প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৪৮ পিএম
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৪৯ পিএম
শিরোপা জেতার চেয়ে তা ধরে রাখা কঠিন। আর সেই কঠিন কাজ করার মিশন নিয়েই গত বুধবার বিমানযোগে হিমালয়ের দেশ অর্থাৎ নেপালে উড়াল দিয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ-১৯ জাতীয় নারী ফুটবল দল। আর মিশনের নাম ‘সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ’। নেপালের পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া এই আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে দক্ষিণ এশিয়ার আরও তিনটি দেশ (ভারত, নেপাল ও ভুটান) অংশ নেবে। কাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চার-জাতি এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামছে লাল-সবুজ বাহিনী। বাংলাদেশ সময় বেলা সোয়া ১২টায় শুরু হওয়া এই ম্যাচে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ ভুটান।
টুর্নামেন্টকে
সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) পোখারায় সংবাদ সম্মেলন হয়। টুর্নামেন্ট-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে
বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার জানান, চার দলের এই প্রতিযোগিতায় শিরোপা নয়, জাতীয় দল ও
এএফসি অ-২০ পর্যায়ের জন্য সম্ভাবনাময় ফুটবলার খোঁজাই তার মূল উদ্দেশ্য। সংবাদ সম্মেলনে
তিনি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমাদের জন্য মুখ্য নয়। এখানে এসেছি এমন
খেলোয়াড়দের খুঁজতে, যারা সামনে বড় মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে।’
বাটলার
আরও বলেন, ‘গত প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নের চেষ্টা করছি। এ ধরনের
টুর্নামেন্ট সেই উন্নয়নেরই একটি ধাপ।’ 
অন্যদিকে
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস অবশ্য ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। তার লক্ষ্য ট্রফির
দিকেই। তার কথা, ‘আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ ভালো খেলতে চাই এবং ফাইনাল খেলাই আমাদের লক্ষ্য।’
এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে
যুব পর্যায়ে নারী ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখার লক্ষ্য বাংলাদেশের। পাশাপাশি,
তরুণ প্রতিভা বিকাশ ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সাফ অনূর্ধ্ব-১৯
নারী চ্যাম্পিয়নশিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিঙ্গেল লিগ ভিত্তিক এই টুর্নামেন্টের
শীর্ষ দুই পয়েন্টধারী দল ফাইনাল খেলবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে
সফল দল বাংলাদেশ। তারা এ পর্যন্ত তিনবার এই আসরের শিরোপা জিতেছে (২০১৮, ২০২১ ও ২০২৪
সালে)। ভারত জিতেছে একবার, সেটা অবশ্য বাংলাদেশের সঙ্গে যুগ্মভাবে, ২০২৪ সালে।
এই
টুর্নামেন্ট উপলক্ষে গত মঙ্গলবার ২৩ জনের দল ঘোষণা করেন বাটলার। জাতীয় দলের হয়ে গত
নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দলের ইয়ারজান ও মুনকি যেমন আছেন, তেমনি থুইনুই মারমা ও
মামনি চাকমার মতো বয়সভিত্তিক পর্যায়ে সাফল্য পাওয়ারা আছেন এই স্কোয়াডে।
বাংলাদেশ
দল : ইয়ারজান বেগম, মেঘলা রানী রায়, ইশিতা ত্রিপুরা,
জয়নব বিবি রিতা, অর্পিতা বিশ্বাস, সুরভী রানী, ক্রানুচিং মারমা, পূজা দাস, প্রতিমা
মুন্দা, সুরভী আক্তার আফরিন, মুনকি আক্তার, শান্তি মার্ডি, বন্যা খাতুন, রূপা আক্তার,
মোমিতা খাতুন, থুইনুই মারমা, মীরা খাতুন, তৃষ্ণা রানী, আলপি আক্তার, মামনি চাকমা, পূর্ণিমা
মারমা, অয়ন্ত বালা মাহাতো ও সৌরভী আকন্দ প্রীতি।
আরকে/প্রবা