প্রব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
জয়ের পর ট্রফি উৎসব করছেন টাইগাররা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
হলো না বাংলাদেশের! হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া ম্যাচটা আবার হাতের মুঠোয় নিয়েও জিততে পারল না বাংলাদেশ। শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৩ রান, বাংলাদেশের ১ উইকেট।
প্রথম বলে সিঙ্গেল নিলেন মেরেডিথ, স্ট্রাইকে এলেন জাম্পা। পরের বল ডট। তাসকিনের করা তৃতীয় বলে চার মেরে জাম্পা এনে দিলেন ১ উইকেটের জয়। তবে সিরিজ জয়টা আগেই নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশের, অস্ট্রেলিয়া পেল শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয়। অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সে সিরিজসেরা হয়েছেন মোসাদ্দেক।
মিরপুরে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানকে চড়াও হয়ে প্রথম চার ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেয় সফরকারীরা। তখনই আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করেন শরিফুল। নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিস ও ম্যাট রেনশোকে ফিরিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার।
পরে তাসকিন আহমেদ অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে দিলে ম্যাচে ফেরার আশা দেখে বাংলাদেশ। তবে এরপর কুপার কনোলি ও মার্নাস লাবুশেন ৬৪ রানের জুটি গড়েন। লাবুশেন ধীরগতিতে খেললেও কনোলি ছিলেন আগ্রাসী। চার-ছক্কায় রানের চাকা সচল রেখে ৫১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার। অর্ধশতকের পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন কনোলি। মাত্র ৮৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই তরুণ ব্যাটার।
গ্রিন ২৭ রান করে ফিরলেও ততক্ষণে ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার মুঠোয়। পরে ১৯ বছর বয়সী অলিভার পিকও ২৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। শেষদিকে অবশ্য একাই লড়াই চালিয়ে যান শরিফুল। পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জাভিয়ার বার্টলেটকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের দেখা পান তিনি। এরপর আরও একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচে মোট ৬ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি এই পেসার। শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ের দিনে অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪৯.৩ ওভারেই ৯ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম একাই নেন ৬ উইকেট। এ ছাড়া তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ৬১ রানে ৩ উইকেটে হারায়। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৪ ও তানজিদ হাসান তামিম ১৯ রান করলেও সৌম্য সরকার বিদায় নেন ২ রানে। তবে চাপ সামলে সেখান থেকে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয় বাংলাদেশের যে ৩ জন ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন, তা বুঝতেই দেননি। নিরবচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশের রান একশ পার করেন তারা। লিটন দলীয় ১৫৩ ও ব্যক্তিগত ৪৮ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হন। ড্রেসিংরুমে বসে তিনি দেখেছেন সৈকত ও হৃদয়ের জুটি। হৃদয় ৮৩ রান করে বেন ডারশুইসের ওভারে ক্যাচ দেন আলেক্স ক্যারেকে। ৮৮ বলের ইনিংসে ৮টি চার হাঁকান তিনি। শেখ মেহেদী ৩ রানে ফিরলে লিটন ফের মাঠে নামেন। ফেরার পর ৫ বল খেলে মিরপুরের অভিশাপ কাটান তিনি।
ওয়ানডেতে হোমগ্রাউন্ডে তার কোনো হাফসেঞ্চুরি ছিল না। এদিন অপরাজিত থাকেন ৭৮ বলে ৫৮ রান করে। ৫১ বলে ৫৬ রানে অপরাজিত থাকা সৈকত ৫টি চারের পাশাপাশি একটি ছয় হাঁকান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ২৭৪/৫ অস্ট্রেলিয়া : ৪৯.৩ ওভারে ২৭৭/৯ অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জয়ী ৩ ম্যাচের সিরিজ বাংলাদেশ ২ অস্ট্রেলিয়া ১ |