এমবাপে ও সাদিও মানে। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
২০০২ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে যে অবিস্মরণীয় ইতিহাস তৈরি করেছিল সেনেগাল, ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সেই সুখস্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাইছে তারা।
‘আই’ গ্রুপের উদ্বোধনী ম্যাচে মঙ্গলবার ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে সেনেগাল। দুই যুগ আগে তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ‘লে ব্লু’দের ১-০ গোলে স্তব্ধ করে দিয়েছিল আফ্রিকার সিংহরা, যা ফরাসিদের আসর থেকে দ্রুত বিদায়ের পথ তৈরি করেছিল। যদিও আজকের এই ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করতে গিয়ে অনেক ভক্তই ফরাসিদের পক্ষে ভোট দিচ্ছেন।
২০২২ সালের রানার্সআপ হওয়ার
ক্ষত ভুলে এবং কোচ দিদিয়ের দেশমকে সর্বোচ্চ সাফল্যের মুকুট পরিয়ে বিদায় জানাতে ফরাসি
দলটি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। খেলোয়াড় এবং কোচ-উভয় ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়া একমাত্র
জীবিত ব্যক্তি হলেন দেশম। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষেই তিনি তার এই হটসিট ছেড়ে দেবেন জিনেদিন
জিদানের হাতে। তবে বিদায়ের আগে এই আসরেই তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোচ হিসেবে সবচেয়ে
বেশি ম্যাচ জয়ের সর্বকালীন রেকর্ডটি ভেঙে দিতে পারেন। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৪টি ম্যাচ
জিতেছেন দেশম। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই জিততে পারলে তিনি হেলমুট শনের গড়া সর্বোচ্চ
১৬ ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটি ছাড়িয়ে যাবেন, যদিও কাজটা মুখের কথার মতো সহজ হবে না।
গত সাতটি টুর্নামেন্টের চারটিতেই
ফাইনাল খেলেছে ‘লে ব্লু’রা। ৪ জুনের প্রীতি ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে হেরে
যাওয়ায় ফ্রান্সের ফেভারিট তকমা নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে এর চার দিন পরেই
মাইকেল অলিসের জাদুতে উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কক্ষপথে ফেরে তারা। এর
অর্থ হলো, নিজেদের শেষ ১০টি ম্যাচের ৯টিতেই একাধিক গোল করেছে ফরাসিরা।
অন্যদিকে, বাছাইপর্বে একটি
ম্যাচেও না হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে পা রাখল সেনেগাল। রাশিয়া বিশ্বকাপে
গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর ২০২২ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে ছিটকে গিয়েছিল তারা।
দুই বিশ্বকাপ অভিযানের মাঝে ২০২১ সালে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস ট্রফি ঘরে তোলে ‘তেরাঙ্গার
সিংহ’রা। কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট যদি মরক্কোর পক্ষে যাওয়া আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের
ঐতিহাসিক রায়টি বাতিল করে দেয়, তবে ২০২৫ সালের আসরেও তারা মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের দাবি
করতে পারবে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাপে থিয়াওয়ের
শিষ্যরা প্রীতি ম্যাচে পেরু ও গাম্বিয়াকে হারিয়েছে। তবে বিশ্বকাপের আগে তাদের প্রস্তুতিটা
খুব একটা ভালো হয়নি; সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩-২ গোলে হারার পর সৌদি আরবের সাথে
গোলশূন্য ড্র করেছে তারা। সৌদি আরবের বিপক্ষে এই ড্রয়ের ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে
সেনেগালের টানা ১৭ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড ভেঙে গেছে। তবে এটি তাদের শেষ ৭ ম্যাচের
মধ্যে পঞ্চম ‘ক্লিন শিট’, যা রক্ষণভাগের শক্তির প্রমাণ দেয়। তা ছাড়া সেনেগালের প্রধান
কোচের মনে বিশ্বকাপ মঞ্চে ফ্রান্সকে নিয়ে রয়েছে দারুণ সব মধুর স্মৃতি। ২৪ বছর আগে সিউলে
ফ্রান্সকে হারিয়ে দেওয়া সেনেগাল স্কোয়াডের অন্যতম সদস্য ছিলেন থিয়াও। যদিও প্রয়াত পাপা
বুবা দিওপের করা একমাত্র জয়সূচক গোলটি তাকে সাইডবেঞ্চে বসেই দেখতে হয়েছিল।
এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ
ও স্পটলাইট থাকবে দুই দলের দুই বিশ্বসেরা মহাতারকার ওপরÑ ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে
এবং সেনেগালের সাদিও মানে। ফুটবল বিশ্বের এই দুই ‘আইকন’ নিজ নিজ দেশের আক্রমণভাগের
মূল চালিকাশক্তি।
অলিভিয়ের জিরুদের ৫৭ গোলের
রেকর্ড ছুঁতে মাত্র ১ গোল দূরে থাকা এমবাপের দিকে তাকিয়ে থাকবে পুরো ফ্রান্স। তার অবিশ্বাস্য
গতি ও ড্রিবলিং ফরাসিদের প্রধান অস্ত্র। কোচ দেশমকে জয় দিয়ে পক্ষান্তরে চোটের কারণে
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ মিস করা সাদিও মানের জন্য এটি এক আবেগের মঞ্চ। সেনেগালের
সর্বকালের সেরা এই ফরোয়ার্ড ও গোলস্কোরার (৫৫ গোল) এবার সম্পূর্ণ ফিট। ২০০২ সালের ঐতিহাসিক
জয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে এবং ফ্রান্সের বিশ্বমানের ডিফেন্স ভাঙতে সেনেগালের একমাত্র
ভরসা মানের পায়ের জাদু।
মাঠে এই দুই পিএসজি ও লিভারপুলের
সাবেক সতীর্থের (ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের নিরিখে) দ্বৈরথ ম্যাচটিকে এক অন্য মাত্রা দেবে।
কার পারফরম্যান্স দলকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট এনে দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ফ্রান্সের সম্ভাব্য
একাদশ: মাইনান, কুন্দে, সালিবা, উপামেকানো, টি হার্নান্দেজ,
চুয়ামেনি, রাবিও, অলিস, দুয়ে, এমবাপে, দেম্বেলে।
সেনেগালের সম্ভাব্য
একাদশ: মেন্ডি, দিয়াত্তা, কুলিবালি, নিয়াকাহাতে, দিউফ, কামারা,
পি গেয়ি, সার, দিয়ারা, মানে, জ্যাকসন।