বাংলাদেশ ৪-০ নেপাল
রুমেল খান
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৯ পিএম
পোখারার রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ফাইনালের
দরজা খুলতে বাংলাদেশের দরকার ছিল কেবল একটি ড্র। কিন্তু এই দল ড্র’র গল্প লেখে না, লেখে বিজয়ের কবিতা। দাপুটে ৪-০ গোলের জয়েই সাফ অনূর্ধ-১৯
নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল লাল-সবুজের কিশোরীরা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাউন্ড
রবিন লিগের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক নেপালকে কার্যত মাঠছাড়া করে দেয় পিটার বাটলারের শিষ্যারা।
জয়ের নায়কী চরিত্রে ছিলেন আলপি আক্তার, যিনি
অনবদ্য
হ্যাটট্রিকে ম্যাচটাকে বানিয়ে দেন নিজের গল্প। অপর গোলটি আসে প্রতিমা মুন্দার নিখুঁত
হেড থেকে।
একই দিনে অন্য ম্যাচে ভারত ৮-০ গোলে
উড়িয়ে দেয় ভুটানকে। আগামী শনিবার অপরাজিত বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ভারতের,
ফাইনালের
মঞ্চে। আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলার বাঘিনীদের সামনে এবার শিরোপা ধরে রাখার কঠিন কিন্তু
গৌরবের চ্যালেঞ্জ।
ম্যাচের শুরু থেকেই নেপালের ওপর ঝাঁপিয়ে
পড়ে বাংলাদেশ। তৃতীয় মিনিটেই আসে প্রথম সাফল্য। মিডফিল্ডার মামনি চাকমার নিখুঁত কর্নারে দূরের পোস্টে উঠে প্রতিমা মুন্দার হেড-জালে বল, স্কোরলাইন
১-০। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আলপির বাঁ পায়ের জাদু,
ডি-বক্সের
বাইরে থেকে নেওয়া ভাসানো ফ্রি-কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ (২-০)।
দ্বিতীয়ার্ধ যেন পুরোপুরি লেখা হলো
‘আলপি-জাদু’র ভাষায়। ৬৭ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস ধরে অফসাইড ফাঁদ ভেঙে দুর্দান্ত
গতিতে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন (৩-০)।
৮২ মিনিটে নেপালি ডিফেন্ডারের ভুল পাসে সুযোগ পেয়ে বক্সে ঢুকে বল জালে জড়িয়ে পূর্ণ
করেন হ্যাটট্রিক। এটি ছিল টুর্নামেন্টে তার দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। তিন ম্যাচে আলপির গোলসংখ্যা
দাঁড়াল ৭, যা এবারের আসরে সর্বোচ্চ।
এই জয়ে ৩ ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকেই ফাইনাল নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। সমান ম্যাচে ভারতের সংগ্রহ
৬ পয়েন্ট। গ্রুপ পর্বে ভারতকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
বয়সভিত্তিক এই আসর এখন পর্যন্ত অনূর্ধ-১৮,
১৯ ও ২০ মিলিয়ে ছয়বার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ চারবার এককভাবে চ্যাম্পিয়ন, ভারত একবার।
২০২৪ সালে দুই দল যৌথ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
দুই বছর পর আবার ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত-ইতিহাস যেন
আবার নতুন করে লিখতে বসেছে।
খেলা শেষে ম্যাচসেরা আলপি আক্তার বলেন,
‘আলহামদুলিল্লাহ, আবারও প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এটা একার নয়-সবই সতীর্থদের
সহায়তায়। তারা আমাকে গোল করার সুযোগ করে দিয়েছে। কোচিং স্টাফদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমরা
ফাইনালে উঠেছি, এখন সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করব যেন ট্রফিটা বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারি।
এজন্য সব বাংলাদেশি সমর্থকদের কাছে দোয়া চাই।’
ফাইনালের পথে বাংলাদেশ এখন শুধু একটি
দল নয়-ওরা একেকটি
স্বপ্ন, একেকটি সাহস, আর একেকটি লাল-সবুজ ইতিহাসের নতুন পঙ্ক্তি।
আরকে/প্রবা