অর্পিতাদের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসায় কোচ বাটলার
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১৩ পিএম
খেলা
শুরুর আগে কিঞ্চিৎ সংশয় ছিল। কিন্তু নেপালের পোখারায় রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিনের প্রথম সেই ম্যাচের পর সেই সংশয় দূর করে দিল বাংলার বাঘিনীরা। কেননা শক্তিশালী
ভারতকে ২-০ গোলে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে মিশনে আরও এক
ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। জয়ী দলের অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস ও আলপি আক্তার একটি
করে গোল করেন।
এই
আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১২-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শুভসূচনা করা লাল-সবুজ বাহিনী
তাদের জয়ের ধারা বজায় রাখে দ্বিতীয় ম্যাচেও। চার দলের গ্রুপে দুই খেলায় শতভাগ জয়ে ৬
পয়েন্ট বাংলাদেশে। ফলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে তারা। সমান ম্যাচে নেপাল ও ভারতের পয়েন্ট
৩। গোল পার্থক্যে নেপাল দুইয়ে ও ভারত আছে তিনে। সমান ম্যাচে ভুটান এখনও পয়েন্টহীন।
লিগভিত্তিক
এই টুর্নামেন্টে প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে একবার করে মাঠে নামবে। শেষে শীর্ষ পয়েন্টধারী
দুই দল খেলবে ফাইনালে। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আগামী বুধবার। নেপালের বিপক্ষে ওই ম্যাচে
ড্র করলেই ফাইনালে উঠবে পিটার বাটলারের শিষ্যারা। 
রঙ্গশালা
স্টেডিয়ামে এদিন শুরু থেকে বাংলাদেশের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ায় ভারত। সময় গড়ানোর সঙ্গে ধীরে
ধীরে ছন্দে ফেরে বাংলাদেশ। ২৯ মিনিটে উইঙ্গার মামনি চাকমার চমৎকার ফ্রি কিক থেকে লিড
নেয় বাংলাদেশ। ডান পাসের কর্নারের কাছ থেকে সরাসরি গোলে শট নেন মামনি। বল চলে যাচ্ছিল
জালে, সেই মুহূর্তে লাফিয়ে ফিস্ট করে বল বের করার চেষ্টা করেন ভারত গোলরক্ষক মুন্নি।
তার হাতে লেগে বল মাটিতে পরার মুহূর্তে বল জালে ঠেলে দেন অর্পিতা (১-০)।
৪০
মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ক্রস দেন
তৃষ্ণা রানী। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে টপকে বলের লাইনে পা ছুঁইয়ে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের
মতো দলকে উদযাপনের সুযোগ এনে দেন ভুটানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা আলপি (২-০)। এ নিয়ে
প্রতিযোগিতায় আলপির গোলের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪, যা সর্বোচ্চ। তার স্বদেশী সতীর্থ মুনকি
আক্তারেরও সমান গোল। ম্যাচসেরা হন আলপি। 
সমতায়
ফিরতে মরিয়া ভারত একাধিক বিপজ্জনক আক্রমণ শাণায়। কিন্তু বাংলাদেশ গোলরক্ষক ইয়ারজান
বেগম ছিলেন ‘চীনের মহাপ্রাচীর’ হয়ে। তিনি প্রতিপক্ষের সব আক্রমণ নসাৎ করে দেন অসামান্য
নৈপুণ্যে।
ম্যাচ
শেষে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার বলেন, ‘মেয়েরা অসাধারণ মানসিকতা এবং দৃঢ়তা দেখিয়েছে।
আমাদের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। কিছু ছোটখাটো চোট ছিল, কয়েকজনের ব্যথা ছিল, যেমনটা
ধারণা করেছিলাম। কিন্তু আমরা প্রথম দিকের হালকা ঝড়, চাপ, যা ইচ্ছা তাই বলুন, আমরা
সেটা কাটিয়ে উঠেছি। ওই সময়ও ভেবেছিলাম আমরা চালিয়ে যাব এবং সত্যিই খুব ভালোভাবে খেলাটা
নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। ম্যাচে ভারতের অবশ্যই গোলের সুযোগ তৈরির মুহূর্ত ছিল, তাদের
কিছু সত্যিই ভালো খেলোয়াড় আছে। তারা আমাদের চেয়ে লম্বা, শারীরিকভাবে আরও বেশি শক্তিশালী।
তবে আমরা মানসিক শক্তি দেখিয়েছি এবং অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছেছি, আমরা জয়ের যোগ্য ছিলাম।’
প্রথমার্ধের
শেষ দিকে মামনি চাকমা ও ক্রানুচিং মারমাকে এবং দ্বিতীয়ার্ধে সুরভি আকন্দ প্রীতি, জয়নব
বিবি রিতা ও তৃষ্ণা রানীকে তুলে নেন বাটলার। 
সুযোগ দেন প্রতিমা মুন্দা, শান্তি মার্দি,
বন্যা খাতুন, মৌমিতা খাতুন ও মিরা খাতুনকে। চোট সমস্যার কারণে নিয়মিতদের তুলে নিতে
হয়েছিল বলেও জানান এই ইংলিশ কোচ, ‘আমার মনে হয় না, স্ট্রাইকারদের তুলে নিয়েছি। চোট
সমস্যা ছিল দলে। প্রীতির চোট ছিল। তৃষ্ণাও
একটু আঘাত পেয়েছিল, কিন্তু ৭৫ মিনিট পর্যন্ত তাদের তুলে নেইনি। ম্যাচের আগে ক্রানুচিংয়ের
ঘাড়ে ব্যথা ছিল, তাই সে লড়াই করছিল বলে তাকে তুলে নিয়েছিলাম। কাকে তুলে কাকে নামব,
এ নিয়ে একটু দোটনায় ছিলাম। প্রথমার্ধে আমরা দুটি পরিবর্তন করেছি। আমার মনে হয়েছে,
মামনি রাইট ব্যাক ঠিকঠাক কাজ করছে না। যদি কেউ আমার হয়ে খেলতে চায়, তাহলে তাকে রক্ষণের
পাশাপাশি আক্রমণাত্মক দিকটিও দেখতে হবে। যদি না পারে, তাকে টানব না; গত দুই বছরে এটির
উপর জোর দিয়েছি। রক্ষণের দায়িত্বের প্রশ্নে যাদের দিয়ে হবে না, আমি তাদের বয়ে বেড়াব
না। তাই সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’
আরকে/প্রবা