থ্রো থেকে সরাসরি গোল, ব্রাদার্সের পেনাল্টি মিস, আরামবাগের প্রথম জয়
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৫৭ পিএম
বাংলাদেশ ফুটবল লিগে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দেশের
তিন ভেন্যুতে তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি ম্যাচেই জয়-পরাজয়ের নিষ্পত্তি হয়েছে।
মোট গোল হয়েছে ৫টি। বসুন্ধরা কিংস এ্যারেনায় বসুন্ধরা কিংস ২-০ গোলে হারায় মোহামেডান
স্পোর্টিং ক্লাবকে। মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ-তপন স্টেডিয়ামে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ২-০
গোলে হারিয়েছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। এছাড়া মুন্সীগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট
মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফর্টিস
এফসি।
এ জয়ে বসুন্ধরার অপরাজিত যাত্রা চলছেই।
ড্রয়ে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের এবারের মৌসুম করা কিংস টানা পাঁচ জয় পেয়েছে। পাঁচে পাঁচ
করে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান মজবুত করেছে তারা। ১১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে থাকা ফর্টিসের
বিপরীতে ১৬ পয়েন্ট কিংসের। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে রহমতগঞ্জ। ৭ পয়েন্ট
নিয়ে মোহামেডান চারে, সমান পয়েন্ট নিয়ে ব্রাদার্স আছে পাঁচে। আর মাত ৪ পয়েন্ট নিয়ে
আরামবাগ আছে দশে (তলানিতে)। 
হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে আরো একটি
ধাক্কা খায়ে মোহামেডান। কেননা যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন তাদের মিডফিল্ডার
মোজাফফরভ। সোহেল রানাকে হাত দিয়ে আঘাত করে এই শাস্তি পান তিনি। শাস্তি দেওয়ায় রেফারির
দিকে বেশ কবার তেড়ে যান তিনি। সতীর্থরা পরে উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডারকে আটকান।
ম্যাচের ১৫ মিনিটে লিড নেয় বসুন্ধরা।
বাঁ-প্রান্ত থেকে ফাহিমের দারুণ এক ক্রস থেকে মোহামেডানের ডি বক্সে ফাঁকায় দাঁড়ানো
রাকিব শুধু ডান পায়ে জালের পথ দেখিয়ে দেন। পরে ঠিকই জাল খুঁজে নেয় বল। দ্বিতীয় গোল
করে দলের জয় নিশ্চিত করেন ডরিয়েলটন (৯০+১ মিনিটে)।
মৌসুমের শুরু থেকেই বাংলাদেশ ফুটবল
লিগে ঘটছে একের পর এক বিতর্কিত ঘটনা। আরামবাগ-ব্রাদার্স ম্যাচ অদ্ভুতুড়ে এক দৃশ্যই
দেখা গেল। সরাসরি থ্রো থেকে গোল! অথচ ফুটবলের নিয়মে এমনটা কোথাও লেখা নেই। ব্রাদার্সকে
২-০ গোলে হারিয়েছে আরামবাগ। লিগে জয়খরা কাটিয়ে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে তারা। ৩২ মিনিটে
কাজী রাহাদ মিয়ার লং থ্রো সরাসরি খুঁজে নেয় জাল। যদিও মোহাম্মদ শাওনের দাবি বল তাঁর
গায়ে লেগে এরপর জালে প্রবেশ করেছে। কিন্তু গোলদাতার তালিকায় রাহাদ মিয়ারই নাম উঠেছে।
অথচ নিয়ম অনুযায়ী, ব্রাদার্সের গোলকিক পাওয়ার কথা ছিল।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয়
মিনিটে আবারও উচ্ছ্বাসে মাতে আরামবাগ। এবারও গোলের উৎস লং থ্রো। রাহাদের থ্রো ব্রাদার্স
ইশাক আলী ফেরানোর চেষ্টা করলেও বল তাঁর হাতে লেগে আশ্রয় নেয় জালে। নিয়ম অনুযায়ী, তা
আত্মঘাতী গোল হওয়ার কথা। কিন্তু তা যোগ হয়েছে রাহাদের নামে। বাফুফের দেওয়া ম্যাচ রিপোর্টে
এমনই দেওয়া আছে। সেখানে স্বাক্ষর আছে ম্যাচ রেফারি আনিসুর রহমান সাগর ও এস এম সাদাত
হোসেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের
আইনের ১৫ তম ধারা অনুযায়ী, সরাসরি থ্রো থেকে গোল করা সম্ভব নয়। থ্রো থেকে বল যদি প্রতিপক্ষের
জালে প্রবেশ করে তাহলে গোলকিক দেওয়া হবে। আর বল যদি নিজেদের জালে প্রবেশ করে তখন কর্নার
কিক পাবে প্রতিপক্ষ। অথচ ব্রাদার্সের বিপক্ষে আরামবাগের দুটি গোলই লেখা হয় থ্রো নেওয়া
রাহাদের নামে।
মুন্সীগঞ্জের ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন ফর্টিসের ওনিয়েকাচি ওকাফোর।
আরকে/প্রবা