রুমেল খান
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:১৪ পিএম
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৩:০০ এএম
জয়
দিয়ে শুরু, জয় দিয়ে শেষ। শুধু তাই নয়, গুণে গুণে একবারে টানা দশ জয়। দশম ও শেষ ম্যাচে
কমপক্ষে ড্র করলেই চলতো। কিন্ত কোনো জটিল সমীকরণ নয়, শেষ পর্যন্ত সহজ-অনায়াস জয় কুড়িয়ে
নিয়ে নিখাদ শ্রেষ্ঠত্বেই নারী ফুটবল লিগের সপ্তম আসরের শিরোপাটা একান্তই নিজেদের করে
নিল রাজশাহী স্টারস ফুটবল ক্লাব। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী
মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তারা ৩-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ আর্মি
স্পোর্টস ক্লাবকে।
জাতীয়
নির্বাচনের উত্তাপের রেশ থাকতেই শুক্রবার মাঠে গড়ায় নারী ফুটবল লিগের শেষ রাউন্ড। সব
সমীকরণ পেছনে ফেলে জয় দিয়েই প্রথমবারের মতো শিরোপা নিশ্চিত করে রাজশাহী স্টারস। ক্রিকেটে
যেমন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স নতুন দল গড়েই শিরোপা জিতেছিল, তেমনি নারী ফুটবল লিগেও নাবিল
গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়া রাজশাহী স্টারস প্রথম আসরেই আধিপত্য দেখাল। জাতীয় দলের একঝাঁক
তারকা ও নেপালের জাতীয় ফুটবলারদের নিয়ে প্রতিটি ম্যাচেই তারা ছিল আক্রমণাত্মক, আত্মবিশ্বাসী
ও কার্যকর।
অপরাজিত
চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ১০ ম্যাচের সবকটিতেই জিতে পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট নিয়ে সবার ধরাছোঁয়ার
বাইরে।
শিরোপা
লড়াইয়ে ছিল আরও দুই দল—ফরাশগঞ্জ
ও আর্মি। আর্মি জিতলে তাদের পয়েন্ট হতো ২৭, ফরাশগঞ্জও জিতলে দাঁড়াত একই সমীকরণে।
তখন তিন দলের প্লে-অফে নিষ্পত্তি হতো শিরোপা। রাজশাহী সে পথে হাঁটেনি। নিজেদের শক্তিতেই
হিসাব চুকিয়েছে। ফরাশগঞ্জ হয়েছে রানার্সআপ। আর্মি অধিকার করে তৃতীয় স্থানটি।
কমলাপুর
স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্মি আধিপত্য বিস্তার করে খেলে। এই অর্ধে কমপক্ষে দুটি
গোলের সূবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রাজশাহী।
৪৭
মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে সৌরভী আকন্দ প্রীতির ক্রসে ফাঁকায় বল পেয়ে সহজ প্লেসিংয়ে গোল
করেন আলপি আক্তার, যিনি সাফ অনূর্ধ-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সর্বোচ্চ
গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়।
৫৮
মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। বা দিক থেকে ঋতুপর্ণা চাকমা নিখুঁত ক্রস উড়ন্ত বলেই জোরালো
কৌনিক শটে জালে পাঠান শাহেদা আক্তার রিপা। ৮৬ মিনিটে শাহেদা আক্তার রিপার বাড়ানো ক্রস
আলপির মাথা ছুঁয়ে আশ্রয় নেয় ঋতুপর্ণা চাকমার কাছে। বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে জাল খুঁজে
নিতে কোনো ভুল করেননি এই ফরোয়ার্ড। এই গোলেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় রাজশাহীর।
সেনাবাহিনী
চেষ্টা করেছে খেলায় ফিরতে, কিন্তু রাজশাহীর জাতীয় দলের গোলরক্ষক রূপনা চাকমাকে কঠিন
পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। রূপনা প্রতি ম্যাচেই ক্লিনশিট ধরে রেখে অনন্য কীর্তি গড়েছেন।
অন্য প্রান্তে সেনাবাহিনীর গোলরক্ষক মিলি আক্তার কয়েকটি ভালো সেভ করলেও রক্ষণভাগের
ভুল ও প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের ধার সামলানো যায়নি।
দিনের বাকি ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাব ৫-১ গোলে সিরাজ স্মৃতি সংসদকে (পুলিশের মোসাম্মৎ সাগরিকা ২টি, মারুফা আক্তার, জুমা ও সানজিদা আক্তার ১টি করে; সিরাজ স্মৃতির সোমা রানী ১টি গোল করেন), ঢাকা রেঞ্জার্স ফুটবল ক্লাব ১০-২ গোলে (রেঞ্জার্সের রত্না রায় ৩টি, রুমি হাসদা ২টি, রূপালী রায় রূপা, কল্পনা আক্তার, মিম খাতুন, শ্রী মনিরা সোরেন ও মৌসুমী আক্তার ১টি করে; কাচারিপাড়ার সোহেলী শারমিন ও শেখ সামিয়া আক্তার ১টি করে গোল করেন), ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব ৪-১ গোলে আনসার ও ভিডিপি ফুটবল ক্লাবকে (তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়র ২টি করে; আনসারের উমেহলা মারমা ১টি করে গোল করেন)।
এছাড়া বিকেএসপি ফুটবল ক্লাব গোলশূন্য ড্র করে সদ্যপুস্করিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে।
দেড়
বছর বিরতির পর এবার মাঠে গড়ায় নারী লিগ। যদিও প্রতিযোগিতা শুরুর আগে থেকেই মাঠের অব্যবস্থাপনা,
সূচিসহ কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্ক লেগেই ছিল।
আরকে/প্রবা