কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। ছবি: গেটি ইমেজেস
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিলেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে দলকে ০-০ গোলের মূল্যবান ড্র এনে দেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার। ম্যাচ শেষে সতীর্থদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন তিনি।
সোমবারের ম্যাচে অধিকাংশ সময় নিজেদের অর্ধেই রক্ষণাত্মক অবস্থানে ছিল কেপ ভার্দে। স্পেন একের পর এক আক্রমণ চালালেও প্রতিবারই প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান ভোজিনহা। বিশেষ করে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ফেরান তোরেস, পেদ্রি এবং আইমেরিক লাপোর্তের নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন কেপ ভার্দের এই বয়স্ক গোলরক্ষক।
তবে ‘ভোজিনহা’ তার আসল নাম নয়। তার প্রকৃত নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। শৈশবে বাবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকায় এবং মা ব্যস্ত থাকায় দাদা-দাদির কাছেই বড় হয়েছেন তিনি। সেখান থেকেই পাওয়া ‘ভোজিনহা’ নামটি, যার অর্থ পর্তুগিজ ভাষায় ‘ছোট্ট দাদি’।
কেপ ভার্দের সাও ভিসেন্তে দ্বীপে জন্ম নেওয়া এই গোলরক্ষক দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। নিজ দেশের বাতুকে এফসি ও সিএস মিন্ডেলেন্সে দিয়ে যাত্রা শুরু করে তিনি খেলেছেন অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, পর্তুগাল, সাইপ্রাস ও স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে। বর্তমানে তিনি পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেসের হয়ে খেলছেন।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ভোজিনহা বলেন, ‘আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা বড় সম্মানের। আমি খুবই গর্বিত।’
কেন কেঁদেছিলেন—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তার সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল দাদা-দাদির, যারা কয়েক বছর আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার দাদা-দাদির কাছেই বড় হয়েছি। তারা আমার জীবনের জন্য সবকিছু করেছেন। আজ তারা বেঁচে থাকলে এই মুহূর্তটি দেখতে পারতেন।’
আরও একটি আক্ষেপও প্রকাশ করেন এই গোলরক্ষক। তার মা ভিসা জটিলতার কারণে মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম মা এখানে থাকুক, কিন্তু সময়মতো ভিসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।’
মাঠের পারফরম্যান্সের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঝড় তুলেছেন ভোজিনহা। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা কয়েক লাখ থেকে কয়েক মিলিয়নে পৌঁছে যায়।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এই গোলরক্ষকের প্রশংসা করেছেন ফুটবল বিশ্বের তারকারাও। ফরাসি মিডফিল্ডার পল পগবা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘কেপ ভার্দের গোলরক্ষক সত্যিই অসাধারণ!’
স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে রুখে দিয়ে ভোজিনহা শুধু ম্যাচসেরা হননি, বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত মুখেও পরিণত হয়েছেন। ৪০ বছর বয়সে এসে তিনি যেন লিখলেন নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ফুটবল রূপকথা।