× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

লাল-সবুজের প্রতিনিধি

জার্সি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’

আহমেদ তোফায়েল

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তৈরী জার্সিতে কেপ ভার্দে ফুটবল দল। ছবি: ফোর ফোর টু

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তৈরী জার্সিতে কেপ ভার্দে ফুটবল দল। ছবি: ফোর ফোর টু

ফিফা বিশ্বকাপের মূলপর্বে কখনোই খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। ফলে ৪৮ দলের এবারের টুর্নামেন্টে মাঠের লড়াইয়ে নেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললেও ‘বাংলাদেশ’ নামটা ঠিকই পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপে।

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা পোশাক পড়ে খেলতে দেখা গেছে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দেরÑ যা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য নতুন এক মাইলফলক।

 

গত সোমবার রাতে আমেরিকার আটলান্টায় স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে মাঠে নেমেছিল আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও ড্র হওয়া সেই ম্যাচে কেপ ভার্দের ফুটবলারদের গায়ে ছিল বাংলাদেশের তৈরি জার্সি। ঢাকার তুরাগ এলাকায় অবস্থিত ‘গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেড’ (জিএমএ) নামক একটি কারখানায় এই জার্সিগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক বিশ্বখ্যাত স্পোর্টসওয়্যার প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাপেলি স্পোর্ট’-এর মাধ্যমে ৫ হাজার খেলোয়াড়ের জার্সি সরবরাহ করেছে দেশের এই প্রতিষ্ঠানটি। খেলোয়াড়দের মূল জার্সির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের জন্য আরও ১৩ হাজার ফ্যান জার্সিও রপ্তানি করা হয়েছে, যা স্টেডিয়ামে আগত ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

 

২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করা জিএমএ শুরু থেকেই ক্যাপেলি স্পোর্টের জন্য বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী তৈরি করে আসছে। তবে এবারই প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ আসরে খেলোয়াড়দের জন্য জার্সি তৈরির গৌরব অর্জন করেছে তারা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই জার্সির ক্রয়াদেশ আসে এবং সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মার্চ মাসেই তা কেপ ভার্দেতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

মাঠের পারফরম্যান্সের কথা মাথায় রেখে তৈরি প্রতিটি খেলোয়াড়ের জার্সির রপ্তানি মূল্য ছিল ৮ ডলার। ফুটবলারদের শরীর যাতে ম্যাচ চলাকালীন অতিরিক্ত না ঘামে, সেজন্য ‘কুলম্যাক্স’ নামক বিশেষ ধরনের কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে এই জার্সিতে। এই বিশেষ সুতার কাপড়টি তৈরি করেছে দেশের আরেক অন্যতম শীর্ষ পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইয়ংওয়ান করপোরেশন’।


তৈরি পোশাক খাতে চীনের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে রেখেছে। শুধু ফুটবল নয়, ক্রিকেট বিশ্বকাপসহ বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে ইউরোপের ফুটবল ক্লাবগুলোর তরুণ সমর্থকদের কাছে বাংলাদেশের তৈরি জার্সি এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়।

এই অভাবনীয় সাফল্য সম্পর্কে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, প্রতি চার বছর পর পর বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে দেশে জার্সি রপ্তানির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে বাংলাদেশ কেবল বিশ্বকাপের সময়ই নয়, বরং বছরের প্রতিটি দিনই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জার্সি ও ক্রীড়াসামগ্রী রপ্তানি করে থাকে।

 

তিনি আরও যোগ করেন, বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ এখন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি নাম। কারণ এ দেশের উদ্যোক্তা ও কারখানাগুলোর আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের উচ্চমানের এবং মূল্য সংযোজিত পোশাক তৈরি করার সক্ষমতা রয়েছে।

বিশ্বকাপের মাঠে কেপ ভার্দের ফুটবলারদের গায়ে ঢাকার কারখানায় তৈরি এই জার্সি পরার ঘটনাটি দেশের পোশাক শিল্পের জন্য ইতিবাচক এক বার্তা বহন করে। এটি প্রমাণ করে, সাধারণ পোশাকের পাশাপাশি অত্যন্ত প্রযুক্তিগত ও গুণগত মানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পোশাক তৈরিতেও বাংলাদেশ এখন বিশ্ববাজারে অন্যতম শীর্ষ প্রতিযোগী হিসেবে প্রস্তুত।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা