লিওনেল মেসি। ছবি: আল-জাজিরা
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে বুধবার সকালে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি। তার বাহুতে থাকবে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড, দলীয় তালিকার প্রথম নামও হবে তার। ম্যাচের আগে ক্যামেরার চোখও অনুসরণ করবে তাকে। কিন্তু এই আর্জেন্টিনা দলে মেসির পরিচয় এখন আর শুধু অধিনায়কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
তিনি এখন একটি প্রজন্মের অনুপ্রেরণা, সংগ্রামের প্রতীক এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অর্জিত সাফল্যের জীবন্ত উদাহরণ।
আর্জেন্টিনায় ফুটবল শুধু মাত্র একটি খেলা নয়, এটি এক ধরনের বিশ্বাস। দেশের জাতীয় জার্সি গায়ে তোলা মানে কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বহন করা। সেই ইতিহাসে অসংখ্য নায়ক এসেছেন, কিংবদন্তি হয়েছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেসি শুধু সেই গল্পের একটি চরিত্র হয়ে থাকেননি- তিনি হয়ে উঠেছেন পুরো গল্পের কেন্দ্রবিন্দু।
আজ যারা আর্জেন্টিনা দলে খেলছেন, তাদের অনেকেই বড় হয়েছেন মেসির উত্থান-পতন দেখে। তারা দেখেছেন কোপা আমেরিকার ফাইনালে একের পর এক হতাশা। দেখেছেন সমালোচকদের প্রশ্ন-মেসি আদৌ কি নিজের দেশকে যথেষ্ট ভালোবাসেন? দেখেছেন ২৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে ভেঙে পড়া এক মহাতারকাকে। তারপর তারা দেখেছেন তার প্রত্যাবর্তন। দেখেছেন ২০২১ সালে বহু প্রতীক্ষিত কোপা আমেরিকা জয়। দেখেছেন কাতার বিশ্বকাপে স্বপ্নপূরণ। পরাজয়, সমালোচনা, হতাশা আর প্রত্যাবর্তনের এই দীর্ঘ যাত্রাই আজকের মেসিকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
বর্তমান আর্জেন্টিনা দলকে দেখলে মনে হয় না তারা শুধু একজন অধিনায়কের নির্দেশ মেনে খেলছে। বরং তারা যেন একটি উত্তরাধিকার রক্ষা করছে। জুলিয়ান আলভারেজের অবিশ্রান্ত প্রেসিং, রদ্রিগো ডি পলের প্রতিটি মিডফিল্ড লড়াই কিংবা এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুর্দমনীয় মানসিকতা-সবকিছুর মধ্যেই যেন ফুটে ওঠে এক গভীর দায়বদ্ধতা। এই দল জানে তারা কার পাশে দাঁড়িয়ে খেলছে, আর সেই মানুষটি কতটা পথ পাড়ি দিয়ে এখানে পৌঁছেছেন।
কখনও কখনও মনে হয়, তারা শুধু আর্জেন্টিনার জন্য খেলছে না। তাদের ভেতরের এক নীরব অংশ হয়তো খেলছে সেই মানুষটির জন্যও, যিনি প্রায় দুই দশক একাই এই দলের আশা-নিরাশার ভার বহন করেছেন। এই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপ মেসির আগের সব বিশ্বকাপ থেকে আলাদা।
একসময় আর্জেন্টিনার সবকিছুই ঘুরপাক খেত তাকে ঘিরে। জয়-পরাজয়, আশা-নিরাশা, চাপ ও প্রত্যাশা-সবকিছু এসে জমা হতো একটি মানুষের কাঁধে। দেশের আনন্দ যেন নির্ভর করত তার একটি মুহূর্তের জাদুর ওপর। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে।
এই বিশ্বকাপ চলাকালেই মেসির বয়স হবে ৩৯। স্বাভাবিকভাবেই তার শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এখন আর মেসির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়।
এই দল মেসির কাছে অলৌকিক কিছু চায় না। তারা শুধু চায় তিনি মাঠে থাকুন। প্রয়োজনের মুহূর্তে একটি অনুপ্রেরণামূলক স্পর্শ, একটি দৃষ্টি কিংবা তার উপস্থিতির মানসিক শক্তিটুকুই অনেক।