রুমেল খান
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:০৪ পিএম
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৭ এএম
সাফ নারী ফুটসাল দলের নতুন চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল
একসময় বাংলাদেশের
নারী ফুটবল নিয়ে বিস্তর হাসাহাসি হতো। কেননা নারী ফুটবলাররা ঠিকমতো ফুটবলে লাথিই মারতে
পারতেন না আর বিদেশি প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে গেলে লজ্জাজনকভাবে কাঁড়ি কাঁড়ি গোল হজম
করত হতো। সেই অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে উত্তরণ ঘটেছে লাল-সবুজ বাহিনীর। তারা সাফ অঞ্চলের
সেরা হয়েছেন, তাও আবার টানা দুবার। তা ছাড়া প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের
চূড়ান্ত পর্বে নামে লিখিয়ে রচনা করেছেন ইতিহাসও। শুধু ফুটবল নয়, ফুটসালেও বাংলার বাঘিনীরা
চমক দেখিয়েছেন। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম
আসরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছেন দেশবাসীকে। সেই দলে খেলেছেন
সাবিনা, লিপি, ঝিলি, কৃষ্ণা, সুমাইয়া, মাসুরা, মেহেনুররা। তারা বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দেশে
ফিরেছেন। তারপর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তাদের হাতিরঝিলে নিয়ে গিয়ে দেয় জমকালো
সংবর্ধনা।
সাবিনারা ঢাকার
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই ছাদখোলা বাসে উদ্যাপন শুরু করে দেন। তাদের যে ছাদখোলা বাসে
বরণ করা হবে, সেটা আগেই জানিয়েছিল বাফুফে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দোতলা বাস সময়মতো
পৌঁছে যায় বিমানবন্দরে। সংবাদমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি অগণিত ভক্ত-সমর্থকও দেখা যায়
বিমানবন্দরে। বাংলাদেশের পতাকা সংবলিত ছাদখোলা বাসে বড় করে লেখা ছিলÑ ‘লাল-সবুজে লেখা
এক বিজয়ের গল্প।’ হলুদ ফুল দিয়ে সাজানো সেই বাসের ছাদে দাঁড়িয়ে ফুটবলাররা শিরোপা উঁচিয়ে
ধরেছেন। ভক্ত-সমর্থকদের দিকে ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়ে উদ্যাপন করেছেন সাবিনারা।
বাসে ওঠার
আগে সাবিনাদের মিষ্টিমুখ করিয়ে, গলায় গাঁদা ফুলের মালা পরিয়ে ও হাতে রজনিগন্ধার স্টিক
তুলে দেন বাফুফে সহসভাপতি ফাহাদ করিম। আর বিমান থেকে সাবিনা নেমে আসেন হাতে চ্যাম্পিয়ন
ট্রফি নিয়ে, সবার করতালির মধ্য দিয়ে। মুখে ছিল সাফল্যের হাসি। মজার ব্যাপার হচ্ছেÑ
মাত্র এক মাসের প্রস্তুতি নিয়ে সাফ নারী ফুটসালে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ! শুধু তাই নয়,
আরও বিস্ময়কর ব্যাপার এই আসরে তাদের অংশ নেওয়ারই কথা ছিল না! কথা ছিল পুরুষ দল অংশ
নেবে।
কিন্তু পরে বাফুফে ঠিক করে মেয়েরাও খেলবে। ফলে তড়িঘড়ি করে দল গঠন করা হয়। পুরুষ
দলের কোচকে অনুরোধ করা হয়, তিনি যেন নারী দলেরও দায়িত্ব নেন। আরও মজার ব্যাপার, পুরুষ
দল পঞ্চম হয়, আর নারী দল হয় চ্যাম্পিয়ন! নারী ফুটবলারদের ছাদখোলা বাসে বরণের ঘটনা এবারই
প্রথম নয়। ২০২২ ও ২০২৪ সালে দুবারই নেপালকে হারিয়ে নারী সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।
সেই দুবার বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে জাঁকজমকপূর্ণ বরণ করা হয়েছিল সাবিনা-ঋতুপর্ণা
চাকমাদের। নারী সাফ ফুটবল সেই দুবারের আয়োজক ছিল নেপাল। 
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চ্যাম্পিয়ন
নারী ফুটসাল দলকে বিমানবন্দর থেকে বিশেষ ছাদখোলা বাসে করে হাতিরঝিল পর্যন্ত নিয়ে আসতে
অনেক সময় লেগে যায়। কেননা প্রায় পুরো রাস্তার দুই ধারে তো বটেই, রাস্তার মাঝেও ভিড়
করে সাবিনাদের এক নজর দেখতে উপস্থিত ছিল হাজারো ফুটবলপ্রেমী। তাদের সরিয়ে সাবিনাদের
বাসকে সামনে এগিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তায় সাবিনাদের সামনে
ও পেছনে সর্বক্ষণ ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হাতিরঝিলের এম্পিথিয়েটারে সাবিনাদের সংর্বধনা
দেওয়া হয়। ছিল বর্ণিল আতবাশির ঝলক। 
সেখানে উপস্থিত
ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও ক্রীড়া সচিব।
অনুষ্ঠান শেষে চ্যাম্পিয়নদের জন্য জলসিড়িতে নৈশভোজের ব্যবস্থা করা হয়। তারপর সাবিনাদের
গুলশানের একটি হোটেলে রাত্রিযাপনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ
ফুটসাল দলের ইরানি কোচ সাঈদ খোদারাহমি বলেন, ‘মেয়েদের জানাই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে
ধন্যবাদ। তারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছে।’ 
অধিনায়ক সাবিনা বলেন, ‘আমরা টুর্নামেন্টে খেলেছি
প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে। দেশবাসীকে অসংখ্য ধন্যবাদ সব সময় আমাদের সমর্থন দেওয়র জন্য।’
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘ফাইনালি আরও একটা ট্রফি আমাদের হলো। এজন্য সাবিনাসহ
পুরো দলকে অশেষ ধন্যবাদ। মাত্র তিন মাসের প্রস্তুতিতে তাদের এই অভাবনীয় সাফল্য। 
সাফ নারী ফুটসাল
টুর্নামেন্টে লিগ পদ্ধতিতে খেলে বাংলাদেশ ৬ ম্যাচে ৫ জয় ও ১ ড্র নিয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে
অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। ভারত ১২ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়। বাংলাদেশ ৩-১ গোলে ভারতকে,
৩-০ গোলে নেপালকে, ৬-৩ গোলে শ্রীলঙ্কাকে, ৯-১ গোলে পাকিস্তানকে ও ১৪-২ গোলে মালদ্বীপকে
হারায়। আর ৩-৩ গোলে ড্র করে ভুটানের সঙ্গে। অধিনায়ক সাবিনা ১৪ গোল করে হন আসরের টপ
গোলস্কোরার। আসরে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৩৮ গোল করে ও সবচেয়ে কম ১০ গোল হজম করে।
আরকে/প্রবা