প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:০৪ এএম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:০৬ এএম
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক
ফুটবলার গোলাম দস্তগীর নীরা আর নেই। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে খুলনায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে
শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে সাবেক এই ডিফেন্ডারের বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।
নীরার আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের ফুটবলাঙ্গনে গভীর শোক নেমেছে।
ফুটবলাঙ্গনে সজ্জন ব্যক্তি
হিসেবেই পরিচিত ছিলেন নীরা। সব সময় হাসিমুখে থাকতেন। বিশেষ করে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতেন
সবাইকে। ফুটবলার ও কোচদের পাশাপাশি ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গেও ছিল তার দারুণ সখ্যতা।
তাই নীরার মৃত্যুতে সবাই অত্যন্ত শোকাহত ও আবেগপ্রবণ। মৃত্যুকালে তিনি আত্মীয়-স্বজনসহ
অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। 
খুলনার সন্তান নীরা বাংলাদেশের
হয়ে ১৯৯০ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চারটি ম্যাচ খেলেছেন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার হিসেবে। বাংলাদেশ
সবুজ দলের হয়ে খেলেছেন ঘরের মাটিতে খেলেছেন প্রেসিডেন্ট কাপ। দেশের দুই জনপ্রিয় ক্লাব
আবাহনী ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে খেলেছেন।।
প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপসহ একাধিক টুর্নামেন্টে
দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
খেলা ছাড়ার পর কোচিং ক্যারিয়ারে মনোনিবেশ করেন তিনি। স্থানীয়
ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে ছিলেন।
এই সময়ে নীরা তার অভিজ্ঞতা ও দীক্ষা দিয়ে
অনেক নবীন খেলোয়াড়কে গড়ে তুলেছেন।
প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব মুক্তিযোদ্ধার হয়ে কয়েক বছর
কোচিং করিয়েছেন নীরা। গত কয়েক বছর তিনি নিজ জেলা খুলনাতে নিভৃতে তৃণমূলে কাজ করছিলেন।
নীরার আকস্মিক মৃত্যুতে বাফুফে ও দেশের ফুটবল সংশ্লিষ্টরা শোক প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা তাকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
সহকর্মীরা
বলেছেন, নীরা ফুটবলাঙ্গনে একটি অনন্য পরিচয় ও ব্যক্তিত্ব রেখে গেছেন। তার শৃঙ্খলাপূর্ণ
জীবন ও সততার দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে।
নীরার মৃত্যুতে কিংবদন্তি ফুটবলার
শেখ মো. আসলাম বলেন, ‘আবাহনী ও জাতীয় দলে নীরা আমার সতীর্থ ছিল। দুর্দান্ত লেফটব্যাক
হওয়ার পাশাপাশি আমার সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়া ছিল। তার দেওয়া পাস থেকে অনেক গোল করেছি আমি।
তার মৃত্যুর খবর শোনার পর আমার হৃদয় ভারী। তার সঙ্গে প্রচুর স্মৃতি রয়েছে আমার।’
আরকে/প্রবা