প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৯ পিএম
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৯ পিএম
বুধবার ক্লোজড-ডোর প্রীতি ম্যাচের পর বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল ও ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্স ফুটবল ক্লাবের খেলোয়াড়রা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ঐক্য ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের এক সুন্দর মুহূর্তে পোজ দেন। ছবি : বাফুফে
বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্স ফুটবল ক্লাবের বিপক্ষে একটি ‘ক্লোজড-ডোর’ প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। ক্লোজডোর ম্যাচ হওয়ায় বাফুফে থেকে ফল জানানো হয়নি। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় সিডনির ফিল্ড-৩ ট্রেনিং গ্রাউন্ডে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বার্তায় দাবি করেছে-অস্ট্রেলিয়ায় চলমান প্রস্তুতি ক্যাম্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই ম্যাচটি টাইগ্রেসদের জন্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শীর্ষস্তরের এ-লিগ উইমেন দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলার মাধ্যমে দলটি মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কোচিং স্টাফরা কৌশলগত ভিন্নতা, স্কোয়াড রোটেশন এবং সামগ্রিক ম্যাচ প্রস্তুতি মূল্যায়নের সুযোগ পান। বাফুফে আরও বলেছে-পাশাপাশি বিভিন্ন ফর্মেশন ও খেলোয়াড়ের সমন্বয় পরীক্ষা করার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ দল, যেখানে কৌশলগত শৃঙ্খলাও বজায় রাখা হয়েছে।
পরিকল্পিত রিকভারি সূচির অংশ হিসেবে
আজ ঋতুপর্ণাদের কোনো মাঠ অনুশীলন থাকবে না। এর পরিবর্তে দলটি ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস
পার্কে সুইমিং পুলে রিকভারি সেশন করবে। গতকালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের পর শারীরিক
পুনরুদ্ধার ও ফিটনেস বজায় রাখার ওপরই থাকবে মূল গুরুত্ব, সব শেষে এটাই বলেছে বাফুফে।
বাফুফে যত বড় কথাই বলুক না কেন, বাস্তবতা
হচ্ছে-এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার আগে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি
মোটেও ভালো হয়নি। যেখানে গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো এবং অন্য গ্রুপে
থাকা বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত এই আসরের কয়েক মাস আগে থেকে যথাযথ প্রস্ততি নিয়েছে,
বিদেশী দলগুলোর সঙ্গে ৫/৬টি করে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। এবং অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া
ও পারিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অনেক আগেই সেই দেশে গিয়ে ক্যাম্প করেছে। সে তুলনায় বাংলাদেশ
একটিও ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেনি। অস্ট্রেলিয়ায় যেখানে খেলা হবে ঘাসের মাঠে,
সেখানে নারী দলের খেলোয়াড়রা কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
স্টেডিয়ামে টার্ফে খেলেছেন প্রশ্নবিদ্ধ ও মানহীন নারী ফুটবল লিগ। ফলে আক্ষেপ ও প্রস্তুতির
ঘাটতি নিয়েই তারা গেছে অস্ট্রেলিয়ায়, যেটাকে বাফুফে নাম দিয়েছে ‘মিশন অস্ট্রেলিয়া’।
কিন্তু ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটা হচ্ছে ‘মিশন অবহেলা’, যার দায় মোটেও এড়াতে
পারবে না দেশীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাফুফে।
অস্ট্রেলিয়ায় আগামী ১ মার্চ শুরু হবে
এশিয়ান কাপ নারী ফুটবলের এবারের আসর। ৩ মার্চ চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্বে
যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া
ও উজবেকিস্তান।
প্রস্তুতির ঘাটতির মাঝেই
নতুন দুশ্চিন্তা-ফিজিওথেরাপিস্ট সংকট।
দলের নিয়মিত ফিজিও জাকিয়া রহমান হঠাৎ
অসুস্থ হয়ে
পড়ায় অস্ট্রেলিয়া সফরে যেতে
পারেননি।
অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে
বাফুফে ভবনে
আয়োজিত সংবাদ
সম্মেলনে কোচ
পিটার বাটলার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে শেষ
পর্যন্ত ফিজিও
দলের সঙ্গে
যেতে না
পারার খবরটি
পরে প্রকাশ পায়।
এখন জরুরি ভিত্তিতে ফিজিও খুঁজছে বাফুফে। বাংলাদেশ থেকে কাউকে
আনতে হলে
ভিসা জটিলতা রয়েছে, সেই
প্রক্রিয়া শুরু
হয়েছে। একই
সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াতেও বিকল্প খোঁজা
হচ্ছে। দলের
স্বার্থে যে
পথ দ্রুত
সম্ভব, সেটাই
বেছে নেওয়া
হবে।
একদিকে প্রথমবারের মতো
এশিয়ার সেরাদের মঞ্চে পা
রাখা, অন্যদিকে অসম্পূর্ণ প্রস্তুতি। এই দুই
বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ নারী দল।
তবে ইতিহাস বলছে, সীমাবদ্ধতার মাঝেও সাহসী
লড়াইয়ের নজির
গড়তে পারে
এই দল।
লিগের গোলঝরা ফরোয়ার্ড আলপি
থেকে শুরু
করে অভিজ্ঞ আফঈদা-রুপনাদের সমন্বয়ে গড়া
স্কোয়াড এখন
মানিয়ে নেওয়ার লড়াইয়ে ব্যস্ত।
প্রশ্ন একটাই-প্রস্তুতির ঘাটতি কি মনের জোরে পুষিয়ে নেওয়া যাবে? উত্তর মিলবে সিডনির মাঠেই।
আরকে/প্রবা