প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৩ পিএম
বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
ক্রীড়াঙ্গনের একাধিক প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। খেলাধুলার জগতের মানুষরা ভোটের লড়াইয়ে
কেমন করেন, তা নিয়ে স্বাভাব্কিভাবেই কৌতুহলী ছিরেন ক্রীড়ামোদীরা। প্রার্থীদের মধ্যে
সবচেয়ে বেশি স্পটলাইট ছিল জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও তারকা সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল
হকের ওপর। ঢাকা-১৬ (সংসদীয় আসন ১৮৯) আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি, যাতে পুরো ক্রীড়াঙ্গনে
বিস্ময় ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আমিনুল এই পরাজয় মেনে নিতে
পারেননি এবং নির্বাচনে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভোট কারচুপির অভিযোগ
তুলে ফল স্থগিত ও পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং
অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়ে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত এবং বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোতে
পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন আমিনুল।
আবেদনপত্রে আমিনুল হক অভিযোগ করেন যে,
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং নির্বাচনী আচরণবিধির
চরম লঙ্ঘন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটের আগের
রাতে অর্থ বিতরণের ভিডিও প্রমাণ রয়েছে এবং পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে
বের করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ৪০টিরও বেশি কেন্দ্রে এজেন্টদের স্বাক্ষর ছাড়াই ফলাফল
শিট প্রস্তুত করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভোট গণনার আগেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়া
হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান এবং নির্দিষ্ট
কিছু কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই সিল মারা ব্যালট বই পাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও আবেদনে
উঠে এসেছে।
আবেদনকারী আরও জানান যে, ১ থেকে ২৯
নম্বর কেন্দ্র পর্যন্ত ঘোষিত মোট ভোটের সাথে প্রিজাইডিং অফিসারদের সরবরাহকৃত ফলাফলে
এবং পোস্টাল ভোটের পরিসংখ্যানে ব্যাপক গরমিল পরিলক্ষিত হয়েছে। সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ
অনুযায়ী একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা কমিশনের দায়িত্ব হলেও এক্ষেত্রে তার
ব্যত্যয় ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। এর আগে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেও
কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি এখন আরপিও-এর ৯১এ
ধারা অনুযায়ী ফলাফল স্থগিত করে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার
প্রত্যাশা করছেন। 
এদিকে আমিনুলের অপ্রত্যাশিত হার মেনে
নিতে পারছেন না তার সাবেক সতীর্থসহ ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই। আমিনুলের দীর্ঘদিনের বন্ধু-প্রতিদ্বন্দ্বী
গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘আমিনুলের হার মেনে নেওয়ার মতো নয়। খেলোয়াড় হিসেবে
তার যেমন পরিচিতি, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সে অত্যন্ত ত্যাগী। এরপরও আমিনুল হারছে এটা
কোনোভাবেই মানতে পারছি না।’
আমিনুলের আরেক সতীর্থ জাতীয় ফুটবল দলের
সাবেক ফুটবলার ও মোহামেডানের ফুটবল দলের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব বলেন, ‘এখনো
বিশ্বাস হচ্ছে না আমিনুল হেরেছে। দলের প্রতি তার নিবেদন, মিরপুরের জনগণের প্রতি ভালোবাসা
সর্বোপরি খেলোয়ড় হিসেবে তার সাফল্য ও পরিচিতি কোনো কিছুতেই আমিনুলের হার কাম্য ছিল
না।’
উপমহাদেশে দাবায় প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার
নিয়াজ মোরশেদ জাতীয়বাদী ক্রীড়া দলের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘শুধু খেলোয়াড় বা জনপ্রিয়
ব্যক্তিত্ব হিসেবে নয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও সে খুব যোগ্য। আমিনুল অত্যন্ত পরিশ্রম
করেছে। আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। এত ত্যাগ, কষ্ট ও পরিশ্রমের ফল তার পাওয়ার উচিত ছিল।’
আমিনুলের নির্বাচনী প্রচারণায় সাবেক
ক্রীড়াবিদ, সংগঠকরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও কয়েক দিন
জনসংযোগ করেছেন আমিনুলের পক্ষে। আমিনুলের হারে তিনিও অত্যন্ত ব্যথিত। 
ক্রীড়াঙ্গনে একটা কথা অনেকদিন ধরেই
চাউর হয়েছে বিএনপি ক্ষমতায় আসছে পরবর্তী ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হকই হবেন। সংসদ সদস্য
না হতে পারলেও সেটার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। মন্ত্রীপরিষদে সংসদ সদস্যের বাইরের
কাউকেও অর্ন্তভুক্ত করা যায়।
কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে আমিনুলের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের খবরটাই মুখ্য হয়ে উঠেছে।
আরকে/প্রবা