছি এবং সঠিক পথেই আছি।’ তবে বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ নিয়ে বেশ সতর্কও
জর্মানি। দলটির ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার বলেছেন, ‘তারা ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি
এবং দ্রুত আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ খুব পছন্দ করে। আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’
জার্মানি
সম্ভাব্য একাদশ (৪-২-৩-১)
গোলরক্ষক: ম্যানুয়েল নয়ার
রাইট ব্যাক: জশুয়া কিমিচ । সেন্টার ব্যাক:
জোনাথন তাহ। সেন্টার ব্যাক: নিকো শ্লোটারবেক। লেফট ব্যাক: ডেভিড রাউম
সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার: লিওন গোরেৎজকা, সেন্ট্রাল
মিডফিল্ডার: আলেক্সান্ডার পাভলোভিচ
রাইট উইঙ্গার: লেরয় সানে, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার:
জামাল মুসিয়ালা, লেফট উইঙ্গার: ফ্লোরিয়ান উইর্টজ
সেন্টার ফরোয়ার্ড: কাই হ্যাভার্টজ
আইভরি কোস্ট
সম্ভাব্য একাদশ (৪-২-৩-১)
গোলরক্ষক: ইয়াহিয়া ফোফানা
রাইট ব্যাক: গুয়েলা দুয়ে, সেন্টার ব্যাক:
ওডিলন কোসুনু, সেন্টার ব্যাক: উসমান দিওমান্দে, লেফট ব্যাক: ঘিসলাইন কোনান
সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার: ফ্রাঙ্ক কেসি, সেন্ট্রাল
মিডফিল্ডার: ইব্রাহিম সাঙ্গারে
রাইট উইঙ্গার: আমাদ দিয়ালো, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার:
বাজুমানা তোরে, লেফট উইঙ্গার: ইয়ান দিওমান্দে
সেন্টার ফরোয়ার্ড: আঞ্জ-ইয়োয়ান বনি