গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বিশ্বকাপ ফুটবলে দুর্দান্ত সূচনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে হারিয়ে নকআউট পর্বে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন দলটি।
হারিয়েছে আফ্রিকান দল আলজেরিয়াকে, ৩-০ গোলে জয়। তিনটি গোলই করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি অর্থাৎ হ্যাটট্রিক করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। প্রথমার্ধে একটি, দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল করেন তিনি।
বিশ্বকাপ ফুটবলে মেসির এটি প্রথম হ্যাটট্রিক। এ ম্যাচে হ্যাটট্রিকের মাঝ দিয়ে মেসি একাধিক রেকর্ড করেছেন। আর বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা এত দিন ১৬ গোল করে এককভাবে সবচেয়ে বেশি গোল করার কীর্তি উপভোগ করছিলেন। এবার সেখানে যোগ হয়েছে মেসির নাম। ক্লোসাকে দ্বিতীয় স্থানে ঠেলে দেওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। মেসি আর একটা গোল পেলেই তিনি যুগ্মভাবে নয়, এককভাবে শীর্ষে চলে আসবেন।
মেসির হ্যাটট্রিক নিয়ে ভক্তদের উত্তেজনার শেষ নেই। বিশ্বব্যাপী ফুটবলপ্রেমীরা মেসি বন্দনায় মেতেছেন। তবে মেসির হ্যাটট্রিক আর্জেন্টাইনদের জন্য একটা ‘অশুভ’ বিষয়ও রয়েছে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইনদের হ্যাটট্রিক মানে ভালো না করার একটা ইঙ্গিত। বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইনদের এটা পঞ্চম হ্যাটট্রিক। এর আগে বিশ্বকাপে তিন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় চারটি হ্যাটট্রিক করেছেন। প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন গুইলেরমো স্ট্যাবিলে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে তিনি হ্যাটট্রিক করেছিলেন। পরের হ্যাটট্রিকের জন্য আর্জেন্টাইনদের ৬৪ বছর অপেক্ষা করতে হয়। গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ১৯৯৪ সালে গ্রিসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন, এটি দ্বিতীয়। পরের আসরে অর্থাৎ ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আবার হ্যাটট্রিক করেন বাতিস্তুতা। এবার প্রতিপক্ষ জ্যামাইকা। ২০১০ সালে আর্জেন্টিনা দেখা পায় চতুথ হ্যাটট্রিকের। গঞ্জালো হিগুয়াইন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এই কৃতিত্ব দেখান। চারটি হ্যাটট্রিকই হয়েছিল গ্রুপ পবে। এই চার হ্যাটট্রিকের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা একবারও বিশ্বকাপ জয় করতে পারেনি।
এ সময়ে ১৯৩০ সালে আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হয়। ১৯৯৪ সালে রাউন্ড অব
সিক্সটিন, ১৯৯৮ সালে কোয়াটার ফাইনাল, ২০১০ সালে কোয়াটার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়। মেসিও
হ্যাটট্রিক করেছেন গ্রুপ পবের ম্যাচে। সে হিসেবে গ্রুপ পর্বে আজেন্টাইনদের হ্যাটট্রিক
কখনোই শুভ ফল বয়ে আনেনি। তবে আগের আসরে যারা হ্যাটট্রিক করেছেন তাদের কেউ অধিনায়ক ছিলেন
না। মেসি দলের অধিনায়ক এবং প্রাণভোমরা। নিজের দায়িত্ব কীভাবে পালন করতে হয়, তা ভালোভাবেই
জানেন তিনি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে কাঁধে পাহাড়সম ভার নিয়ে তিনি দেশকে বিশ্বকাপ এনে
দেন। এবার অনেকটা নির্ভার মেসি। যার প্রমাণ প্রথম ম্যাচেই দিয়েছেন, হ্যাটট্রিক করে।
কোনো চাপ নেই, মনের আনন্দে খেলার সময় এখন মেসির। অথচ এই বিশ্বকাপে খেলবেন কি না টুর্নামেন্ট
শুরুর দিন কয়েক আগেও সন্দেহ ছিল। মেসিভক্তরা স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। অবশেষে কোচ লিওনেল
স্ক্যালোনি দল ঘোষণার পরই মেসি ভক্তদের মন থেকে আশঙ্কা দূর হয়। স্বস্তি পায় তারা। প্রথম
ম্যাচে মেসি ভক্তদের সেই ভালোবাসার প্রতিদানও দিয়েছেন।