× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্ব ফুটবলের সোনালী প্রতীক, ঢাকায় চতুর্থবার

রুমেল খান

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২৮ পিএম

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২৯ পিএম

বিশ্ব ফুটবলের সোনালী প্রতীক, ঢাকায় চতুর্থবার

‘এটি কেবল ধাতুর গড়া কোনো মূর্তি নয়/এটি সাহস, বিশ্বাস আর জয়ের অভয়/মেসি-পেলে- ম্যারাডোনার ছায়া/ট্রফির গায়ে আজও জ্বলে তাদের মায়া/হে বিশ্বকাপ, তুমি স্বপ্নের নাম/হার-জিত ছাপিয়ে তুমি মানবতার গান/চার বছরে একবার ফিরে আসো তুমি/ভেঙে দাও সব দেয়াল-এক করো ভূমি।’ এই ক্রীড়াভূবনের ক্রীড়ামঞ্চে সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া হচ্ছে ফুটবল। আর ফুটবলের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক আসর ফিফা বিশ্বকাপ। এই আসরকে বলা হয় ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। ফুটবল বিশ্বকাপের বাকি এখনো কয়েক মাস। তবে তার আগেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়ে গেছে এর উন্মাদনা। সেই স্বপ্নের সোনালি ট্রফি বের হয়েছে বিশ্ব ভ্রমণে। তারই অংশ হিসেবে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকায় এসেছে ট্রফিটি। এবং বুধবার রাতেই ঢাকা ত্যাগ করে ট্রফিটি নিয়ে যাওয়া হয় পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ কোরিয়ার।

সকালে বিশেষ বিমানে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় ট্রফিটি। ‘ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলা’র অংশ হিসেবে আসা ট্রফিটির সঙ্গে আসেন ২০০২ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা।

বিমানবন্দর থেকে ট্রফিটি গ্রহণ করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। কড়া নিরাপত্তায় বিমানবন্দর থেকে ট্রফিটি নিয়ে যাওয়া হয় হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু-তে।

তবে এবার সাধারণ দর্শকদের জন্য ট্রফি উন্মুক্ত ছিল না। গত ২০২২ সালের মতো আর্মি স্টেডিয়ামে কনসার্ট বা বড় কোনও প্রদর্শনীও হয়নি। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংক্ষিপ্ত আয়োজন রাখা হয়। কেবল ক্রীড়া সাংবাদিকরা এবং কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ ক্যাম্পেইনের নির্দিষ্ট বিজয়ীরাই বিকেলে ট্রফি দেখার এবং ছবি তোলার সুযোগ পান।

এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশে এল বিশ্বকাপ ট্রফি। এর আগে ২০০২, ২০১৩ ও ২০২২ সালে এই ঐতিহাসিক ট্রফি দেশের মাটিতে প্রদর্শিত হয়েছিল। বিমানবন্দরেই ট্রফির সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন জামাল ভূঁইয়া। গণমাধ্যমের কাছে আবেগে আপ্লুত জামাল বলেন, ‘সত্যি বলতে অভিজ্ঞতাটা দারুণ ছিল। এটা আমার জীবনে প্রথমবার বিশ্বকাপ ট্রফি সামনে থেকে দেখা। ভেবেছিলাম ট্রফিটা হয়তো একটু ছোট হবে, কিন্তু কাছে এসে বুঝলাম-এটা আসলে অনেক বড়। গিলবার্তো সিলভার মতো একজন কিংবদন্তির সঙ্গে ট্রফিটা দেখা আমার জন্য বিশেষ অনুভূতির।’

রোমাঞ্চিত জামাল জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন খাঁটি স্বর্ণের ট্রফিটির ওজন প্রায় সাত কেজি। জামাল আরও বলেন, ‘এই ট্রফিটি আমার মনে হয়, আরও বড় ধরনের প্রেরণা এনে দেবে। আর এই ট্রফির হাত ধরেই নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিশ্বাস জন্মাতে পারে-হয়তো একদিন বাংলাদেশ নিজেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের একটা অধ্যায় লিখবে।’

জামালের প্রিয় দল ব্রাজিল আর প্রিয় ফুটবলার রোনালদো। ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলারের সতীর্থ ছিলেন গিলবার্তো। এই দল থেকেই অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানান ৩৫ বছর বয়সী ফুটবলার, ‘ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলকে ফলো করি, কারণ আমার প্রথম প্রিয় খেলোয়াড় রোনালদো। বিশেষ করে এখন যেহেতু আমি গিলবার্তোর সামনে কথা বলছি, তাই ২০০২ সালের সেই ব্রাজিল দলটার কথা আলাদা করে বলতেই হয়। সেই দলটা আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে, কারণ তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনহোর সঙ্গে গিলবার্তোও ছিল সেই দলে। ওই দলটাই আমার ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকে আরও গভীর করে তুলেছিল।’

জামাল ভূঁইয়ার জন্ম ডেনমার্কে। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপ ব্রাজিলের আগে তাঁর প্রত্যাশা বেশি জন্মভূমিকে নিয়েই, ‘অবশ্যই আমি চাই ডেনমার্ক জিতুক, কারণ ডেনমার্কই আমার জন্মভূমি। কিন্তু যদি ডেনমার্ক না পারে, তাহলে নিঃসন্দেহে আমি চাই ব্রাজিলের হাতেই ট্রফিটা উঠুক।’

এদিকে বাংলাদেশে পা রেখেই উচ্ছ্বাস লুকাননি ব্রাজিলের হয়ে দুবার বিশ্বকাপ খেলা (৮৯ ম্যাচে ৩ গোলের অধিকারী), ফিফার দূত ও ৪৯ বছর বয়সী গিলবার্তো সিলভা, ‘বিশ্বকাপ ট্রফির এই উপস্থিতি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে আরও বেশি করে আগ্রহী করে তুলবে। ফুটবল এমন একটি খেলা, যেটিকে তারা সত্যিই ভালোবাসেন এবং এই ভালোবাসাই আগামী দিনের ফুটবলারদের এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

২০০৬ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে ট্রফিটি বিশ্বভ্রমণে বের হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি ট্যুর শুরু হয়েছে এ বছরের ৩ জানুয়ারি, সৌদি আরব থেকে। বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরে এবার তা ঢাকায়। ১৫০ দিনের এই দীর্ঘ সফর শেষ হবে মেক্সিকোর বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়ামে, যেখানে ১২ জুন বসবে আগামী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসর। গত ২০ বছরে প্রায় ৪০ লাখ ফুটবলভক্ত ট্রফি ট্যুরে অংশ নিয়ে বিশ্বকাপ দর্শন করেছেন।

আসল ট্রফিই থাকে এই বিশ্বভ্রমণে। ১৮ ক্যারেট নিখাদ সোনায় তৈরি ট্রফিটিই বিশ্বকাপজয়ী দলকে শুরুতে দেওয়া হয়। তবে ট্রফিটি সব সময় ফিফার তত্ত্বাবধানেই থাকে। বিশ্বকাপজয়ী দলকে পরে স্থায়ীভাবে দেওয়া হয় সোনার প্রলেপ দেওয়া রেপ্লিকা ট্রফি। এবার বাংলাদেশসহ ৩০টি দেশের ৭৫টি স্থানে প্রদর্শিত হবে বিশ্বকাপ ট্রফি।

বিশেষ বিমানে চড়েই বিশ্বভ্রমণে বের হয়েছে বিশ্বকাপ ট্রফি। ফিফার নির্বাচন করা ফুটবল কিংবদন্তিরা সঙ্গী হিসেবে থাকেন ট্রফির সঙ্গে। বিশ্বকাপ ট্রফি স্পর্শ করার সুযোগ সবার নেই। শুধু বিশ্বকাপজয়ীরা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও ফিফা সভাপতিই আসল বিশ্বকাপ ট্রফি স্পর্শ করতে পারেন।

সৌদি আরবে শুরু হওয়া ট্রফি ট্যুর এরপর মিসর, তুরস্ক, অস্ট্রিয়া হয়ে গেছে ভারতে। ভারত থেকেই ট্রফিটি বাংলাদেশে আসে। বাংলাদেশ থেকে যায় দক্ষিণ কোরিয়ায়। এরপর জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরিকোস্ট, মরক্কো, পর্তুগাল, স্পেন, আলজেরিয়া, ফ্রান্স, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যাবে। কানাডা থেকে আবার যুক্তরাষ্ট্র হয়ে মেক্সিকোতে গিয়ে শেষ হবে সফর।

আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের জন্য কিছু বাধ্যবাধকতাও দেওয়া হয়। যেমন : ক্যাম্পেইনে বিজয়ীদের বৈধ টিকেটের প্রিন্ট বা সফট কপি অথবা স্ক্রিনশট দেখাতে হয়, কোনো অবস্থাতেই ট্রফি স্পর্শ করা যাবে না, ৭/১০ ইঞ্চির চেয়ে বড় ব্যাকপ্যাক বহন করা যাবে না, ভেন্যুতে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কোনোভাবেই টিকিট হস্তান্তর, পুনরায় ব্যবহার বা শেয়ার করা যাবে না, ধারালো বা নিষিদ্ধ সামগ্রী বহন করা যাবে না, এ ছাড়া কোনো দেশ বা ফুটবল দলের পতাকাও সঙ্গে আনা যাবে না।

এবারের আসর হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্ট (২৩তম) হবে তিনটি দেশে-যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়। আগামী ১১ জুন আসর শুরু হয়ে শেষ হবে ১৯ জুলাই, এতে অংশ নেবে রেকর্ড ৪৮টি দেশ।

আরকে/প্রবা 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা