ফরাশগঞ্জকে হারিয়ে শিরোপাজয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল রাজশাহী স্টারসের
রুমেল খান
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১০ পিএম
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:১৮ পিএম
শনিবার (২৪ জানুয়ারি), মাঘের
পড়ন্ত বিকেল। ঢাকার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে
নারী ফুটবল লিগে দিনের তৃতীয় খেলাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। কেননা যে দুই দল মুখোমুখি
হয়, তারা সমান ম্যাচে সমান পয়েন্টধারী। সেই চলমান লিগে যে দু’টি দল এখনও অপরাজিত, তাদেরই
দু’টি দল। বলা হচ্ছে রাজশাহী স্টারস এফসি এবং ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের কথা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ
এই ম্যাচে জেতে উত্তরাঞ্চলের দলটিই। ১-০ গোলে তারা হারায় পুরনো ঢাকার ‘নীলকুঠি’ খ্যাত
দলটিকে। রাজশাহীর জয়সূচক গোলটি করেন আলপি আক্তার।
এছাড়া দিনের অন্যান্য
ম্যাচে বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস ক্লাব ৯-০ গোলে সদ্যপুস্করিণী যুব স্পোর্টস ক্লাবকে
(উন্নতি খাতুন হ্যাটট্রিকসহ করেন ৪ গোল), সিরাজ স্মৃতি সংসদ ৫-০ গোলে নাসরিন স্পোর্টস
একাডেমিকে (সোমা রানী হ্যাটট্রিক করেন), বিকেএসপি ফুটবল ক্লাব ৬-০ গোলে ঢাকা রেঞ্জার্স এফসিকে (রুমা আক্তার হ্যাটট্রিক করেন) এবং বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাব ১০-০ গোলে কাচারিপাড়া একাদশ উন্নয়ন সংস্থাকে (সাবিনা আক্তার রুবি ও মোসাম্মৎ সাগরিকা হ্যাটট্রিক করেন) হারায়। চলতি লিগের প্রথম দল হিসেবে গোল হজমের সেঞ্চুরি করেছে কাচারিপাড়া। তারা খেয়েছে ১০৭ গোল!
শনিবার ৫টি ম্যাচে মোট ৩১টি গোল ও ৫টি হ্যাটট্রিক হয়। আর চলতি লিগে সার্বিক হ্যাটট্রিক সংখ্যা ৩৫টি।

রাজশাহী-ফরাশগঞ্জ
দু’দলই শক্তির নিরিখে সমমানের। উভয় দলেই আছে জাতীয় দলের একাধিক খেলোয়াড় এবং উভয় দলেই
রয়েছে বিদেশি (নেপালি) খেলোয়াড়। 
শনিবারের ম্যাচে
দু’দলই সমানতালে খেলেছে। করেছে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। দু’দলই গোলের একাধিক সুযোগ পেয়েছে।
কিন্তু ফরাশগঞ্জ কেবল একটি ভুল করে বসে, যেটা রাজশাহী করেনি। আর সেই ভুলের মাসুলই তারা
দেয় গোল হজম করে। পরে আপ্রাণ চেষ্টা করেও তারা আর সেই গোলটি শোধ করে খেলায় ফিরতে পারেনি।

ম্যাচের ৩৯ মিনিট।
ফরাশগঞ্জের সীমানায় বল। গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম ব্যাকপাস দিলেন এক সতীর্থ। সেই বল আরেক
সতীর্থ সমীক্ষা ঘিমিরিকে দিতে চাইলেন ইয়ারজান। কিন্তু সমীক্ষার একটু দূরেই দাঁড়িয়ে
থাকা রাজশাহী স্ট্রাইকার আলপি আক্তার সেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। সুযোগ সন্ধানী আলপি
বল নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন। বিপদ বুঝে পেছন থেকে সমীক্ষা এবং সামনে
থেকে ইয়ারজান দ্রুত এগিয়ে যান। কিন্তু তাদের বিন্দুমাত্র কোনো সুযোগ দেননি আলপি। ঠাণ্ডা
মাথায় ডন পায়ের প্লেসিং শটে বল পাঠান জালে (১-০)। সতীর্থদের সঙ্গে মেতে ওঠেন বাঁধভাঙা
উল্লাসে। ইয়ারজান তখন হতাশায় নিজের মাথায় হাত দিয়ে ফেলেছেন। লিগে এটা আলপির ২০তম গোল,
যা সর্বোচ্চ গোলদাতা ফরাশগঞ্জের শামসুন্নাহার জুনিয়রের চেয়ে ২টি কম।
পরের ৫১ মিনিটে
অনেক চেষ্টা করেও সেই গোল আর শোধ করতে পারেনি মারিয়া-তহুরা-মনিকার ফরাশগঞ্জ। খেলা শেষ
হলে হারের বেদনা নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। আর জয়ের অনাবিল চিত্তসুখ নিয়ে মাঠ ছাড়ে রাজশাহী।
৭ ম্যাচের প্রতিটিতেই
জিতে ২১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে রাজশাহী। আর্মিরও সমান
পয়েন্ট। তবে এক ম্যাচ বেশি খেলায় তারা আছে দুইয়ে। ৭ ম্যাচে টো প্রথম হার ফরাশগঞ্জের।
১৮ পয়েন্ট নিয়ে দুই থেকে তিনে নেমে গেল তারা।
শনিবারের জয়ে সিঙ্গেল
লিগভিত্তিক এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করে তুললো রাজশাহী। বাকি তিন
ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না খোয়ালেই প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পাবে তারা।
ম্যাচ শেষে বিজয়ী
দলের আলপির ভাষ্য, ‘এই ভাইটাল ম্যাচে জিততে পেরে অনেক খুশি। এতে করে শিরোপা জয়ের পথে
আরও এগিয়ে গেলাম। আজকের ম্যাচে দুই দলই সমান শক্তির। এমন ম্যাচে আমার গোলে দল জেতায়
অনেক ভালো লাগছে। চেষ্টা করবো এই লিগে টপ স্কোরার হওয়ার।’
বিজিত দলের অধিনায়ক
মারিয়া মান্দা বলেন, ‘আমাদের দুভার্গ্য আজ ম্যাচটা জিততে পারিনি। ফুটবলে এমনটা হতেই
পারে। স্বল্প প্রস্তুতির কারণে আমাদের টিম কম্বিনেশনটা যথাযথ হয়নি। তারপরও পরের ম্যাচগুলোতে
জেতার চেষ্টা করবো।’
আরকে/প্রবা