রুমেল খান
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৪:৩৬ এএম
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩২ পিএম
নারী ফুটবল লিগ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) শেষ হয়েছে। সকালে কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রাজশাহী স্টারস এফসি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস এফসিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে। সকালে চ্যাম্পিয়ন হলেও শিরোপা তুলে দেওয়া হয় রাতে সব ম্যাচের পর। 
এবার নারী ফুটবল লিগে সেরা ফুটবলার (প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট) হয়েছেন ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের শামসুন্নাহার জুনিয়র। তিনি টানা ৫ ম্যাচে গোল করেছেন এবং ম্যাচসেরা হয়েছেন। ১০ ম্যাচের মধ্যে ৫ ম্যাচে সেরা হওয়ায় শামসুন্নাহারের লিগ সেরা খেলোয়াড় (মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার) হওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা। 
ফরাশগঞ্জ এবারের লিগে রানার্সআপ হলেও সেরা খেলোয়াড় তাদের দলের হওয়ায় খানিকটা সান্ত্বনা ক্লাবটির। শামসুন্নাহার জুনিয়র এবারের লিগে ২৬টি গোল করেছেন, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। 
এ পর্যন্ত যে ৭ বার লিগ অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার মধ্যে প্রথম তিন আসরে যারা প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছেন, তাদের দল সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়। কিন্তু এবারসহ শেষ ৪ আসরে যারা টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার পেয়েছেন, তারা কেউই লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পাননি।
আরেকটি ব্যাপার লক্ষ্যণীয়। সেটা হচ্ছে-সাত আসরে কোন ফুটবলারই কিন্তু একবারের বেশি টুর্নামেন্ট সেরা হতে পারেননি। মোহামেডান এবং এআরবিসি স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড়রা সর্বাধিক ২ বার করে এই পুরস্কারটি পেয়েছেন। 
সেরা খেলোয়াড় হিসেবে শামসুন্নাহার জুনিয়র ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার পেয়েছেন। চ্যাম্পিয়ন দল সাড়ে চার লাখ, রানার্সআপ আড়াই লাখ টাকা। লিগে অংশগ্রহণ করা প্রতিটি দলের অংশগ্রহণ ফির ডামি চেক প্রদান করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ, সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম পুরস্কার প্রদান করেন।
২০২০-২১ মৌসুমের লিগে বসুন্ধরা কিংস ওমেন্স টিমের হয়ে শামসুন্নাহার জুনিয়র করেছিলেন ১১ গোল, যা ছিল চতুর্থ সর্বোচ্চ। 
২০২১-২২ মৌসুমের লিগে একই দলের হয়ে ১০ গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র, যা ছিল ওই লিগে পঞ্চম সর্বোচ্চ। 
২০২৩-২৪ মৌসুমের লিগে নাসরিন স্পোর্টস একাডেমির হয়ে ৯ গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র, যা ছিল চতুর্থ সর্বোচ্চ। 
আর সর্বশেষ ২০২৫-২৬ মৌসুমের লিগে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ২৬ গোল করে অতীতের সব পারফরম্যান্সকেই ছাড়িয়ে যান শামসুন্নাহার জুনিয়র, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল।
মজার ব্যাপার হচ্ছে-আগের তিন মৌসুমে খুব বেশি গোল না করলেও প্রতিবারই শামসুন্নাহার জুনিয়র লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছেন। কিন্তু এবার বেশি গোল করে শিরোপাজয়ের উল্লাসে মাততে পারেননি, তার দল হয়েছে রানার্সআপ।
সব মিলিয়ে লিগে মোট ৪২ ম্যাচ খেলে ৫৬টি গোল করেছেন শামসুন্নাহার জুনিয়র, যা সার্বিক বিচারে তৃতীয় সর্বোচ্চ। মাত্র ৫৩ ম্যাচে ১৫১ গোল করে সাবিনা খাতুন আছেন সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে। 
শামসুন্নাহার জুনিয়র ২০০৪ সালের ৩০ মার্চ ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার কলসিন্দুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দেশে লিগ খেলার পাশাপাশি তিনি ভুটানেও লিগ খেলেছেন। 
২০২৫ সালে সেই লিগে তার দল রয়্যাল থিম্পু কলেজ ওমেন্স ফুটবল ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হয়। সেই লিগে শামসুন্নাহার জুনিয়র করেন ৬ গোল।
* প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট : সুইনু প্রু মারমা (মোহামেডান, ২০১১-১২), সাবিনা খাতুন (মোহামেডান, ২০১২-১৩), তহুরা খাতুন (বসুন্ধরা কিংস, ২০১৯-২০), সোহাগী কিসকু (এআরবিসি স্পোর্টিং ক্লাব, ২০২০-২১), শাহেদা আক্তার রিপা (এআরবিসি স্পোর্টিং ক্লাব, ২০২১-২২), মোসাম্মৎ সুলতানা (বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস এফসি, ২০২৩-২৪), শামসুন্নাহার জুনিয়র (ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব, ২০২৫-২৬।
আরকে/প্রবা