প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩১ পিএম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪২ পিএম
বিশ্বের
অনেক ফুটবল দেশই নিজেদের শক্তিমত্তা বাড়াতে বাইরের দেশের দক্ষ ফুটবলারদের নাগরিকত্ব
দিয়ে (ফিফার নানা শর্ত মেনে) তাদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করে। বাংলাদেশও চেষ্টা করছে
এই পথে হাঁটার, তবে একটু ভিন্নভাবে। তারা চাইছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত প্রবাসী ফুটবলারদের
জাতীয় দলে নিতে। জাতীয় পুরুষ দলের পথে হাঁটছে জাতীয় নারী ফুটবল দলও।
এক্ষেত্রে
প্রথম প্রবাসী ফুটবলার হলেন মাতসুশিমা সুমাইয়া। ২০২৩ সালে জাপানে জন্ম নেয়া বাংলাদেশী
বংশোদ্ভুত এই ফরোয়ার্ডকে দলভুক্ত করা হয়। এ পর্যন্ত সুমাইয়া খেলেছেন ১০টি ম্যাচ। তিনিই
নারী দলের প্রথম ফুটবলার,যিনি বাংলাদেশের কোন বয়সভিত্তিক দলে খেলেননি। 
এবার
সুমাইয়ার পথ ধরে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন আরেক প্রবাসী ফুটবলার। তিনি আনিকা
রানিয়া সিদ্দিকী। ২০ বছর বয়সী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর জন্ম সুইডেনে। ঢাকায় এসেছেন জাতীয়
নারী ফুটবল দলের ট্রায়ালে অংশ নিতে।
অবশ্য
আনিকা ২০২৩ সালেই একবার বাংলাদেশে এসে ট্রায়াল দিয়ে গিয়েছিলেন। সেবার ভাগ্যের শিঁকে
ছেড়েনি সুইডেনের টপ টায়ার ক্লাবে খেলে ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে নিজেকে পরিচিত
করা আনিকা। ২০২৩ সালে সুইডিশ কাপে বদলি হিসেবে মাঠেও নেমেছিলেন আনিকা। সুইডেনের ক্লাব
ব্রোমপোজকার্না-এর অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন। চলতি মাসে সুইডিশ কাপে ক্লাবটির সিনিয়র
দলের হয়েও তার অভিষেক হয়েছে। এই ফুটবলার মাঝমাঠ ও দুই উইং-উভয়
পজিশনেই খেলতে অভ্যস্ত।
নিজ
উদ্যোগে ও স্ব-খরচে বাংলাদেশে আসা আনিকার পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা নেই, কারণ তার
বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে। আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া ১০ দিনের জাতীয়
ক্যাম্পেই মূলত কোচ পিটার বাটলারের অধীনে পরীক্ষা দিতে হবে তাকে। সেখানে কোচের মন জয়
করতে পারলে সুমাইয়ার পর আবারও কোনো প্রবাসী খেলোয়াড়কে দেখা যাবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল
দলে। বর্তমানে এই ক্যাম্পকে ঘিরেই নিজের সেরাটা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আনিকা।
গত
বুধবার নারী দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আনিকা। সাক্ষাতে নিজের
ইচ্ছার কথা জানান এই ফুটবলার। আনিকার সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে বাটলার সংবাদমাধ্যমকে
বলেন, ‘সে খুবই ইতিবাচক। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলতে চায়। আমরা তাকে দেখবো। অনুশীলনে
কেমন করে, সেটাই
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনুশীলনের আগে কোনও কিছুই বলা যাচ্ছে না।’
বাটলার
আরও বলেন, ‘সে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তাকে দেখে আরও প্রবাসী
ফুটবলার এ দেশে খেলতে আসুক-এটাও সে চায়। এখন দেখা যাক সে নিজেকে প্রমাণ করতে
পারে কিনা। তবে সে খুবই ইতিবাচক।’
দশ
দিনের এই ক্যাম্পে অবশ্য বাটলার সশরীরে উপস্থিত থাকবেন না। আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে
নেপালে শুরু হবে মেয়েদের অনূর্ধ-১৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ওই দলের কোচ হিসেবে নেপালে যাবেন
তিনি। এ সময় ফিটনেস ট্রেনার ক্যামেরুন লর্ডের অধীনে চলবে ক্যাম্প।
বাটলার
নেপাল থেকেই আনিকাকে পর্যবেক্ষণ করবন। আনিকা যদি ভালো করেন, তাহলে ক্যাম্পে স্থায়ীভাবে
থাকবেন এবং এশিয়ান কাপের স্কোয়াডেও সুযোগ পেতে পারেন। সবমিলিয়ে সুমাইয়ার পর জাতীয় দলে
জায়গা করে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ এখন আনিকার সামনে।
আরকে/প্রবা