প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪২ পিএম
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪৩ পিএম
ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের অধীনে এক নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্তপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে এশিয়ার শীর্ষ মঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছে আফঈদা-মনিকারা। আগামী ১ মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ার তিন শহর-সিডনি, পার্থ ও গোল্ডকোস্টে শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার এই আসর।
এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে
নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ দল।
বি-গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের সূচিও বেশ চ্যালেঞ্জিং। ৩ মার্চ সিডনিতে চীনের বিপক্ষে ম্যাচ
দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের অভিযান। একই শহরে ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হবে দল।
এরপর ৯ মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের
(বাফুফে) সহসভাপতি ফাহাদ করিম গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট সামনে রেখে পরিকল্পিত
প্রস্তুতির মধ্যেই এগোচ্ছে দল। বুধবার সকাল থেকেই অনুশীলন শুরু হবে জাতীয় দলের। ১৫
অথবা ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে। তবে সরাসরি অস্ট্রেলিয়া
নয়-প্রথমে থাইল্যান্ডে
গিয়ে এক সপ্তাহের প্রস্তুতি ক্যাম্প করবে দল। এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে সিডনিতে শুরু
হবে মূল ক্যাম্প।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে থাইল্যান্ড ও
অস্ট্রেলিয়া-দুই দেশেই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার এ-লিগের ক্লাব ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে একটি
ক্লোজড ডোর প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ, যা সম্ভাব্যভাবে ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত
হতে পারে। থাইল্যান্ডেও একটি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা চলছে। কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে
দল আগেভাগেই অস্ট্রেলিয়া গিয়ে সেখানে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে।
ফাহাদ করিম জানান, পুরো প্রস্তুতি পরিকল্পনাই
প্রধান কোচ পিটার বাটলারের নির্দেশনা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে, ‘কোন মানের দলের বিপক্ষে
খেলবে, কী ধরনের প্রস্তুতি দরকার-সবকিছুই কোচ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
আমরা শুধু তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি, বলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বকাপ খেলা
ও এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন দেশের লিগে খেলা একটি ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচকে বড় অভিজ্ঞতা হিসেবেই
দেখছে বাফুফে।
এরই মধ্যে ক্যাম্পে যোগ দিতে যাচ্ছেন
একজন প্রবাসী ফুটবলারও। সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী বুধবার থেকেই জাতীয় দলের
ক্যাম্পে যোগ করবেন বলে জানিয়েছেন ফাহাদ। দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় থাকা আনিকা বাংলাদেশ
নারী ফুটবলের দ্বিতীয় প্রবাসী খেলোয়াড় হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। এর আগে জাপান
প্রবাসী মাতসুশিমা সুমাইয়া জাতীয় দলে খেলেছিলেন। পাশাপাশি ঘরোয়া লিগে পারফরম্যান্সের
ভিত্তিতে আরও দু-একজন নতুন খেলোয়াড়কে ক্যাম্পে ডাকার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন
কোচ বাটলার।
সব মিলিয়ে প্রথম এশিয়ান কাপ অভিযানের
আগে পরিকল্পিত প্রস্তুতি, শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ আর নতুন মুখের সংযোজনে আত্মবিশ্বাসী
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ইতিহাসের মঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার এই লড়াইয়ে আফঈদাদের
চোখ এখন অস্ট্রেলিয়ার দিকে।
আরকে/প্রবা