প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৫৬ পিএম
আগামী ১৩-২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সাফ নারী
ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হবে। এই আসরে অংশ নিয়ে ইতিবাচক ফল করতে
চায় বাংলাদেশ দল। সেই লক্ষ্যে কাল শুক্রবার তারা বিমানযোগে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক যাচ্ছে।
একই স্থানে পুরুষ আসর শুরু হবে ১৪ জানুয়ারি থেকে, যাতে অংশ নেবে পুরুষ দলও। ফলে পুরুষ
দলও আজই দেশ ছাড়বে। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের অধিনায়ক
সাবিনা খাতুন ভালো ফল করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এই আসরে অংশ নিচ্ছে সাতটি দেশ। অন্য
দেশগুলো হলো : ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ প্রথম
ম্যাচ খেলবে ভারতের বিপক্ষে। এরপর ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান এবং সবশেষ মালদ্বীপের
বিপক্ষে খেলবে লাল-সবুজ বাহিনী।
বাফুফে ভবনে সাবিনা বলেছেন, ‘ফুটসালের
প্রতি আমার আলাদা একটা সফটনেস আছে। বাংলাদেশের প্রথম কোনও নারী ফুটবলার বিদেশের মাটিতে
খেলেছিল, সেটা হচ্ছি আমি এবং তখন ফুটসাল খেলতেই গিয়েছিলাম। সাফে দেশকে রিপ্রেজেন্ট
করতে পারি, একটা ভালো পজিশনে নিয়ে যেতে পারি, নেক্সট জেনারেশন যারা আসবে তাদের জন্য
একটু সহজ হবে।’
ব্যাংককে আগে গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচও
খেলবে বাংলাদেশ। সাফ ফুটসালে ফল নিয়ে সাবিনার ভাষ্য, ‘আসলে কোনও টিমের সম্পর্কে আমাদের
কোনও ধারণা নেই। তবে মালদ্বীপকে যদি দেখেন, নিশ্চিত করে বলতে পারি যে ওরা বেশ অভিজ্ঞ
এবং ওখানকার মেয়েরা মূলত ফুটসালই খেলে। আমাদের চেয়ে মালদ্বীপ এগিয়ে থাকবে এবং ইন্ডিয়া
বেশ কিছু কোয়ালিফায়ার্স খেলছে ফুটসালে, তারা অবশ্যই সবসময় শক্তিশালী হয় এবং ওদের পরিকল্পনা
সবসময় আগের থেকেই থাকে। বাকি টিমগুলো যারা আছে তারা আমাদের মতোই নতুন। তবে এক মাসের
একটু বেশি সময় অনুশীলন করেছি। সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয় যে আমরা ভালো কিছু
করবো।’
সাবিনার সতীর্থ মাতসুশিমা সুমাইয়া বলেন,
‘এখন আমরা সাফে যাচ্ছি। তবে একটি বড় অনুরোধ আছে—আমাদের একটি
ফুটসাল স্টেডিয়াম প্রয়োজন। এখন দুটি ন্যাশনাল টিম (নারী ও পুরুষ) প্রস্তুত হচ্ছে, কিন্তু
ঢাকায় কিছু স্টেডিয়াম থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন ট্রেনিং করতে পারছি না, সেটি আমার কাছে
বড় প্রশ্ন।’
২০১৮ সালে বাংলাদেশ নারী দল থাইল্যান্ডে
এশিয়ান ফুটসালের বাছাই খেলেছিল। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন সাবিনা খাতুন। সাত বছর পরও
তিনি। দুই দলের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে সাবিনা বলেন, ‘অবশ্যই আগের চেয়ে ভালো। আমাদের এই
দল এক মাসের বেশি অনুশীলন করেছে। ভালো মানের কোচ রয়েছে। আমাদের ফুটসাল জ্ঞানও বেড়েছে।
দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যেন ভালো করতে পারি।’
বাংলাদেশ টানা দুই বার নারী সাফে চ্যাম্পিয়ন।
ফুটসালেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে সাবিনা বলেন, ‘আমরা
ফুটসালেও ইতিহাস করতে চাই। হয় এই বছর, না হয় পরের বছর, বা এর পরে, আমরা ইতিহাস করতে
চাই।’
নারী দলের অধিনায়কের মতো অত দৃঢ় না
হলেও পুরুষ দলের সহঅধিনায়ক মো. তুহিন বলেন, ‘আমরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি।
ভালো ফলাফল নিয়েই ফিরতে চাই।’
পুরুষ ও নারী ফুটসাল দলের ইরানি কোচ
সাঈদ খোদারাহমি বলেন, ‘এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের আগের চেয়ে এখন প্রস্তুতি আরও ভালো। আমি
আশাবাদী বাংলাদেশ সাফে ভালো কিছু করবে। দুই দলই সমানভাবে প্রস্তত।’
আরকে/প্রবা