নিউ ইয়র্ক পোস্ট
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা ফ্লোরেন্সিয়া পেনা ও তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির বাবার মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে তীব্র সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা ফ্লোরেন্সিয়া পেনা। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এই বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
লুজু টিভি লাইভ স্ট্রিমিং প্রোগ্রাম এল শো দেল ভেরানোতে পেনা বৃহস্পতিবার দাবি করেন, মেসির বাবা হোর্হে মেসি মারা গেছেন।
লাইভে তিনি বলেন, “আমি খারাপ সংবাদ দিতে চাই না, তবে মেসির বাবা মারা গেছেন। বিশ্বকাপের মাঝপথেই মেসিকে হয়তো ফিরে যেতে হবে”।
তবে ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হোর্হে মেসি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।
বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, পরিবারের একান্ত ব্যক্তিগত একটি বিষয় নিয়ে সংবেদনশীলতা ও নৈতিকতাহীনভাবে যে ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছে, তাতে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত।
এই ঘটনার পর ৫১ বছর বয়সী উপস্থাপিকা ফ্লোরেন্সিয়া পেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠানের প্রোডাকশন টিমের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তিনি সংবাদটি প্রচার করেছিলেন।
পেনা বলেন, “মেসি পরিবারের এই কঠিন সময়ে এমন বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য আমি লজ্জিত। আমি এর দায়ভার গ্রহণ করছি এবং লুজু টিভি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি”।
অন্যদিকে লুজু টিভির প্রতিষ্ঠাতা নিকো ওচিয়াটো জানিয়েছেন, কোনো তথ্য যাচাই না করে এমন স্পর্শকাতর সংবাদ প্রচার করা অগ্রহণযোগ্য। এই ভুলের দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রোডাকশন কর্মীদের বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পেনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি পেনাকে ‘নিচুতলার গুজব রটনাকারী’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং দায়িত্বহীন সাংবাদিকতার কঠোর সমালোচনা করেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পর মেসিকে আবেগপ্রবণ হয়ে কাঁদতে দেখা গিয়েছিল।
ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকারে মেসি জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত কিছু কারণে তিনি মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত ছিলেন, তবে তার চোখের জল ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। তখনই মূলত তার বাবার অসুস্থতার বিষয়টি সামনে আসে।