প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৫৯ পিএম
ব্র্যাক
ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকি টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। তারা জোন-২ এর দল। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ঢাকার পল্টনের মওলানা
হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একতরফা ফাইনালে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ নিয়ে গড়া জোন-২ কে ৮-০
গোলে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে বিকেএসপির মেয়েরা। 
এই
টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বের খেলা দেশের চারটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়। চার ভেন্যুর চ্যাম্পিয়ন
দল ও বিকেএসপিসহ মোট ৫ দল নিয়ে চূড়ান্ত পর্বের খেলা গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় ঢাকায়।
চূড়ান্ত পর্ব প্রতি জোনের দুইটি বিভাগ নিয়ে গঠিত হয় একটি করে দল। 
এদিন
ফাইনালে বিকেএসপির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ঢাকা-ময়মনসিংহের মেয়েরা। প্রথম কোয়ার্টারে
তিন গোল হজমের পর দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আরও দুই গোল এবং শেষ দুই কোয়ার্টারে আরও তিন গোল
হজম করে বড় ব্যবধানে বিকেএসপির কাছে হার মানে জোন-২। 
প্রতিযোগিতার
সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার জেতেন বিকেএসপির অধিনায়ক অর্পিতা পাল। তিনি মোট ২২টি গোল করেন।
প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্টও হয়েছেন বিকেএসপির আরেক খেলোয়াড় আইরিন আক্তার রিয়া। প্রতিযোগিতার
সেরা গোলকিপারের খেতাব জুটেছে রাজশাহীর মোছাম্মৎ মহুয়ার ভাগ্যে। এছাড়া রাইজিং স্টারের
(উদীয়মান তারকা) পুরস্কার লাভ করেন কিশোরগঞ্জ জেলার খেলোয়াড় অপূর্বা।
পৌষের
কনকনে বিকেল। ফাইনালে মুখোমুখি বিকেএসপি বনাম ঢাকা-ময়মনসিংহ। আগেই অনুমেয় ছিল শিরোপাটা
কার হাতে উঠতে যাচ্ছে। হ্যাঁ, বিকেএসপিই যে চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছেÑ এ নিয়ে কারোর মধ্যে
কোনো সংশয় ছিল না। শুধু প্রশ্ন ছিল কত গোলের ব্যবধানে জিতবে তারা। ম্যাচ শেষে উত্তরটা
জানা হয়ে যায় সবার। বিজয়ী দল প্রথম কোয়ার্টারে করে ৩ গোল। এরপর দ্বিতীয় কোয়ার্টারে
করে ২ গোল। তৃতীয় ও চতুর্থ বা চূড়ান্ত কোয়ার্টারে করে যথাক্রমে ২ ও ১ গোল করে। বলতে
গেলে নিয়মিত বিরতিতেই একের পর এক গোল করে গেছে বিকেএসপি।
ম্যাচে
৭ মিনিটে গোলের ‘হালখাতা’ খোলে বিকেএসপি। পেনাল্টি কর্নার (পিসি) পায় তারা। আর তা থেকে
লক্ষ্যভেদ করে দলকে এগিয়ে নেন অর্পিতা পাল (১-০)। ৪ মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে
বিকেএসপি। কণা আক্তার ফিল্ড গোল করেন (২-০)। ১৪ মিনিটে আবারও গোলের সন্ধান পায় সাভারের
জিরানির বিকেএসপি। অর্পিতা করেন ফিল্ড গোল (৩-০)। এরপর কিছুক্ষণ আরে গোলের দেখা নেই।
২৬ মিনিটে আবারও গোলের স্বাদ পায় বিকেএসপি। পিসি গোল করেন নিনি সেন রাখাইন (৪-০)। এর
৩ মিনিট পরেই আবারও গোল, এবারের গোলটি আসে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে, যা আসে তন্নী খাতুনের স্টিক থেকে (৫-০)।
এরপর
শুরু হয় কণা খাতুনের ঝলক। ৩৫ ও ৩৭ মিনিটে পর পর দুটি গোল করে দলের স্কোরলাইন ৭-০ করার
পাশাপাশি নিজের হ্যাটট্রিকও পূরণ করে ফেলেন তিনি। এরপর খেলা শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে
(৫৫ মিনিটে) কণা আরেকটি গোল করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৮-০। ততক্ষণে প্রতিপক্ষ দলের অবস্থা
যেন ‘ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি!’
শেষ পর্যন্ত ওই স্কোরলাইনেই খেলা শেষ হলে শিরোপাজয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে মওদুদুর রহমান শুভর (যার কোচিং জাতীয় পুরুষ যুব হকি দল প্রথমবারের মতো অনুর্ধ-২১ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল) সুযোগ্য শিষ্যারা।
আরকে/প্রবা