বিবিসি স্পোর্টের দৃষ্টিতে/
শুধু পরিসংখ্যান নয়, বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের প্রভাব, নেতৃত্ব, স্মরণীয় পারফরম্যান্স এবং ফুটবল ইতিহাসে তাদের উত্তরাধিকার বিবেচনায় এই বিশেষ র্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়েছে। গ্রাফিক্স: বিবিসি স্পোর্ট
ফুটবলের সর্বোচ্চ মর্যাদার আসর ফিফা বিশ্বকাপ। প্রায় এক শতাব্দীর বর্ণাঢ্য ইতিহাসে এই মহাযজ্ঞ অতিক্রম করেছে ২২টি রোমাঞ্চকর অধ্যায়, যেখানে জন্ম নিয়েছেন অসংখ্য কিংবদন্তি।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সেরা কে? ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এই বিতর্কের শেষ নেই। প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে খেলার ধরন, কিন্তু ‘সেরা’র প্রশ্নটি আজও সমানভাবে আলোচিত।
এই চিরন্তন বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিতে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও কিংবদন্তিতুল্য ১০ ফুটবলারের একটি বিশেষ তালিকা প্রকাশ করেছে ‘বিবিসি স্পোর্ট’। ব্রিটিশ এই গণমাধ্যম শুধু পরিসংখ্যান নয়, বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের প্রভাব, নেতৃত্ব, স্মরণীয় পারফরম্যান্স এবং ফুটবল ইতিহাসে তাদের উত্তরাধিকার বিবেচনায় এনে তৈরি করেছে এই বিশেষ র্যাঙ্কিং।
দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপের মহাকাব্যিক ইতিহাসে কারা জায়গা করে নিয়েছেন সর্বকালের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০ কিংবদন্তির তালিকায়।
পেলে (ব্রাজিল): ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ৩টি বিশ্বকাপ (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০) জয়ের অবিস্মরণীয় রেকর্ড। মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বমঞ্চে পা রেখেই পেলের পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছিল গোটা দুনিয়া।
ডিয়েগো ম্যারাডোনা (আর্জেন্টিনা): ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে একক নৈপুণ্যে বিশ্বকাপ এনে দেওয়া। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক ম্যাচেই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ৫ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’।
রোনালদো নাজারিও (ব্রাজিল): ইনজুরির অন্ধকার কাটিয়ে ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে পঞ্চম শিরোপা এনে দেওয়া। ১৯৯৮ সালের ফাইনালের ট্র্যাজেডি ভুলে ২০০২ আসরে একাই ৮ গোল করে টুর্নামেন্ট নিজের করে নেওয়া।
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মুকুট পুনরুদ্ধার। পুরো টুর্নামেন্টে ৭ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট এবং এক অনন্য জাদুকরি অধিনায়কত্বে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ।
ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (জার্মানি): খেলোয়াড় ও কোচ উভয় ভূমিকাতেই জার্মানিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার বিরল গৌরব। ১৯৭৪ সালে মাঠের অধিনায়ক (খেলোয়াড়) হিসেবে এবং ১৯৯০ সালে ডাগআউটের মাস্টারমাইন্ড (কোচ) হিসেবে ট্রফি জয়।
কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স): তরুণ বয়সেই বিশ্ব ফুটবলে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার। ২০১৮ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২২ সালের ফাইনালের শ্বাসরুদ্ধকর মঞ্চে হ্যাটট্রিক।
জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স): ফরাসি ফুটবলের সোনালি প্রজন্মের মূল কাণ্ডারি। ১৯৯৮ ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া হেডে ফ্রান্সকে প্রথম শিরোপা উপহার, আর ২০০৬ ফাইনালে সেই বিখ্যাত ‘হেডবাট’ বা ঢুস মেরে লাল কার্ডের ট্র্যাজেডি।
পাওলো রোসি (ইতালি): ফিক্সিংয়ের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নাটকীয়ভাবে ইতালির ত্রাতা হয়ে ওঠা। ১৯৮২ বিশ্বকাপে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকসহ ৬ গোল করে একই সাথে বিশ্বকাপ, গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল জয়।
কাফু (ব্রাজিল): ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৩টি বিশ্বকাপের ফাইনাল (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২) খেলার অনন্য কীর্তি। ২০০২ সালে অধিনায়ক হিসেবে সেলেসাওদের হয়ে সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরা।
জিওফ হার্স্ট (ইংল্যান্ড): ইংল্যান্ডকে তাদের ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়া।
১৯৬৬ সালের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে তার অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিক, যা আজও ইংলিশ ফুটবলের শেষ কথা।