× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ত্রিশালে গড়ে উঠবে স্বপ্নের ক্রীড়া নগরী

রুমেল খান, ময়মনসিংহ থেকে

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০৯ পিএম

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৬ পিএম

মোমেনশাহীর ত্রিশাল সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান (ডান থেকে তৃতীয়)।       ছবি : প্রবা ফটো

মোমেনশাহীর ত্রিশাল সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান (ডান থেকে তৃতীয়)। ছবি : প্রবা ফটো

সব ঠিক থাকলে স্বপ্ন, পরিকল্পনা আর সম্ভাবনার এক নতুন ঠিকানা হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স। যেখানে গড়ে উঠবে আগামী দিনের চ্যাম্পিয়নরা। যেখান থেকে বিশ্বমঞ্চে উড়বে লাল-সবুজের পতাকা।আজ রবিবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি।

বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বিওএর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো নির্মিত হতে যাওয়া দেশের সবচেয়ে বড় এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের আকার হবে প্রায় ১৭৩.৫৯ একর। এটিই হতে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া কমপ্লেক্স।

বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া কমপ্লেক্স হলো ঢাকার অদূরে সাভারের জিরানীতে ১১৫ একর জমির ওপর স্থাপিত বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। দেশের ক্রীড়ার অন্যতম প্রধান আঁতুড়ঘর বিকেএসপি স্থাপিত হয় ১৯৮৬ সালের ১৪ এপ্রিল।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বানার ও নাগেশ্বরী নদবিধৌত সেনাবাহিনীর এই প্রশিক্ষণ এলাকায় প্রায় ১৭৩.৫৯ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত হচ্ছে বিশাল ক্রীড়া স্থাপনাসমূহ। কমপ্লেক্স জুড়ে ছোট-বড় ও ভিন্নতা অনুযায়ী থাকবে সর্বমোট নয়টি স্টেডিয়ামসহ ১১টি ক্রীড়া স্থাপনা। এর মাঝে থাকবে ছয়টি আধুনিক আউটডোর ও তিনটি ইনডোর স্টেডিয়ামে। সব মিলিয়ে ৩৩টি ডিসিপ্লিনের খেলাধুলার সুযোগ সংবলিত দেশের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণে প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

বাস্তবায়নাধীন নয়নাভিরাম এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্বনামধন্য ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড (ইসিবি)। কমপ্লেক্সটির নকশা করেছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেড ও পরামর্শক হিসেবে আছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিএলএ প্লাস লিমিটেড।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘এখানে আমাদের আর্মি স্পোর্টস স্কুলের ভাবনা আছে। ভাবলাম পাশেই অলিম্পিক স্পোর্টস ভিলেজ এখানে করলে ভালো হবে। মেইনটেইন করা যাবে। আমাদের ভালো মানের স্পোর্টস ভিলেজ, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে।’

এটার জন্য প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। আমরা ইতোমধ্যে জমি কিনে ফেলেছি। সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড (ইসিবি) সুন্দর কাজ করছে।

আমাদের ক্রীড়া সচিব এখানে আছেন। ওনার জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় টাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব বলে মনে করি। এ ছাড়া সমাজের বিত্তবানদের কাছ থেকেও সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি সম্মিলিত প্রয়াসের মধ্য দিয়েই এটা বাস্তবায়ন সম্ভব। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, কখনও কোনো ক্রীড়াবিদকে অবৈধ বা অনৈতিক কাজ করতে দেখিনি। আমাদের একটা সুস্থ জাতি নিশ্চিত করার স্বার্থে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

প্রথম ধাপে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আবাসন, রাস্তা ও একটি ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ করা পরিকল্পনাÑ যেখানে একসঙ্গে ১৭টি ডিসিপ্লিনের খেলা আয়োজন সম্ভব বলে জানিয়েছে বিওএ।

ভিত্তিপ্রস্তর শেষে আসন্ন এশিয়ান গেমস ও দক্ষিণ এশিয়ান গেমসসহ নানা বিষয়ে সভা হয়।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই দেশে একটা অলিম্পিক ভিলেজ নির্মাণের কথা বলে আসছিলাম। আগে বিভিন্ন কারণে সেটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। চিন্তা করে দেখলাম ত্রিশালে আর্মি স্পোর্টস স্কুল তো আছেই। সে হিসেবে আমরা যদি স্পোর্টস ভিলেজটা এখানে স্থাপন করি তাহলে ক্রীড়ার জন্যও ভালো হবে, তারা এই বিশাল স্থাপনা তদারকিও করতে পারবে। আপনারা জানেন স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণ একটা বড় ব্যাপার। আর এটা নিশ্চয়ই জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়ায় একটা বড় অবদান রাখতে পারবে। সে চিন্তা থেকেই দেখেছি যে আমাদের কারও কাছে আর জমি চাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাদের কাছেই জমি আছে। এটাকেই আমরা উন্নয়ন করব এবং অলিম্পিক ভিলেজে রূপান্তরিত করব। জাতীয় পর্যায়ের আয়োজনগুলো আমরা এখানে করব। আর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাও এখানে আয়োজন করা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে একই সাথে আর্মির যে ফিজিক্যাল ট্রেইনিং স্কুলটি আছে এটাও একই সাথে থাকবে। এভাবে এখানে সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মাঝে বোঝাপড়ার আলোকে যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যে প্রতিযোগিতা হবে সেগুলো এখানে অগ্রাধিকার পাবে। বাকি সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী অথবা দেশিও কোনো ক্রীড়াবিদ চাইলে এখানে অনুশীলন কর‍তে পারবে। এটা সকলের জন্যই উন্মুক্ত থাকবে। এটাকে রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্ব স্পোর্টস স্কুলটা পালন করবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা