মরক্কো তাদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী ব্রাজিলকে রুখে দিয়েছে। এবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে চায় তারা। ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-তে শুক্রবারের ম্যাচটি হতে যাচ্ছে দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মরক্কোকে হারাতে পারলেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করবে স্কটল্যান্ড।
শুধু তাই নয়, একই দিনে ব্রাজিল যদি হাইতির বিপক্ষে জয় না পায়, তবে গ্রুপসেরার মর্যাদাও নিজেদের করে নিতে পারে স্টিভ ক্লার্কের দল।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে খুব একটা ছন্দে দেখা যায়নি
স্কটল্যান্ডকে। তবে জন ম্যাকগিনের প্রথমার্ধের একমাত্র গোলই পার্থক্য গড়ে দেয়। সেই
১-০ ব্যবধানের জয় স্কটিশদের সামনে এখন ইতিহাস গড়ার সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে পৌঁছতে
পারেনি স্কটল্যান্ড। ফলে মরক্কোর বিপক্ষে এই ম্যাচে জয় তাদের জন্য শুধু তিন পয়েন্ট
নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের সম্ভাবনাও বয়ে আনছে। আগামী ২৪ জুন ব্রাজিলের
বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগেই যোগ্যতা নিশ্চিত করতে মরিয়া থাকবে টার্টান আর্মি।
দুই দলের ইতিহাসও ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। স্কটল্যান্ড ও মরক্কোর মধ্যে এটি মাত্র দ্বিতীয় মুখোমুখি লড়াই। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে তাদের একমাত্র সাক্ষাতে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছিল মরক্কো। প্রায় তিন দশক পর সেই স্মৃতি মুছে দেওয়ার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে স্কটিশরা।
অন্যদিকে, মরক্কো তাদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী ব্রাজিলকে রুখে দিয়ে
দারুণ বার্তা দিয়েছে। ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে গিয়েছিল আটলাস লায়ন্সরা, পরে ভিনিসিয়ুস
জুনিয়রের অসাধারণ গোলে সমতা ফেরায় ব্রাজিল। ১-১ ড্র হলেও মরক্কোর পারফরম্যান্স ছিল
আত্মবিশ্বাস জাগানিয়া।
মোহাম্মদ ওহাবির দল শুক্রবার জিতলেও নকআউট নিশ্চিত করতে পারবে না,
তবে শেষ ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে নামার আগে নিজেদের অবস্থান অনেক শক্তিশালী করে নিতে
পারবে। শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াডের কারণে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই মরক্কোকে
সম্ভাব্য ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, আর ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের প্রদর্শনী
সেই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।
বিশ্বকাপ মঞ্চে মরক্কোর সাম্প্রতিক ইতিহাসও বেশ উজ্জ্বল। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তুলেছিল তারা। শেষ চারে ফ্রান্সের কাছে হেরে গেলেও আফ্রিকার ফুটবলের জন্য নতুন ইতিহাস লিখেছিল আটলাস লায়ন্সরা।
দলীয় খবরের দিকে তাকালে, স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনা
কাফ ইনজুরির কারণে কিছুটা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তবে বাকি খেলোয়াড়রা সুস্থ আছেন। তাই হাইতির
বিপক্ষে জয় পাওয়া একাদশই প্রায় অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা বেশি। আক্রমণে চে অ্যাডামস
ও লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ডকে আবারও দেখা যেতে পারে, আর মাঝমাঠে থাকবেন জন ম্যাকগিন ও
স্কট ম্যাকটমিনে।
অন্যদিকে মরক্কো শিবিরেও নতুন কোনো চোটের খবর নেই। ফলে ব্রাজিলের
বিপক্ষে দারুণ পারফর্ম করা দলটিকেই আবার দেখা যেতে পারে। গ্রীষ্মে নতুন ক্লাবে যোগ
দিতে যাওয়া ইসমাইল সাইবারি আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্রাহিম
দিয়াজ ও নুসাইর মাজরাউইয়ের মতো তারকারাও থাকবেন শুরুর একাদশে।
সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি গ্রুপ ম্যাচ নয়; স্কটল্যান্ডের জন্য ইতিহাস
রচনার সুযোগ, আর মরক্কোর জন্য নিজেদের শক্তির আরও একটি প্রমাণ দেওয়ার মঞ্চ। তাই শুক্রবারের
এই লড়াইয়ে উত্তেজনার কোনো কমতি থাকবে না বলেই মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।