প্রবা স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২১ পিএম
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২২ পিএম
এক সময় ব্যাট হাতে যিনি অস্ট্রেলিয়ার অজেয়তার প্রতীক ছিলেন, আজ তিনি লড়ছেন জীবনের সবচেয়ে কঠিন ইনিংস। মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক বিশ্বকাপজয়ী তারকা ক্রিকেটার ড্যামিয়েন মার্টিন। বক্সিং ডেতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কুইন্সল্যান্ডের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ৫৪ বছর বয়সী এই সাবেক ব্যাটসম্যানকে রাখা হয়েছে কৃত্রিম কোমায়।
মার্টিনের শারীরিক অবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত
করেছে ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার অসুস্থতার
খবর প্রকাশ্যে আসার পরপরই ক্রিকেট দুনিয়ায় নেমে আসে উৎকণ্ঠা ও শোকের ছায়া।
সাবেক সতীর্থদের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে
প্রার্থনা আর আশার বার্তা। ড্যারেন লেহম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন,
‘মার্টিন ও তার পরিবারের জন্য অনেক ভালোবাসা ও প্রার্থনা। শক্ত থাকো, লড়াই চালিয়ে যাও—কিংবদন্তি।’
মার্টিনের পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও
সাবেক অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে মার্টিন
সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা পাচ্ছেন। তার ভাষায়, ‘অ্যামান্ডা (মার্টিনের স্ত্রী) ও পরিবার
জানেন—সারা বিশ্বের
মানুষ ড্যামিয়েনের জন্য প্রার্থনা করছে।’
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী
টড গ্রিনবার্গও এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন গভীর উদ্বেগের কথা। তিনি বলেন, ‘ড্যামিয়েন মার্টিনের
অসুস্থতার খবর আমাদের হৃদয় ভারী করেছে। এই সংকটময় সময়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও পুরো
ক্রিকেট সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তার প্রতি আন্তরিক শুভকামনা।’
১৯৯২ থেকে ২০০৬—এই দীর্ঘ সময়জুড়ে
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ব্যাটিংয়ের এক নির্ভরতার নাম ছিলেন ড্যামিয়েন মার্টিন। ৬৭টি টেস্টে
৪৪০৬ রান, গড় ৪৬.৩৭, সঙ্গে ১৩টি সেঞ্চুরি—সংখ্যার বাইরে
তার আসল পরিচয় ছিল বড় মঞ্চে শান্ত ও দৃঢ় উপস্থিতি। ছয় বছর বিরতির পর ২০০০ সালে জাতীয়
দলে ফিরে স্টিভ ওয়াহর নেতৃত্বাধীন অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়া দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে
ওঠেন তিনি।
২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে
ভারতের বিপক্ষে তার অপরাজিত ৮৮ রানের ইনিংস আজও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের স্মরণীয় অধ্যায়।
অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে ২৩৪ রানের সেই জুটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে
লেখা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৪০.৮০ গড়ে তার সংগ্রহ ৫৩৪৬ রান।
২০০৬ সালের অ্যাশেজ চলাকালেই আন্তর্জাতিক
ক্রিকেটকে বিদায় জানান মার্টিন। খেলোয়াড়ি জীবনের পর কিছুদিন ধারাভাষ্যে কাজ করলেও ধীরে
ধীরে তিনি চলে যান নীরব, আড়ালের জীবনে। বড়দিনের আগের দিনই আসন্ন বক্সিং ডে টেস্ট নিয়ে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি পোস্ট—আজ যেন আরও
বেশি করে হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে।
এখন ব্যাট বা বল নয়, প্রার্থনাই তার
সবচেয়ে বড় শক্তি। গোটা ক্রিকেট বিশ্ব তাকিয়ে আছে একটাই প্রত্যাশায়—ড্যামিয়েন
মার্টিন যেন এই কঠিন ম্যাচেও জয়ী হয়ে ফেরেন।
আরকে/প্রবা