ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
মাছুম বিল্লাহ
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
ফাইল ছবি
বিশ্বকাপ
মানেই স্বপ্ন, আবেগ, নাটকীয়তা আর নতুন ইতিহাস। চার বছর পরপর ফুটবলের মহাযজ্ঞে কোটি কোটি চোখ আটকে থাকে কয়েকজন বিশেষ ফুটবলারের দিকে যারা এক মুহূর্তের জাদুতে বদলে দিতে পারেন ম্যাচের ভাগ্য, লিখতে পারেন নতুন কাব্য, কিংবা পূরণ করতে পারেন বহুদিনের অপূর্ণ স্বপ্নও। ২০২৬ বিশ্বকাপও এর ব্যতিক্রম নয়। উত্তর আমেরিকার মাটিতে বসতে যাওয়া এই মহারণে একদিকে থাকবেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার ও লুকা মদরিচের মতো কিংবদন্তিরা, যাদের জন্য এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপের মঞ্চ। অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপে, লামিন ইয়ামাল, জামাল মুসিয়ালা ও আর্লিং হলান্ডদের মতো নতুন প্রজন্মের তারকারা প্রস্তুত নিজেদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে। পুরনো মহাতারকাদের শেষ নৃত্য আর নতুন রাজপুত্রদের সিংহাসন দখলের লড়াইয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফোকাস যারা নিজেদের করে নিয়েছেন তাদের দিকে তাকানো যাক।
মেসির
লাস্ট ফ্রন্টিয়ের
বিশ্বকাপের
সবচেয়ে বড় আকর্ষণের নাম
নিঃসন্দেহে লিওনেল মেসি। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে
বিশ্বকাপ জিতিয়ে ফুটবলের প্রায় সব অপূর্ণতাই পূরণ
করেছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে
নামলে এটি হবে তার
ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপে
আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বাধিক ২৬
ম্যাচ ও ১৩ গোলের
মালিক তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও তার গোলসংখ্যা ১১৬।
২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে
গোল্ডেন বল জিতে নিজের
শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন বারবার। এবার তিনি নামবেন
অভিজ্ঞতার আলো হাতে নিয়ে,
তরুণ আলবিসেলেস্তেদের পথপ্রদর্শক হয়ে।
অতৃপ্ত
মিশনে রোনালদো
বয়স
যেন তার কাছে শুধুই
একটি সংখ্যা। ৪১ বছর বয়সেও
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো প্রস্তুত বিশ্বকাপের আলো কেড়ে নিতে।
পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই
পর্তুগিজ মহাতারকার জন্যও এটি হতে পারে
ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপে ২২ ম্যাচে ৮
গোল করা রোনালদোর আন্তর্জাতিক
গোলসংখ্যা ১৪৩, যা সর্বোচ্চ।
ক্লাব ও জাতীয় দল
মিলিয়ে এক হাজার গোলের
মাইলফলকের খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে
থাকা সিআরসেভেনের ক্যারিয়ারে একমাত্র অপূর্ণতা বিশ্বকাপ ট্রফি। তাই উত্তর আমেরিকার
বিশ্বকাপ তার জন্য এক
অতৃপ্ত স্বপ্ন পূরণের শেষ অভিযান।
ইনজুরি
পেরিয়ে নেইমারের প্রত্যাবর্তন
ব্রাজিল
ফুটবলের পোস্টারবয় নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘ সময় ইনজুরির সঙ্গে
লড়াই করে আবারও সেলেসাওদের
আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরেছেন তিনি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণের মূল অস্ত্র ছিলেন
তিনি। দেশের হয়ে ৭৯ গোল
করে ইতোমধ্যেই ছাড়িয়ে গেছেন কিংবদন্তি পেলেকেও। বিশ্বকাপে ১৩ ম্যাচে ৮
গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট
করা এই ফরোয়ার্ডের সামনে
এখন একটাই লক্ষ্য ব্রাজিলকে এনে দেওয়া কাঙ্ক্ষিত
হেক্সা শিরোপা।
মাঝমাঠের
জাদুকর মদরিচ
লুকা
মদরিচের গল্পটা রূপকথার মতোই। ২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে
প্রথমবারের মতো ফাইনালে তুলে
জিতেছিলেন গোল্ডেন বল। একই বছরে
ব্যালন ডি’অর জিতে
ভেঙেছিলেন মেসি-রোনালদোর দীর্ঘ
আধিপত্য। ২০০৬ সালে জাতীয়
দলে অভিষেকের পর প্রায় দুই
দশক ধরে দেশের ফুটবলের
পোস্টার বয় হয়ে আছেন
তিনি।
বিস্ময়বালক
ইয়ামাল
ফুটবল
বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত তরুণ নাম এখন
লামিন ইয়ামাল। কিশোর বয়সেই তিনি নিজেকে বিশ্বের
সেরা প্রতিভাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত
করেছেন। দুরন্ত গতি, চোখধাঁধানো ড্রিবলিং
এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার
ক্ষমতা তাকে স্পেনের সবচেয়ে
বড় তারকাতে পরিণত করেছে। ২০২৪ ইউরো জয়ে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ইয়ামালের সামনে
এখন বিশ্বকাপের মঞ্চ।
নতুন
যুগের নায়ক এমবাপে
মাত্র
২৭ বছর বয়সেই কিলিয়ান
এমবাপে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের অবস্থান পাকা করে ফেলেছেন।
২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ের
পর তিনি সেরা তরুণ
খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২২ সালের ফাইনালে
হ্যাটট্রিক করে জিতেছিলেন গোল্ডেন
বুট। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্য ১২,
যা তাকে সর্বকালের সেরাদের
কাতারে নিয়ে গেছে। গতি,
গোল করার দক্ষতা এবং
বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্যে
ইতোমধ্যে তিনি ২০২২ ফাইনালে
জানান দিয়ে দিছেন।
ব্যালন
ডি’অরজয়ী দেম্বেলে
দীর্ঘদিন
ধরে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা উসমান দেম্বেলে।
দুই পায়ে সমান দক্ষ
এই উইঙ্গার তার গতি, ড্রিবলিং
ও সৃজনশীলতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়ান। ২০২৫ সালে অন্যতম
সেরা পুরস্কার ব্যালন ডি’অরও পেয়েছেন।
যদিও বিশ্বকাপে এখনও গোলের দেখা
পাননি।
হলান্ডের
কাঁধে নরওয়ের স্বপ্ন
দীর্ঘ
২৮ বছর পর বিশ্বকাপের
মঞ্চে ফিরছে নরওয়ে। আর সেই স্বপ্নযাত্রার
প্রধান নায়ক আর্লিং হলান্ড।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকার
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে
যাচ্ছেন। বাছাইপর্বে ৮ ম্যাচে ১৬
গোল করে তিনি বুঝিয়ে
দিয়েছেন, বড় মঞ্চেও তার
গোলের ক্ষুধা থামার নয়।
জার্মানির
নতুন জাদুকর জামাল মুসিয়ালা
মাত্র
২৩ বছর বয়সেই জামাল
মুসিয়ালা জার্মান আক্রমণের প্রাণভোমরা। বল পায়ে তার
সৃজনশীলতা, ড্রিবলিং আর গোল করার
ক্ষমতা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে
প্রতিভাবান তরুণদের একজন বানিয়েছে। অনেকেই
তাকে জার্মান ফুটবলের নতুন জাদুকর বলে
থাকেন। বায়ার্নের হয়ে মাঝমাঠ থেকে
শুরু করে গোলবারে দাপিয়ে
বেড়াচ্ছেন এ তরুণ। ২০১৪
সালের পর আবারও বিশ্বকাপ
জয়ের স্বপ্ন দেখছে জার্মানি, আর সেই স্বপ্নের
কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মুসিয়ালা।
ইংল্যান্ডের
ভরসার কেন্দ্রে কেইন
ইংল্যান্ডের
ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেইন গত এক
দশক ধরে দেশটির সবচেয়ে
নির্ভরযোগ্য মুখ। ২০১৮ বিশ্বকাপের
গোল্ডেন বুটজয়ী এই স্ট্রাইকার শুধু
গোল করেন না, সতীর্থদের
জন্য সুযোগও তৈরি করেন। ১৯৬৬
সালের পর আর বিশ্বকাপ
জিততে না পারা ইংল্যান্ডের
শিরোপা স্বপ্নের সবচেয়ে বড় ভরসা এবারও
তাদের অধিনায়ক।
মশাল
বহনে তৈরি হাকিমি
মরক্কোর
অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা ফুল-ব্যাক।
২০২২ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বেই মরক্কো
প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে
পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল। আফ্রিকার ফুটবল স্বপ্নের বড় অংশ এখন
তার কাঁধে।
ডাচ
রক্ষণদুর্গের অতন্দ্র প্রহরী ভার্জিল ডাইক
ভার্জিল ফন ডাইক শুধু একজন ডিফেন্ডার নন, তিনি নেদারল্যান্ডসের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০ সালে ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে না পারা ডাচদের আক্ষেপ ঘোচানোর মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। ৩৪ বছর বয়সে এসে এটি হয়তো তার শেষ বিশ্বকাপ। তাই অরেঞ্জদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে প্রস্তুত এই ডাচ অধিনায়ক।