ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হলেও পাওয়ারপ্লের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ছবি: বিসিবি
চট্টগ্রামে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার স্পিন আক্রমণের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া।
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। চোটের কারণে লিটন না থাকায় অধিনায়কের দায়িত্ব সামলান তাওহিদ হৃদয়। ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হলেও পাওয়ারপ্লের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান উভয়ই ১০ রান করে ফিরলে চাপ আরও বাড়ে। অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ছক্কা দিয়ে শুরু করলেও ৮ রান করে বিদায় নেন।
সৌম্য সরকার, পারভেজ হোসেন ইমন, শামীম হোসেন এবং অভিষিক্ত আব্দুল গাফফার সাকলাইনও ব্যাট হাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। দলীয় ১০৮ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। শেষ উইকেটে শেখ মেহেদি হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান ২৩ রান যোগ করে দলকে কিছুটা লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। শেখ মেহেদি ২২ বলে অপরাজিত ২৯ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১৩১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখান অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা ও অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিস। দুজনেই নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। এ ছাড়া ম্যাট রেনশ দুটি উইকেট নেন।
১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জশ ইংলিসের উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তবে কুপার কনোলির ঝড়ো ব্যাটিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি ২৭ বলে ৪৭ রান করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন। অধিনায়ক মিচেল মার্শ ১৩ রান করে আউট হলেও টিম ডেভিড ২০ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বাংলাদেশের বোলাররা মাঝেমধ্যে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও অস্ট্রেলিয়াকে বড় চাপে ফেলতে পারেননি। অভিষিক্ত সাকলাইন দুটি উইকেট নেন। এ ছাড়া শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদি একটি করে উইকেট শিকার করেন। শেষ পর্যন্ত ১৮.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। একই মাঠে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি। সিরিজে সমতা ফেরাতে সেই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। সিরিজের পরের ম্যাচ একই মাঠে শুক্রবার।