মিরপুরে মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ১১তম ওভারে অজি অধিনায়ক জশ ইংলিসকে আউট করার পর আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তার দিকে এগিয়ে যান নাহিদ রানা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে আইসিসির আচরণবিধির লেভেল-১ ভঙ্গ করায় টাইগার পেসার নাহিদ রানাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
আইসিসি আন্তর্জাতিক ম্যাচ রেফারিদের প্যানেলের সদস্য প্রকাশ ভাট বুধবার এই শাস্তির প্রস্তাব দেন।
এদিকে নিজের অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নিয়েছেন নাহিদ। ফলে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।
আইসিসি বলছে, নাহিদের বিরুদ্ধে আইসিসি আচরণবিধির ২.৫ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এই ধারাটি কোনো ব্যাটারকে আউট করার পর এমন ভাষা, অঙ্গভঙ্গি বা আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা তাকে অপমান করে বা আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে।
এ ঘটনায় নাহিদের শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ডে আরও একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হয়েছে। গত ২৪ মাসে এটি তার দ্বিতীয় অপরাধ হওয়ায় তার মোট ডিমেরিট পয়েন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই।
ঘটনাটি ঘটে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ১১তম ওভারে। অজি অধিনায়ক জশ ইংলিসকে আউট করার পর নাহিদ রানা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তার দিকে এগিয়ে যান এবং এমন ভাষা ব্যবহার করেন, যা ব্যাটারের কাছ থেকে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারত।
পরবর্তীতে মাঠের আম্পায়ার অ্যালেক্স ওয়ার্ফ ও গাজী সোহেল, থার্ড আম্পায়ার আহসান রাজা এবং ফোর্থ আম্পায়ার মোরশেদ আলী খান তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।
লেভেল-১ অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন শাস্তি হলো আনুষ্ঠানিক তিরস্কার। এছাড়া সর্বোচ্চ ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা এবং এক বা দুটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হতে পারে।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় ২৪ মাসের মধ্যে চার বা তার বেশি ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে সেগুলো সাসপেনশন পয়েন্টে রূপান্তরিত হয় এবং তাকে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়।
দুই সাসপেনশন পয়েন্টের শাস্তি হিসেবে একজন ক্রিকেটারকে একটি টেস্ট ম্যাচ অথবা দুটি ওয়ানডে কিংবা দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।
ডিমেরিট পয়েন্ট আরোপের তারিখ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত খেলোয়াড় বা সাপোর্ট স্টাফের শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ডে বহাল থাকে। এই সময়সীমা শেষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিমেরিট পয়েন্ট মুছে যায়।