শেখ সাদী
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে ট্রফি নিয়ে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের ফটোসেশন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দীর্ঘ
১৫ বছর পর আবারও
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে সবশেষ
২০১১ সালের এপ্রিলে অস্ট্রেলিয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে
সিরিজ খেলতে ঢাকায় এসেছিল। ওই সময় মাইকেল
ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দল সাকিব আল
হাসানের বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে
৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ
করেছিল!
এবার
ঘরের মাঠে শক্তিশালী অজিদের
বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দারুণ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দল। সাম্প্রতিক সময়ে
টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে
রেখে এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও
ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছেন
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরপুর শের-ই-বাংলা
জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমনই প্রত্যয়ের
কথা জানান।
বাংলাদেশের
অধিনায়ক বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে
সিরিজ খেলতে পারাটা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
এবং একই সঙ্গে দারুণ
রোমাঞ্চেরও। দীর্ঘদিন পর দুই দলের
ওয়ানডে সিরিজ হওয়ায় ক্রিকেটারদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস কাজ করছে। মিরাজের
বিশ্বাস, সিরিজের শুরুটা ভালো করতে পারলে
সেটি পুরো দলের আত্মবিশ্বাস
বাড়িয়ে দেবে এবং ইতিবাচক
ফল বয়ে আনবে”।
সাম্প্রতিক
সময়ে বাংলাদেশের স্কোয়াডে বেশ কিছু পরিবর্তন
এসেছে। প্রায় সাড়ে তিন বছর
পর জাতীয় দলে ফিরেছেন অলরাউন্ডার
মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তার প্রত্যাবর্তনকে সময়োপযোগী
সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন
অধিনায়ক। মিরাজের মতে, দীর্ঘদিন ধরে
ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই মোসাদ্দেক দলে ফিরেছেন। তিনি
আশা করছেন, সুযোগ পেলে মোসাদ্দেক দলের
প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন
এবং মিডল অর্ডারকে আরও
শক্তিশালী করবেন।
পেসার
নাহিদ রানাকে নিয়ে মিরাজ বলেন,
“নাহিদের মধ্যে বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে। তার গতি ও
ধারাবাহিকতা বাংলাদেশ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।’
মিডল অর্ডারের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট অধিনায়ক। তার মতে, তৌহিদ
হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, লিটন দাসসহ কয়েকজন
ব্যাটার ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক রান করায় জাতীয়
দলের ব্যাটিং বিভাগে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে”।
অভিজ্ঞ
খেলোয়াড়দের জায়গা পূরণ করতে সময়
লাগলেও এখন দলটি ধীরে
ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে
বলে মনে করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার
বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা বর্তমান দলে খুব কম
খেলোয়াড়েরই রয়েছে। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে আত্মবিশ্বাসী
হয়ে ওঠা লেগ স্পিনার
রিশাদ হোসেনকে নিয়ে আশাবাদী মিরাজ।
যদিও তিনি মনে করিয়ে
দিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি ও
ওয়ানডে ক্রিকেটের চাহিদা ভিন্ন। তাই ওয়ানডে ফরম্যাটে
সফল হতে রিশাদকে আরও
পরিণত হতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে মিরপুরের উইকেট। দীর্ঘদিন ধরে মিরপুরের উইকেটকে স্পিন-সহায়ক হিসেবে দেখা হলেও এবার ভিন্ন ধরনের উইকেট চায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা এমন উইকেটে খেলতে চান যেখানে ব্যাটাররা রান করতে পারবেন এবং বোলাররাও নিজেদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পাবেন। তার মতে, ভালো উইকেটে ম্যাচ জিততে পারলে সেটি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং সামনে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতেও সহায়ক হবে।
মোসাদ্দেককে
নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান মিরাজ।
তিনি বলেন, “দুজনের খেলার ধরন ভিন্ন। মোসাদ্দেক
মূলত ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আর তিনি নিজে
বোলিং অলরাউন্ডার। ফলে দলে দুজনের
ভূমিকা এক নয়। বরং
মোসাদ্দেক ভালো করলে তা
দলের ভারসাম্য ও সাফল্যের জন্য
বড় সহায়ক হবে। অধিনায়কের মতে,
অতিরিক্ত একজন বোলিং অপশন
থাকলে অধিনায়কত্ব করাও সহজ হয়
এবং দল আরও ভারসাম্যপূর্ণ
থাকে”।
অস্ট্রেলিয়া
দলে মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডের
মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই ক্রিকেটার না
থাকলেও প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে রাজি নয়
বাংলাদেশ। মিরাজ বলেন, “অস্ট্রেলিয়া সব সময়ই শক্তিশালী
দল। তাই প্রতিপক্ষের দুর্বলতা
নিয়ে ভাবার চেয়ে নিজেদের পরিকল্পনা
বাস্তবায়নের দিকেই বেশি মনোযোগ দিতে
চান তারা”।
অধিনায়ক
হিসেবে শুরুতে সমালোচনার মুখে পড়লেও সাম্প্রতিক
সাফল্য তাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে।
টানা তিনটি সিরিজ জয়ের প্রসঙ্গ টেনে
তিনি বলেন, “সামনে বিশ্বকাপ থাকায় প্রতিটি সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলতে পারলে
বিশ্বকাপের আগে মানসিক প্রস্তুতি
আরও শক্তিশালী হবে”।
ব্যক্তিগত
পারফরম্যান্স নিয়েও সচেতন মিরাজ। ব্যাট হাতে আরও বড়
অবদান রাখতে চান তিনি। যদিও
নিজের ব্যাটিং পজিশনের কারণে সব সময় বড়
ইনিংস খেলার সুযোগ নাও আসতে পারে,
তবু দলের প্রয়োজনে কার্যকর
অবদান রাখাই তার মূল লক্ষ্য
বলে জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
বাংলাদেশের
বিপক্ষে ২২ ওয়ানডের মধ্যে
মাত্র একটিতে হারার রেকর্ড রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে
বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন মিরাজ। তার মতে, “ঘরের
মাঠে খেলার সুবিধা এবং খেলোয়াড়দের ভালো
ফর্ম বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তাই ইতিহাস বদলে
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখতেই
পারে টাইগাররা”।
সবশেষে দলের একমাত্র লক্ষ্য ভালো ক্রিকেট খেলা এবং ম্যাচ জেতা। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে বলেই বিশ্বাস বাংলাদেশ অধিনায়কের।