প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০৫ পিএম
বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির বিরুদ্ধে আন্দোলনে যুক্ত থাকা সাবেক ও বর্তমান শুটারদের ওপর নেমে এসেছে একের পর এক শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত। প্রতিবাদের কণ্ঠ রোধে বহিষ্কার যেন এখন ফেডারেশনের প্রধান অস্ত্র। এর আগে দেশের অন্যতম সেরা শুটার কামরুন নাহার কলিকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন সাবেক স্বর্ণজয়ী শুটার সাবরিনা সুলতানা।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত
নির্বাহী কমিটির সভায় সাবরিনাকে শুটিং ফেডারেশনের সব কার্যক্রম থেকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’
ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফেডারেশনের গঠনতন্ত্রের ১৬.২০ ধারা অনুযায়ী ‘শৃঙ্খলা
ভঙ্গের’ অভিযোগ এনে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তবে এখানেই থেমে থাকেনি কর্তৃপক্ষ।
একই সিদ্ধান্তে বর্তমান শুটার তাসমিয়াতি এমা ও আবিদুর রহমান আহাদকেও সাময়িকভাবে বহিষ্কার
করা হয়েছে।
শুটিং ফেডারেশনের
সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌসীর স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের এই সিদ্ধান্ত
জানানো হয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ফেডারেশনের ভেতর-বাইরে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া
ও বিতর্ক।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া
জানাতে গিয়ে নিষিদ্ধ হওয়া শুটার কামরুন নাহার কলি বলেন, ‘আমাদের শুটিং ফেডারেশন এখন
বহিষ্কার বহিষ্কার খেলায় মেতে উঠেছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, সাবরিনা আপু আমাদের শুটিংয়ের
স্বর্ণকন্যা, আর তাকেই অবাঞ্ছিত করা হয়েছে। এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে, ফেডারেশন এখন কাদের
নিয়ে খেলবে, সেটাই তারা নিজেরাই হয়তো জানে না। হয়তো একদিন নিজেরাই মাঠে নেমে খেলতে
হবে!’
সব মিলিয়ে, অ্যাডহক কমিটির বিরুদ্ধে আন্দোলনে যুক্ত থাকা ক্রীড়াবিদদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ শুটিং ফেডারেশনের প্রশাসনিক মানসিকতা, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। মাঠের পারফরম্যান্স নয়, প্রতিবাদই যেন এখন শুটারদের সবচেয়ে বড় ‘অপরাধ’।
আরকে/প্রবা