গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়াম শনিবার একটি দারুণ রোমাঞ্চকর ম্যাচের সাক্ষী হতে যাচ্ছে, যেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপে একে অপরের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত হচ্ছে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন।
নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে তিউনিসিয়াকে
৫-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ৩৮ ফিফা র্যঙ্কিংধারী সুইডেন ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ এফ-এর
শীর্ষে। তারা তিনে থাকা নেদারল্যান্ডসের চেয়ে ২ পয়েন্টে এগিয়ে আছে, যারা আগের ম্যাচে
জাপানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিল।
রোনাল্ড কোম্যানের দল ১ পয়েন্ট
নিয়ে গ্রুপে তিনে আছে। এর অর্থ হলো, সুইডেনের বিরুদ্ধে এই আকর্ষণীয় লড়াইয়ে নামার আগে
নেদারল্যান্ডস দলের ওপর কিছুটা চাপ থাকছে; বিশেষ করে সুইডেন দল যেভাবে তিউনিসিয়ার
বিরুদ্ধে তাদের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে, তা বিবেচনা করলে।
আগামী ২৫ জুন তিউনিসিয়ার বিপক্ষে
ম্যাচ দিয়ে ৮ ম্বর র্যাঙ্কিংধারী নেদারল্যান্ডস তাদের গ্রুপ পর্ব শেষ করবে। পরবর্তী
রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য ৪ পয়েন্টই সম্ভবত যথেষ্ট হবে, এমনকি সেটি যদি
তৃতীয় স্থান অর্জন করার মাধ্যমেও হয়।
নেদারল্যান্ডস সেই অভাগা দল, যারা
তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে প্রতিবারই হেরেছে। এ ছাড়া ২০১৪ সালে বিশ্বকাপে তারা
তৃতীয় হয়েছিল। কিন্তু ২০২২ আসরে কোয়ার্টার ফাইনালেই তাদের যাত্রা থেমেছিল।
সুইডেনের বিপক্ষে সামগ্রিক মুখোমুখি
লড়াইয়ের রেকর্ডে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে রয়েছে। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ২০টি ম্যাচের
মধ্যে তারা ৯টিতে জিতেছে এবং ৭টি ম্যাচে হেরেছে। বিশ্বকাপের মূল পর্বে এটি হবে এই দুই
দলের মধ্যে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো দেখা। এর আগে ১৯৭৪ সালে গ্রুপ পর্বে তাদের একমাত্র
ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। সে বছর নেদারল্যান্ডস ফাইনালে উঠলেও পশ্চিম জার্মানির
কাছে হেরে যায়।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়ার
বিরুদ্ধে দুর্দান্ত এক প্রদর্শনীতে ৫-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় সুইডেন। এই জয় তাদের
টুর্নামেন্টের শেষ-৩২ রাউন্ডে যাওয়ার পথকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে।
গ্রাহাম পটারের দল যদি নেদারল্যান্ডসকে
হারাতে পারে, তবে তাদের পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে। এমনকি জাপান যদি
তিউনিসিয়াকে হারাতে না পারে, তবে এই জয়ের মাধ্যমে সুইডেন গ্রুপ এফ-এর চ্যাম্পিয়ন
হিসেবেই পরের রাউন্ডে যাবে।
বিশ্বকাপে সুইডেনের সর্বকালের সেরা
সাফল্য এসেছিল ১৯৫৮ সালে নিজেদের ঘরের মাঠে, যখন তারা রানার্সআপ হয়েছিল। এ ছাড়া ২০১৮
সালের আসরে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিলেও, ২০২২ সালের বিশ্বকাপের মূল পর্বে
খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
‘দ্য ব্লু অ্যান্ড ইয়েলো’ (সুইডেন)
খ্যাত দলটিকে এই গ্রীষ্মে ট্রফির সম্ভাব্য ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে ধরা না হলেও, মাঠের
আক্রমণভাগে তাদের দক্ষতা দলটিকে অন্যতম দেখার মতো এক দলে পরিণত করেছে।
জাপানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে কোনো
খেলোয়াড় ইনজুরিতে না পড়ায়, সুইডেনের বিপক্ষের এই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস কোচ কোম্যান
অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে পারেন। মেম্ফিস ডিপাইয়ের সাম্প্রতিক ফিটনেস সমস্যার
কারণে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা (৫৫ গোল) হয়তো আবারও বদলি খেলোয়াড় হিসেবে
বেঞ্চ থেকে মাঠে নামবেন। অন্যদিকে, গত ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা হলেও
কোডি গাকপো সম্ভবত একাদশে থাকছেন।
রক্ষণের চার ডিফেন্ডার নিশ্চিতভাবেই
অপরিবর্তিত থাকছে। আর মিডফিল্ডের মাঝমাঠে রায়ান গ্রাভেনবার্চ ও তিজানি রেইন্ডার্সের
পাশাপাশি আবারও দেখা যাবে ফ্রেঙ্কি ডি জংকে।
সুইডেনের ক্ষেত্রে, আক্রমণভাগে
ভিক্টর ডিয়োকেরেস এবং আলেকজান্ডার ইসাক আবারও শুরুর একাদশে থাকছেন, যারা তিউনিসিয়ার
বিপক্ষে গত ম্যাচে দুজনেই গোল করেছিলেন। গত ম্যাচে সুইডেনের হয়ে ইয়াসিন আয়রি দুর্দান্ত
পারফর্ম করেছিলেন এবং দুটি গোল করেছিলেন। ২২ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় মাঝমাঠের মিডফিল্ডে
খেলা চালিয়ে যাবেন।
লুকাস বার্গভালের জায়গা হয়তো আবারও
বদলি খেলোয়াড়দের বেঞ্চেই হবে। ইসাক এবং ডিয়োকেরেস তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে যেমন পারফর্ম
করেছেন, তা বিবেচনা করে অ্যান্থনি এলাঙ্গার ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়।
নেদারল্যান্ডসের সম্ভাব্য একাদশ:
ভারব্রুগেন, ডামফ্রিস, ভ্যান ডাইক, ভ্যান হেক, ভ্যান ডি ভেন, ডি জং, রেইন্ডার্স, গ্রাভেনবার্চ,
সামারভিল, মালেন, গাকপো।
সুইডেনের সম্ভাব্য একাদশ: নর্ডফেল্ডট,
লেগারবিয়েলকে, হিয়েন, লিন্ডেলফ, বার্নহার্ডসন, নাইগ্রেন, কার্লস্ট্রোম, আয়রি, গুডমুন্ডসন,
ইসাক, ডিয়োকেরেস।