বাংলাদেশ ফুটবল লিগ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:১০ পিএম
প্রায় তিন দশক পর ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত
পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাব আবার ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে ফিরেছে। ঘরোয়া ফুটবলে তাদের
পরিচিত নাম পিডব্লিউডি (পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট, বাংলায় গণপূর্ত অধিদপ্তর দল)।
লিগের শীর্ষস্তরে ফিরেই চমকে দিয়েছিল তারা। প্রথম ম্যাচেই শক্তিধর বসুন্ধরা কিংসের
সঙ্গে ড্র করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় তারা। শুক্রবারও (১৯ ডিসেম্বর) তারা আরেকটি তাক লাগানো
কর্ম করেছে। সেটি প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ ৬ বারের শিরোপাধারী ঢাকা আবাহনী লিমিটেডকে
রুখে দিয়ে। কুমিল্লায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে তারা ২-২ গোলে ড্র করে আবাহনীর
সঙ্গে। এই ড্রয়ে আবাহনী সাত ম্যাচে ৯ পয়েন্টে চার ও সমানসংখ্যক ম্যাচে পিডব্লিউডি ৭
পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে অবস্থান করছে। 
আবাহনী ও পিডব্লিউডি ম্যাচ যেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ
হয়েছে, তেমনি মুন্সীগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে
রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন ম্যাচও ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর।
৮২ মিনিট পর্যন্ত ব্রাদার্স ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। শেষ কয়েক মিনিটে রহমতগঞ্জ তিন গোল
দিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে জিতে যায় ৩-২ গোলে। এই জয়ে রহমতগঞ্জ ৭ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট
নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিন থেকে দুইয়ে উঠে এল। আর সমান ম্যাচে ব্রাদার্স ৭ পয়েন্টে নেমে
গেছে আটে (১০ দলের মধ্যে)।
কুমিল্লা হচ্ছে আবাহনীর হোম ভেন্যু।
নিজেদের ভেন্যুতেই প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ে তারা। ১০ মিনিটে গোল করে পিডব্লিউডিকে এগিয়ে
দেন মিনহাজুল করিম স্বাধীন। ৫৩ মিনিটে আবাহনী সমতা আনে। আবাহনীর আক্রমণ বক্সের সামনে
এসে প্রতিহত করতে আসেন পিডব্লিউডি গোলরক্ষক। তিনি বলের নাগাল পাওয়ার আগেই আবাহনী ফরোয়ার্ড
আল আমিন দারুণ দক্ষতায় বল জালে পাঠিয়ে খেলায় সমতা আনেন। ৭৪ মিনিটে আবাহনীকে লিড এনে
দেন শেখ মোরসালিন। অসাধারণ গতি ও জোরালো শটে গোলটি করেন মোরসালিন। যখনই মনে হচ্ছিল
আবাহনী জিততে যাচ্ছে, তখনই খেলার সংযুক্তি সময়ে (৯০+৬ মিনিটে) ঘটে অঘটন। ইনজুরি সময়ের
শেষ মুহূর্তে আবু সাঈদ গোল করলে সমতায় ফেরে পিডব্লিউডি। এরপর রেফারি কেলা শেষের বাঁশি
বাজালে হারসম ড্রয়ের বেদনা নিয়ে আবাহনী এবং জয়সম ড্রয়ের জিত্তসুখ নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিডব্লিউডি।
মুন্সীগঞ্জের ম্যাচে ব্রাদার্স ১৫ মিনিটে ম্যাচে লিড নেয় সিলভার গোলে। নাইজেরিয়ান দিদিয়ের গোলে ৭৫ মিনিটে তাদের লিড আরও বাড়ে। কর্নার থেকে গোল করেন দিদিয়ের। ব্রাদার্স যখন জয়ের অপেক্ষায়, তখনই রহমতগঞ্জ খেলায় ফেরে। ৮১ মিনিটে নিজেদের বক্সে ফাউল করে রহমতগঞ্জকে পেনাল্টি দেয় ব্রাদার্স। সলোমন পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি। মিনিট ছয়েক পর থ্রো-ইন থেকে হেডে গোল করে সমতা আনেন আবারও সেই সলোমন। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে আদু গোল করলে রহমতগঞ্জ ডাগআউটে উল্লাসে মাতে। হারের অপেক্ষায় থাকা ম্যাচ থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়ায় বড় উৎসবের উপলক্ষ্যে পরিণত হয়।
আরকে/প্রবা