ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ এ পর্তুগাল দল। ছবি: এফপিএফ
বিশ্বকাপ ফুটবলে অনেকবারই ফেভারিটের মর্যাদা নিয়ে মাঠে নেমেছিল পর্তুগাল।
কিন্তু শিরোপা জেতা তো দূরে থাক, একটিবারের জন্যও ফাইনালে উঠতে পারেনি তারা। ইউসেবিও, লুইস ফিগোরা শিরোপার স্বাদ পাননি, এর আগে পাঁচ পাঁচবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও পূর্বসূরীদের পথেই হেঁটেছেন গত দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলকে মাতিয়ে রাখা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর এটাই শেষ রণক্ষেত্র। লিওনেল মেসির মতোই রোনালদোও শিরোপা উঁচিয়ে ধরবেনÑ এই স্বপ্ন নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযাত্রা শুরু করছে পর্তুগাল। আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টনে ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে রোনালদোদের মুখোমুখি হবে বিশ্ব ফুটবলে অপেক্ষাকৃত অচেনা আফ্রিকার দেশ গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো।
বিশ্ব ফুটবলে পর্তুগালের সমৃদ্ধ ইতিহাসের
তুলনায় কঙ্গো কোনো হিসাবেই আসে না। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে পর্তুগাল ৫ নম্বরে এবং কঙ্গো
অবস্থান ৪৬ নম্বরে। একটা দল দেখছে শিরোপার স্বপ্ন আর কঙ্গো ৫২ বছর পর এসেছে বিশ্বকাপের
মূলমঞ্চে। কিন্তু বিশ্বকাপে প্রথম পরীক্ষায় বড় দলগুলোর হোঁচটা খাওয়ার ঘটনা প্রায় নিয়মিত।
দুদিন আগেই স্পেনকে রুখে দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কেপভার্দে।
তাই সতর্ক হয়েই শুরু করতে হচ্ছে জায়ান্টদের।
এবারের আসর রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপকে রাঙানোর এক ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ পর্তুগিজ শিবিরের জন্য। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ ছাড়া বিশ্ব ফুটবলের সব বড় শিরোপাই জিতেছেন সি আর সেভেন। শুধু ব্যক্তি রোনালদো নয় বরং বিশ্বকাপ ট্রফি রোনালদো প্রজন্মের শেষ স্বপ্নও বটে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কোচ মার্তিনেস তারুণ্য-অভিজ্ঞতার মিশেলে সাজিয়েছেন দলকে।
গোলবারের প্রহরী হিসেবে আশার আলো এফসি পোর্তোর দিয়াগো কস্তা। এবারের পর্তুগিজ লিগে ৩৩ ম্যাচে অংশ নিয়ে ১৯ ম্যাচে দলকে ক্লিনশিট রাখেন এই গোলকিপার। রক্ষণে পর্তুগালের অন্যতম ভরসা দুই ফুলব্যাক জোয়াও ক্যানসেলো ও নুনো মেন্ডেস। মধ্যমাঠে অভিজ্ঞ ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নাডো সিলভার সঙ্গে আছেন জোয়াও নেভেস। এবারের আসরের অন্যতম জমাট মধ্যমাঠ নিয়েই এসেছে পর্তুগিজ শিবির। আক্রমণভাগে পর্তুগিজ রোনালদো পাশে পাচ্ছেন জোয়াও ফেলিক্স, ফাক্রোস কনতেতাও, পেদ্রো নেতো, গনসালো রামোসকে। দলটির একাধিক ফুটবলারের আছে সদ্য সমাপ্ত চ্যাম্পিয়ন লিগ ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতাÑ যা বাড়তি প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
গত দুই দশক ধরে দুটি নামকে ঘিরে আচ্ছন্ন
হয়ে আছে বিশ্ব। বলা বাহুল্য একজন মেসি আর অন্যজন রোনালদো। ২০২২ বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে
স্থায়ী হয়ে গেছে মেসির নাম। রোনালদো তথা রোনালদো ভক্তদের জন্য তাই বিশ্বকাপ শিরোপা
হয়ে উঠেছে এক স্বপ্নপূরণের দাবি। স্বভাবতই নিজের সবটুকু নিংড়ে দিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফিটা
উঁচিয়ে ধরতে চাইবেন রোনালদো। সেই সঙ্গে পর্তুগালের সোনালি প্রজন্মের বিশ্বকাপ ট্রফি
না জেতার শাপমোচনের সুযোগ সি আর সেভেন ও তার সতীর্থদের।
বর্তমানে সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে খেলছেন রোনালদো। বয়স, ফর্ম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও এবারের লিগে তার পারফরম্যান্স যথেষ্টই উজ্জ্বল। ২৯ ম্যাচে ২৫২৩ মিনিট খেলে করেছেন ২৬ গোল ২ অ্যাসিস্ট। দেশের হয়ে ২২৬ ম্যাচে ১৪৩ গোল করেছেন রোনালদো আছেন আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে। তবে তার এই অর্জনের বিশালতার ছাপ দেখা যায়নি বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২২ ম্যাচ খেলে করেছেন ৮ গোলÑ যা কোনোভাবেই তার নামের সঙ্গে মানানসই নয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নক-আউট পর্বে তার গোল না পাওয়া।
রোনালদোর জ্বলে ওঠার সঙ্গে যদি গোটা
টিম একাত্ম হয়ে উঠতে পারেÑ তবে ঘটতে পারে নতুন ইতিহাস। গত বিশ্বকাপে মেসির জন্য তার
সতীর্থরা যেমন সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন, তেমন কিছুই করতে হবে রোনালদোর সতীর্থদের। সেই
কথায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার দিয়োগো দালোত। বিশ্বকাপ জিতে রোনালদোর
ফুটবল ক্যারিয়ারের সুন্দর সমাপ্তির জন্য সবরকম চেষ্টাই তারা করবেন বলে, জোর গলায় জানিয়েছেন
এই ডিফেন্ডার।
পর্তুগালের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলতে
গিয়ে দলের রাইট ব্যাক ম্যাথিউস নুনেস বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ গতিসম্পন্ন প্রতিযোগিতা।
এখানে ভুলের সুযোগ খুবই কম। সব কয়েকটি দলই সমান শক্তিশালী। ফলে প্রত্যেকটি ম্যাচ
আমাদের ফাইনাল ভেবে খেলতে হবে।’
পর্তুগাল ৪-৩-৩ ফর্মেশনে খেলবে বলে
আশা করা হচ্ছে। আক্রমণ গড়ার কাজে থাকবেন দুই ফুলব্যাক ক্যানসেলো এবং নুনো মেন্ডেস।
এ দুজন শুধু ডিফেন্ডারের ভূমিকাই পালন করেন না, বরং সত্যিকারের উইং মিডফিল্ডার হিসেবে
সামনে এগিয়ে যান।
শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে ৫-৩-২
রক্ষণাত্মক কৌশল সাজাতে পারে কঙ্গো। মাঝমাঠের জায়গা সংকুচিত করে রোনালদোদের আটকে রাখা
এবং সুযোগ পেলে কাউন্টার অ্যাটাকের জন্য অপেক্ষা করা। শিষ্যদের কাছ থেকে সর্বোচ্চটাই
প্রত্যাশা করছেন কঙ্গোর কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। বলেছেন, ‘আমরা পরিস্থিতির সঙ্গে
ভালোভাবে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছি। আমাদের কাছে সেরা সুযোগ রয়েছে। প্রতিযোগিতায় নিজেদের
সেরাটা মেলে ধরার দায়িত্ব দলের সবাইকেই নিতে হবে।’