প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৩৮ পিএম
মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ছবি: সংগৃহীত
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ক্রীড়াঙ্গনও এর বাইরে নয়, এই নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিসিবি ও বাফুফে আজকের সব ম্যাচ স্থগিত করেছে। মঙ্গলবার সিলেটে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে খালেদা জিয়ার সাথে নিজের স্মরণীয় কিছু মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সেখানে খালেদা জিয়াকে নিয়ে করা সাকিব-মাশরাফিদের পোস্ট নিয়ে বিসিবি প্রধান বলেছেন, ‘এখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কিছু নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। আমরা সবাই শোকাহত।’
বুলবুল বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আছে, সবসময় সব সরকারই পুরোপুরি সমর্থন করেছিল। ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ বাংলাদেশে হয়েছিল। অনেকগুলো ভেন্যু হয়েছিল। খেলোয়াড় ছিলাম আমি তখন, যতটা সহযোগিতা পাওয়ার আমি পেয়েছিলাম।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের কথোপকথনের স্মৃতি উল্লেখ করে বুলবুল আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে দুবার কথা হয়েছে। একবার যখন মেডেল পেয়েছিলাম। তখন আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। আরেকবার আইসিসি ট্রফির ওই সংবর্ধনার পর আমাদের ডিনারে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে খেলাধুলা নিয়ে কথা হয়েছিল।’
বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফিতে যখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, তখন আমাদের কয়েকটা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। যার একটা অংশ হিসেবে তৎকালীন বিএনপি একটা সংবর্ধনা দিয়েছিল মিন্টু রোডে। আমি তখন সহ-অধিনায়ক ছিলাম। ডায়াসে উঠে বক্তৃতা দেওয়ার এক পর্যায়ে একটা ভুল বক্তব্য দিয়েছিলাম, তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, আমি বলেছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বলার পর পুরো স্টেজ চুপ হয়ে ছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভুল স্বীকার করে বলেছিলাম প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। আইসিসি ট্রফির যতগুলো অনুষ্ঠান ছিল, ওটাই ছিল আমার শেষ অনুষ্ঠান।’
খালেদা জিয়ার কাছ থেকে জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার পাওয়ার কথা উল্লেখ করে বুলবুল বলেন, ‘ক্রিকেটে সার্কের যেসব ইভেন্ট হত, সেখানে আমরা ভালো খেললে তিনি আমাদের অফিসে দাওয়াত দিতেন। জীবনের সবচেয়ে বড় যে পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় পুরস্কার, সেটা আমার গলায় তিনি পরিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা সকলেই তার বিদায়ে শোকাহত। আল্লাহ তার আত্মাকে শান্তি দিক, তাকে বেহেশত নসিব করুক। তার পরিবার-পরিজনকে এই শোক বহনের ক্ষমতা দেন।’